শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

সংখ্যালঘু বৃত্তি জালিয়াতি­ বিস্তারিত এফিডেভিট জমা দিতে নির্দেশ ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের



পুবের কলম প্রতিবেদকঃসংখ্যালঘু প্রাক্-ম্যাট্রিক বৃত্তি নিয়ে জালিয়াতির ঘটনায় ঝাড়খণ্ড হাইকোর্ট রাজ্যকে ‘বিস্তারিত এফিডেভিট’ জমা দিতে নির্দেশ দিল। রাঁচির এক আইনজীবী মুহম্মদ শাদাব আনসারি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রবি রঞ্জনকে চিঠি দিয়েছিলেন। একটি জাতীয় দৈনিকের তদন্তের ফলে উঠে আসা তথ্যকে সুয়ো মোটো কগনিজেন্স হিসাবে দেখার আবেদন করা হয়। এই চিঠি পাঠানোর পর আদালত বিষয়টিকে তালিকাবদ্ধ করেছিল। সেই তদন্তে উঠে এসেছিল সংখ্যালঘু প্রি-ম্যাট্রিক পড়ুয়াদের বৃত্তির টাকা কীভাবে দালাল,ব্যাঙ্ক কর্ম, স্কুল কর্মচারী ও সরকারি আধিকারিকরা মিলে তছরুপ করেছেন। আধার কার্ড, আঙুলের ছাপ ও স্কুলের দ্বারা যাচাই করার মতো পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও নয়ছয় হয়েছে বৃত্তির টাকা। ন্যাশনাল স্কলারশিপ পোর্টাল ও পাবলিক ফিনান্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমকে খতিয়ে দেখে জানা গিয়েছে যে কীভাবে দুর্নীতির মাধ্যমে দরিদ্র সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি রবি রঞ্জন ও সুজিত নারায়ণ প্রসাদের বেঞ্চ বলেছে, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে বিস্তারিত রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে টাকা জালিয়াতির বিষয়ে। বিচারপতি রবি রঞ্জন এই ব্যাপারে ‘বিস্তারিত এফিডেভিট’ চেয়েছেন। ঝাড়খণ্ডের অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজীব রঞ্জন জানিয়েছেন যে, তিনি এফিডেভিট জমা করিয়ে নেবেন। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৮ ডিসেম্বর। প্রসঙ্গত, এই জালিয়াতি শুধু ঝাড়খণ্ডে হয়নি। হয়েছে বিহার, পঞ্জাব ও অসমে। কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক এই বৃত্তিটি পরিচালনা করে। এই মন্ত্রক সিবিআই তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বিহারের গয়ায় পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছে এবং অসমের সিআইডি ২৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। এই গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন চারজন প্রধানশিক্ষক, একজন শিক্ষক, সিএসপি অপারেটর। এঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির চার্জ রয়েছে। ঝাড়খণ্ডে ২০১৯-২০ সালের বৃত্তির ৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ধানবাদ জেলা প্রশাসন ১০৫জনের বিরুদ্ধে ১১টি এফআইআর দায়ের করেছে। এঁদের মধ্যে রয়েছেন দালাল ও স্থানীয় সরকারি আধিকারিকরা। এই প্রাক্-ম্যাট্রিক বৃত্তি চালু হয়েছিল ২০০৮ সালে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায় যেমন মুসলিম,খ্রিস্টান,শিখ,পার্সি,জৈন ও বৌদ্ধ যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় এক লক্ষ টাকার কম, সেই পরিবারের পড়ুয়াদের সাহায্যের জন্য এই বৃত্তি। শ্রেণির পরীক্ষায় অন্তত ৫০ শতাংশ নম্বর পেলে এই বৃত্তির টাকা পাওয়া যায়। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পড়ুয়ারা বছরে ১ হাজার টাকা করে এবং ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির পড়ুয়ারা বছরে ৫৭০০ টাকা করে পেয়ে থাকে। আবাসিকদের জন্য এই টাকার পরিমাণ ১০৭০০ টাকা। সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে এই শেষ দুই ক্যাটিগোরিতে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only