মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০

বিচারব্যবস্থার প্রতি আমার সম্পূর্ণ আস্থা আছে,বললেন ডাক্তার কাফিল খান



পুবের কলম প্রতিবেদকঃগোরক্ষপুরের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কাফিল খানের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্ট গেল উত্তরপ্রদেশ সরকার। কাফিল খানের বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইনে (এনএসএ) মামলা করেছিল যোগী আদিত্যনাথের সরকার। কিন্তু সাসপেন্ড হওয়া ডাক্তার কাফিল খানের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। ইলাহাবাদ উচ্চ আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছে উত্তরপ্রদেশ সরকার। সুপ্রিম কোর্টে উত্তরপ্রদেশ সরকারের আর্জি দাখিল করার পর পরোপকারী শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ কাফিল খান মন্তব্য করেছেন, আমার বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা আছে। কাফিল বলেছেন, আমি বিশ্বাস করি,সেই আধিকারিকদের শাস্তি হওয়া উচিত যাঁরা তাঁদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেন। ইলাহাবাদ হাইকোর্ট এনএসএ আইনে কাফিল খানের বিরুদ্ধে যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে শনিবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। ডাক্তার কাফিল খানকে আগেই সাসপেন্ড করেছিল ইউপি সরকার। কিন্তু তাঁকে ফের একবার সাসপেনশন অর্ডার ধরানো হয়েছে। বিআরডি হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাবে একাধিক শিশু মৃতু্যর ঘটনায় অভিযুক্ত করা হয়েছিল কাফিল খানকে। কিন্তু তদন্তের পর তাঁকে সব অভিযোগ থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ২০২০ সালে জানুয়ারি মাসে মুম্বই বিমানবন্দর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। কাফিল খান সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে বত্তৃ«তা করতে যাচ্ছিলেন। কাফিল জানান, তাঁকে স্থানীয় গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আলিগড়ে আমার বক্তৃতা দেওয়ার কথা ছিল। সরকার মনে করেছিল আমি সেখানে গেলে আইন-শৃঙ্খলার সমস্যা হতে পারে বলে জানিয়েছেন কাফিল। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখ তিনি মুক্তি পান। সেখান থেকে তিনি রাজস্থানে চলে যান নিরাপত্তার খাতিরে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বারবার জানিয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে তাঁকে ভয় দেখানো হচ্ছে। জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি তাঁর সাসপেনশন তুলে নেওয়ার জন্য একাধিক চিঠি লিখেছেন ইউপি সরকারকে। করোনা মহামারিতেও আমি মানুষের চিকিৎসা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমার আবেদন নাকচ করে দেয় বলে জানিয়েছেন কাফিল। তবে বহু স্বাধীন মেডিক্যাল সংস্থা আমার পক্ষে সরকারের কাছে সওয়াল করেছে যাতে আমাকে পুনর্নিয়োগ করা হয়। এমনকী আইএমএ,আইএপি, পিএমএসএফ,এমএফসি প্রমুখ সংস্থা আমার হয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে। প্রসঙ্গত, কাফিল খানের সঙ্গে আরও যে ৯ জন ডাক্তারকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল তাঁরার সবাই ফের কাজে যোগ দিয়েছেন। শুধু কাফিল খানের বেলায় সাসপেনশন অর্ডার তোলা হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ৯টি তদন্ত কমিশন করা হয়েছিল। সেইসব কমিশনের রিপোর্টে কাফিল খানকে নির্দোষ বলা সত্ত্বেও ইউপিএ সরকার তাঁকে চাকরিতে বহাল করেনি।   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only