বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

সামনে ভোট বলেই বাংলাকে নিশানাঃমমতা



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ বিধানসভা ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। অভিযোগ-পালটা অভিযোগ, চ্যালেঞ্জ-পালটা চ্যালেঞ্জে সরগরম বঙ্গ রাজনীতির ময়দান। মঙ্গলবার সেই রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ আরও চড়ল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে। বাংলাকে কিছুতেই গুজরাত-উত্তরপ্রদেশ বানাতে দেবেন না বলে যেমন চ্যালেঞ্জ ছুড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী, তেমনই অভিযোগ করেছেন সামনে নির্বাচন বলেই বাংলাকে টার্গেট করছে কেন্দ্রের শাসকদল। 

নবান্নে এ দিন সাংবাদিক সম্মেলনে আগাগোড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে আগ্রাসী ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে কেন্দ্রের শাসকদলকে বিঁধে বলেন, ‘সামনে ভোট আসছে। প্রত্যেকবারই ভোট এলে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যকে টার্গেট করা হয়। কেন্দ্র এখন নিজের ইচ্ছে-খুশিমতো কাজ করছে। আগে যোজনা কমিশন ছিল, এখন সেসব তুলে দিয়েছে। ফলে পকেট থেকে চিরকূট বের করে যা ইচ্ছে তাই বলছে। এই নির্বাচনের আগে অনেক বদনাম করবে, অনেককে জেলে পুরবে। মিথ্যে কথা বলবে। প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে রাজ্যকে ডিস্টার্ব করা হচ্ছে। যত এজেন্সি পারেন নিয়ে আসুন, যত ফোর্স পারেন নিয়ে আসুন।’ আমফান থেকে শুরু করে নানা ক্ষেত্রে রাজ্য কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভাত দেওয়ার মুরোদ নেই, কিল মারার গোঁসাই। সব অপপ্রচারের জবাব ইঞ্চিতে-ইঞ্চিতে দেবে মানুষ। বিনা যুদ্ধে এক ইঞ্চি জমি ছাড়া হবে না। দেখা যাক শেষপর্যন্ত কী হয়?’ 

বঙ্গ দখলেও উত্তরপ্রদেশ মডেল অনুসরণ করে ভিনরাজ্য থেকে দলীয় নেতাদের পাঠাতে শুরু করেছে বিজেপি শীর্ষনেতৃত্ব। তবে বিজেপি নেতাদের সেই আশা পূরণ হবে না বলেও দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘এটা বাংলা। গুজরাত কিংবা উত্তরপ্রদেশ নয়। এখানে বহিরাগতরা এসে গুন্ডামি করবে তা হবে না। সেটা হতে দেব না।’ 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথায় কথায় যেভাবে বাংলা বলছেন, বাংলার কবি-মনীষীদের কবিতা-বাণী আওড়াচ্ছেন, তা নিয়েও এ দিন কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মুখ্যমন্ত্রী। কিছুটা শ্লেষের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘টেলিপ্রম্পটারের দৌলতে এখন এ সবই সম্ভব। গুজরাতি হরফে বাংলা লিখে উচ্চারণ করা কোনও ব্যাপারই নয়। বাংলা বললেই বাঙালি হয় না। আমিও গুজরাতি ভাষা বাংলা হরফে লিখে গুজরাতি বলতে পারি। টেলিপ্রম্পটারে সম্ভব সব। তাই কেউ বাংলা বললেই তা নিয়ে মাতামাতি করার কিছু নেই।’ 

বিজেপি নেতারা যেভাবে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর গায়ে দুর্নীতির কাদা ছিটানোর চেষ্টা করছেন সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ কিংবা বিধানসভা থেকে কোনও টাকা নিই না। গান গেয়ে, লিখে, এঁকে টাকা তুলি। তাই নিয়ে এত কথা। ইচ্ছে হলে লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন ও পেনশন নিতে পারতাম। কিন্তু তা নিই না। একটা পয়সাও সরকারের খরচ করি না। কিছু না জেনে বড় বড় কথা।’

বিজেপুর পাশাপাশি এ দিন সিপিএমকেও তীব্র আক্রমণ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষুব্ধ কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এই রাজ্যে বিজেপির সবচেয়ে বড় দালাল সিপিএম। এতবড় নির্লজ্জ জ্যোতিবাবু-বুদ্ধবাবুও ছিলেন না। লজ্জা করছে এটা দেখতে। এই সিপিএম নেতারা রাজ্যের বদনাম করার জন্য কেন্দ্রের থেকে রাজ্যের বিরুদ্ধে তথ্য নিয়ে এসে বদনাম করছেন।’

কেন্দ্রের নয়া কৃষিনীতি নিয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য, অটলজি থাকলে এই আইন সমর্থন করতেন না। অর্থাৎ আবারও বুঝিয়ে দিলেন, ভিন্নতর রাজনৈতিক আদর্শ থাকলেও অটল বিহারী বাজপেয়ীর মতো রাষ্ট্রনেতা সকলের কাছে সম্মানীয়। তাই তাঁর আদর্শ মেনে চলা উচিত আজকের বিজেপি নেতৃত্বের। 

মোদি সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়েই আন্দোলনে নেমেছেন অন্নদাতারা। কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে কৃষি আইন বাতিলের দাবি জানানোর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘অটলজি (প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী) আজ বেঁচে থাকলে এই আইন সমর্থন করতেন না।’

আগামী বৃহস্পতিবারই মাঝেরহাট সেতু সাধারণ মানুষের জন্য ফের খুলে দেওয়া হচ্ছে। তার দু’দিন আগে এ দিন নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘যেহেতু নেতাজির ১২৫তম জন্মজয়ন্তী সামনে, তাই মাঝেরহাট সেতুর নামকরণ করা হচ্ছে ‘জয়হিন্দ’ সেতু।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only