শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০

বাংলার ইলেকশনে বাইরের গুন্ডা কেন আসবে? প্রশ্ন মমতার

দুয়ারে দুয়ারে সরকার ক্যাম্পে খোদ মুখ্যমন্ত্রী


পুবের কলম প্রতিবেদক:­ রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের এখনও বেশ কয়েক মাস দেরি। প্রায় সব রাজনৈতিক দল নিজেদের ঘর গোছাতে শুরু করেছে। তবে বঙ্গ-বিজেপির বিরুদ্ধে শাসকদলের বড় অভিযোগ যে, তারা বহিরাগত এনে বাংলার মসনদ দখল করতে চাইছে। বৃহস্পতিবার দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ে হামলা হয়েছে বলে যখন সুর চড়াচ্ছে বিজেপি,তখন বিজেপিকে বহিরাগতদের দল বলে কটাক্ষ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন ছুড়েছেন, বাংলার ভোটে বাইরের গুন্ডারা কেন আসবে? রাজ্যের নাকি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো নয়, তবে মানুষ কি রাস্তাঘাটে বেরোতে পারছেন না? প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে বিঁধেছেন মমতা।

প্রসঙ্গত, জনসংযোগ কর্মসূচির অংশ হিসাবে মঙ্গলবার ভবানীপুর চত্বর চষে বেড়িয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা। এ দিকে বৃহস্পতিবার সকালে যদুবাবুর বাজারের ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচিতে হাজির হন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই কর্মসূচিতে গিয়ে তিনি সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কথা বলেন। জনসাধারণ কীভাবেই বা কন্যাশী,রুপশ্রী, স্বাস্থ্যসাথী ইত্যাদি প্রকল্পের সুবিধা পাবেন,তাও তুলে ধরেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজহাতে বেশ কয়েকজন মহিলাকে স্বাস্থ্যসাথী কার্ডও তুলে দেন। এ দিন তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় থাকলে আগামী দিনে খাদ্য ও স্বাস্থ্য দু’টি পরিষেবাই বিনামূল্যে পাবেন রাজ্যের মানুষ। একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, বাংলায় এমন কোনও পরিবার যেন না থাকে, যাদের কাছে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই। রাজ্যের দশ কোটি মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ দিন যদুবাবু বাজারের দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার রাজ্য সফরকে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন। বিজেপিকে বিঁধে তিনি বলেন, বাংলার পার্টি তৃণমূল। বিজেপি দিল্লির দল। এনআরসি,এনপিআর নিয়েও সরব হন মমতা। তিনি বলেন, ভোটার কার্ডে নাম না তুললে এনআরসি করে বিজেপি নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারে। তবে তিনি রাজ্যে কোনওভাবেই এনআরসি করতে দেবেন না,তবুও ভোটার কার্ডে সঠিকভাবে নাম তোলা দরকার বলেও উল্লেখ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নাড্ডার সফরে হামলার অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল নেত্রীর কটাক্ষ, ওদের একজন ভদ্রলোক এসেছেন। রেগুলার কেউ না কেউ আসে। শুনলাম উনি নাকি ভয় পাচ্ছেন মিটিংয়ে যেতে। বাবা এত ভয়! কেন্দ্রীয় সরকারকে খোঁচা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আঙুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গিয়েছে। কাজ করব আমরা আর ওঁরা খালি কৈফিয়ত চাইবে। রাজ্যের সমস্ত টাকা লুঠ করে। বদলে খালি লাঞ্ছনা আর বঞ্চনা পাই।

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে বিরোধীদের কটাক্ষের জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওরা বলে এখানে আইন-শৃঙ্খলা নেই, আমার মা-বোনেরা কি রাস্তায় বেরোতে পারেন না? এখানে শিক্ষা নেই,স্বাস্থ্য নেই,খাদ্য নেই? ওদেরকে জিজ্ঞাসা করুন দিল্লির কুঠুরিতে কি আছে? বিজেপিকে ফের বহিরাগত বলে দাবি করে মমতা বলেন, ‘গেস্ট হাউসগুলোয় সব উঠেছে। ছোট ছোট হোটেলগুলোয় সব উঠেছে। তারা কারা? তারা কেউ বাংলার লোক নয়। বাংলার ইলেকশন হিম্মত থাকলে বাংলা দিয়ে করুন। বাংলার ইলেকশনে বাইরের গুন্ডা কেন আসবে? জনগণের প্রতি মমতার আর্জি, ‘বহিরাগত গুন্ডাদের আটকান। বাংলাকে বাঁচান।’

এ দিনের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন,পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সাংসদ মালা রায়, প্রাক্তন মন্ত্রী মদন মিত্র।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only