বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

সন্তানের লেখাপড়ার জন্য পাহাড় কেটে রাস্তা বানালেন ওড়িশার ‘মাউন্টেন ম্যান’ জলন্ধর নায়ক




রুবাইয়া জুঁই, ৩ ডিসেম্বর:­আমরা মাউন্টেন ম্যান বা পাহাড় মানব দশরথ মাঝির গল্পটা সবাই জানি। বিহারের গয়ার কাছে গাহলৌর গ্রামে এক অতি দরিদ্র পরিবারে তাঁর জন্ম। দূরত্বের কারণে একসময় বিনা চিকিৎসায় মৃতু্যর কোলে ঢলে পড়তে দেখেছেন নিজের স্ত্রীকে। তারপর এক অদ্ভুত সংকল্প নেন দশরথ। একাই নেমে পড়েন পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরির দুঃসাধ্য কাজে। যিনি ১৯৬০ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত অর্থাৎ দীর্ঘ ২২ বছর ধরে পাহাড় কেটে ৩৬০ ফুট লম্বা ও ৩০ ফুট চওড়া পথ তৈরি করেন। ৭০ কিলোমিটারের দূরত্ব কমিয়ে আনেন মাত্র এক কিলোমিটারে। ২০০৭ সালের ১৭ আগস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃতু্য হয় তাঁর। দশরথ মাঝির জীবন নিয়ে ২০১৪-তে বলিউডে একটি সিনেমাও তৈরি হয় ‘মাঝি- দ্য মাউন্টেন ম্যান’। তবে শুধু দশরথ মাঝি নন, খুঁজলে দেশের নানা প্রান্তে পাওয়া যাবে এরকম অনেকগুলো মুখ। যাঁরা খ্যাতির লড়াইয়ে কয়েকশো যোজন পিছিয়ে থেকেও লোকচক্ষুর আড়ালে নিজেদের কাজে সেরার সেরা। আমরা আলোকপাত করব এমনই একজন মাউন্টেন ম্যানের উপর। ওড়িশার কান্ধামল জেলার ঘুমশাহী গ্রামের বাসিন্দা পেশায় সবজি বিক্রেতা বছর পয়তাল্লিশের জলন্ধর নায়ক। জলন্ধরের গল্পটাও যেন দশরথ মাঝির জীবনের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়েছে। টানা দু’বছর আট ঘণ্টা করে একা পাহাড় কেটে অক্লান্ত পরিশ্রমে ৮ কিমি রাস্তা তৈরি করেছেন তিনি, যে রাস্তাটা তাঁর গ্রাম ঘুমশাহী থেকে শহরের রাস্তা ফুলবানিতে গিয়ে মিশেছে। নিজে পড়াশোনা করতে পারেননি কিন্তু ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করে তুলতে চান। তাই শুধুমাত্র ছেনি হাতুড়ি নিয়ে একটানা কাজ করে তৈরি করে ফেললেন এই দীর্ঘ রাস্তা। স্বপ্ন একটাই, এই রাস্তা ধরে তার সন্তানেরা যাতে সহজেই ফুলবানিতে পৌঁছতে পারে এবং লেখাপড়া করতে পারে। ফুলবনির ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার এস কে জেনা জলন্ধর নায়ককে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি জানান, জলন্ধরের পরিবার যে জায়গাতে বাস করে তা প্রায় জনশূন্য। অন্যরা যাতায়াতের অসুবিধার জন্য প্রত্যেকে শহরে চলে গেছে। তাই আমরা তাদের শহরে বসতি স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। তবে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আমরা সর্বদা তাদের সঙ্গে থাকব।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only