শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০

কনভয়ে হামলা নিয়ে তুঙ্গে তরজা , প্রচারে থাকতেই হামলার নাটকঃ মমতা



পুবের কলম প্রতিবেদকঃবৃহস্পতিবার বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডার কনভয়ে হামলার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি।এই বিষয়কে কেন্দ্র করে যখন আইন-শৃঙ্খলা শিকেয় ওঠার অভিযোগ তুলছে বিজেপি, ঠিক তখন গোটা ঘটনাকে নাটক বলে আখ্যা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে বিজেপির প্রচারে থাকার কৌশল বলেই কটাক্ষ করেছেন তিনি। 

উল্লেখ্য, এ দিন ডায়মন্ড হারবারে নির্ধারিত কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় হামলার মুখে পড়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয়। এই কনভয়ের সঙ্গেই ছিলেন দিলীপ ঘোষ, কৈলাস বিজয়বর্গীয়, অনুপম হাজরারা। শিরাকোলে কনভয় পৌঁছতেই রাস্তার দু’ধার থেকে চলে হামলা। এরপর এই নিয়েই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপান-উতোর। বিশেষ করে বিজেপি নেতারা অভিযোগ করেন, এভাবেই তাদেরকে মানুষের কাছে পৌঁছনো থেকে আটকাতে চাইছে তৃণমূল। তাই এই পরিকল্পিত হামলা। 

এ দিকে বৃহস্পতিবারের এই ঘটনার পেছনে বিজেপি ষড়যন্ত্র দেখছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এ দিন মেয়ো রোডে গান্ধিমূর্তির পাদদেশে কৃষকদের সমর্থনে তৃণমূলের সমাবেশে গিয়ে তিনি বলেন, লোক হচ্ছে না বলেই জাতীয় সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়তে এই ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। কেন পঞ্চাশটি গাড়ির কনভয় নিয়ে বিজেপি সভাপতি যাচ্ছিলেন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ছোট কোনও ঘটনা ঘটলেও প্রকৃত কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে জানিয়েছেন তিনি। 

এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একটা নেতার পিছনে ৫০টা গাড়ি কেন যাবে? তার মধ্যে আবার বাইকের মিছিল। আপনারা তো কেন্দ্র থেকে নিরাপত্তা নিয়ে আসেন,তা হলে আপনার গাড়িতে হামলা কীভাবে হয়? নাকি রাজ্যকে বদনাম করতেই এই হামলার নাটক?

তিনি আরও বলেন, রাজ্য নিরাপত্তা না দিতে চাইলে তাও বলতে পার। আমরা তো বিরোধীদেরও নিরাপত্তা দিই। রাজ্যে এলে তোমরা রাজ্যকে জানাও না,আর যখন নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, সরকারের ঘাড়ে দোষ চাপাও। মমতা বলেন, আমি তৃণমূলের নেতাদের চেয়েও বেশি সম্মান দিই বিরোধী নেতাদের। তবে সম্মান পেতে হলে সম্মান দিতে হয়।

এ দিকে, ডায়মন্ড হারবারের ঘটনার পর রাজ্য পুলিশের তরফে টু্যইট করে জানানো হল, নাড্ডার কনভয়ে কোনও হামলা হয়নি। হামলাস্থলের অনেক পিছনে ছিল তাঁর কনভয়। পুলিশের টু্ইটে আরও বলা হয়, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি শ্রী জে পি নাড্ডা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারের ভেন্যুতে নিরাপদে পৌঁছেছেন। তাঁর কনভয়ে কিছুই হয়নি। দেবীপুরে কয়েকজন পথচারী হঠাৎ তাঁর কনভয়ের পিছনে দীর্ঘ যানবাহনের দিকে পাথর ছোড়ে।

এ দিন আরামবাগের জনসভায় এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন তৃণমূল যুব সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘আজ বিজেপির জে পি নাড্ডা ডায়মন্ড হারবারে গিয়ে গাড্ডায় পড়েছেন। তা আমি কী করতে পারি? সাধারণ মানুষের ক্ষোভের বহির্প্রকাশের দায়িত্ব তো আমার নয়!’

যুব তৃণমূল সভাপতির যুক্তি, ‘লকডাউনের সময় মানুষের খোঁজ নেননি। জিএসটি, নোটবন্দি করে মানুষের জীবনে অন্ধকার এনেছেন আপনারা। একদিনও খোঁজ নেননি। লকডাউনের সময় কোন নেতাকে খোঁজ নিতে দেখেছেন আপনারা? ক’বার লকডাউনে মানুষের পাশে দেখতে পেয়েছেন? একমাত্র যদি কেউ দাঁড়িয়ে থাকে, কালীঘাটে টালির ছাদের তলার সেই মহিলা।

এ দিকে এ দিন জে পি নাড্ডার কনভয়ের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাজ্যপাল। টু্ইটে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল ও পুলিশ প্রশাসনকে দুষে তিনি লিখেছেন, ‘অরাজকতা ও অনাচারের উদ্বেগজনক এই তথ্যে উদ্বিগ্ন। পুলিশের সহযোগিতায় শাসকদলের ক্যাডাররা বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয়ে হামলা চালিয়েছে। সকালেই মুখ্যসচিব ও ডিজিকে সতর্ক করেছিলাম। তা সত্ত্বেও এই ঘটনা আইন-শৃঙ্খলার পরিস্থিতিতে ধস নামার ইঙ্গিত দেয়।’

এমনকী নাড্ডার কনভয়ে হামলা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। টু্ইটে তিনি লিখেছেন, ‘আজ বাংলায় বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডাজির কনভয়ে আক্রমণ খুবই নিন্দনীয় একটি ঘটনা। বিষয়টি নিয়ে কোনও নিন্দাই যথেষ্ট নয়। কেন্দ্রীয় সরকার এই আক্রমণকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছে। এই সংগঠিত হামলার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে রাজ্যের শান্তিকামী মানুষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only