শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০

দুয়ারে সরকার হল ভরসার লাইনঃঅভিষেক



নসিবুদ্দিন সরকার,হুগলিঃদুয়ারে সরকার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ইলেকশন কমিশনকে দিয়ে ওই কর্মসূচি বন্ধ করবে বলে আপিল করবে বলছে দিলীপ ঘোষ। কেন আপিল করবে? যাতে মানুষ এই পরিষেবা না পায়। বিজেপির হার্মাদ,কর্মীরা বলছে দুয়ারে সরকার বন্ধ করতে হবে। কেন দুয়ারে সরকার কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে? এই প্রশ্ন তুলে আরামবাগের বিশাল জনসভায় সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির নেতা-কর্মীদের আক্রমণ করে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছেন রাজ্যের ১০ কোটি মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যসাথী কার্ড উপর থেকে নিচে পর্যন্ত সবাই পাবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দিলীপ ঘোষকেও ওই কার্ড করিয়ে রাখার পরামর্শ দেন। অভিষেক বলেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা বলছেন, তারা দু’শোর বেশি আসন পাবে। দু’শোর বেশি আসন তো দূরের কথা এই হুগলি জেলায় ২০২১ সালে খাতা খোলার বিজেপির কোনও নেতা-কর্মী থাকবে না। যতই নাড়ো কলকাঠি, নবান্নে আবার হাওয়াই চটি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরছে। তখন বিজেপি নেতা-কর্মী যারা আছে ছোট-বড়-মাঝারি-সেজো তারা সবাই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়বে। তাই তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হলে তাদের চিকিৎসার দায়িত্বটা আর কেউ নেবে না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিতে হবে। স্বাস্থ্যের পর,খাদ্যের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৩০ জুন ২০২১ পর্যন্ত বাংলার সকলের জন্য ফ্রিতে রেশন পাওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। বাংলা ছাড়া ভারতের আর কোনও রাজ্য এমন যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে কার্যকরী করতে পারেননি। একমাত্র করতে পেরেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সারাদেশের মধ্যে বাংলাই একমাত্র রাজ্য, যেখানে শিক্ষা থেকে খাদ্য সবই বিনামূল্যে মানুষ পাচ্ছে। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, দার্জিলিং থেকে দেগঙ্গা সর্বত্রই শিক্ষা,স্বাস্থ্য,খাদ্য মানুষ ফ্রিতে পাচ্ছে। তার সঙ্গে কন্যাশ্রী,রুপশ্রী,যুবশ্রীসহ একাধিক জনমুখী প্রকল্পগুলি দুয়ারে সরকারের মাধ্যমে মুখমন্ত্রী মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পৌঁছে দিচ্ছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে করে বলেন– লড়াই নিশ্চিত হবে। কিন্তু লড়াইটা দাঙ্গা,গুন্ডামি,ভণ্ডামি করে নয়,লড়াই করুন পরিসংখ্যান দিয়ে। নরেন্দ্র মোদি সাত বছরে কী করেছে। আর দিদি ১০ বছরে কী করেছে জনতার উদ্দেশ্যে রিপোর্ট কার্ড তুলে ধরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ১০ বছরে রাজ্যে কী কাজ করেছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব এই রিপোর্ট কার্ডে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিজেপি নেতাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, হিম্মত থাকলে আপনারা মোদির সাত বছরের উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড প্রকাশ করুন। লড়াই হোক তথ্যের বিনিময়ে,পরিসংখ্যানের নিরিখে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপি নেতাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে আরও বলেন, এই মঞ্চ থেকে সংবাদমাধ্যমের সামনে সাধারণ মানুষকে সাক্ষী রেখে বলছি, যদি তথ্যের মাধ্যমে লড়াই হয় তাহলে আমাদের নেত্রী কী করেছে আর তোমাদের মোদি কী করেছে, যদি আপনাদের ১০-০ গোলে হারাতে না পারি তাহলে রাজনীতির আঙিনায় কোনও দিন পা রাখব না। ওদের শুধু ধর্মের নামে রাজনীতি। ২০১৯ সালের নির্বাচনের সময় দেশপ্রেমের কথা বলে যারা ভোট নিয়েছিল। বালাকোটের নাম নিয়ে বলেছিল পাকিস্তানকে জধ করেছে। পাকিস্তানকে কড়ায়-গণ্ডায় জবাব দেয়া হোক বলে মন্তব্য করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, শুধু পাকিস্তান কেন ভারতবর্ষের ভূখণ্ড যে দেশ দখল করার দুঃসাহস দেখাবে তাকে যোগ্য জবাব ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া উচিত। ভারতের উপর যদি কেউ চোখ তুলে বা চোখ রাঙিয়ে কথা বলে তার যা পরিণতি হওয়া দরকার আমরা মনে করি সেটা আমাদের সকলের কাছে একান্ত ভাবে কাম্য। যারা মানুষকে ভাঁওতা দিয়ে রাজনৈতিক দল হিসাবে রাজনীতির লড়াই না করে ধর্মের নামে সুড়সুড়ি দিয়ে লড়াই করে তাদেরকে বলি তোমাদের রাজনীতি ধর্ম নিয়ে আর আমাদের রাজনীতি কর্ম নিয়ে। তোমাদের ধর্ম অস্ত্র, নিয়ে আমাদের ধর্ম মানুষের পক্ষ নিয়ে। তোমাদের ধর্ম জাত নিয়ে। আমাদের ধর্ম মানুষের পেটের ভাত নিয়ে। তোমাদের ধর্ম কবরস্থান, শ্মশান নিয়ে। আমাদের রাজনীতি কর্মসংস্থান নিয়ে। এটাই হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস আর ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে প্রধান পার্থক্য। দুয়ারে সরকার কর্মসূচিতে মানুষের লাইন বলে দিচ্ছে আগামী দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নবান্নের দিকে আসা কেবল সময়ের অপেক্ষা। ভারতীয় জনতা পার্টি মানুষকে নোটবন্দি,জিএসটি,এনআরসি নামে লাইনে দাঁড় করিয়ে দিল। লাইনে লাইনে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষের মৃতু্য হল। লাইনে দাঁড় করিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আর অমিত শাহরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়েছেন। কিন্তু তফাতটা কি? প্রশ্ন তুলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আজকের দুয়ারে সরকার কর্মসূচির জন্য লাইন হল আসা-ভরসার। আতঙ্কের নয়। সেই লাইন ছিল দম্ভের, ঔদ্ধত্যের এবং দাম্ভিকতার। আর আজকের লাইন হল ভালোবাসার, বিশ্বাসের এবং বিন্ম্রতার। এটাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর ভারতীয় জনতা পার্টির মধ্যে পার্থক্য। বিজেপি নেতাদের আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এক দল নেতা দিল্লি থেকে উড়ান ধরে আসছে। নামিদামি পাঁচতারা হোটেলে থাকছে। পরের দিন লোকদেখানো দলিতদের বাড়িতে কলাপাতায় ভোজন করছে। রাত্রিবেলা ফাইভ স্টার হোটেলে থেকে খাওয়া-দাওয়া করছে। পরের দিন ফ্লাইট ধরে চলে যাচ্ছে। মানুষ কি বোকা? সকালবেলা দলিতদের বাড়িতে গিয়ে কলাপাতার সঙ্গে দোস্তি আর রাতের বেলা ফাইভ স্টার হোটেলে বসে মস্তি।মানুষ সব দেখছেন।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জনতার উদ্দেশ্যে বলেন,যারা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙে তাদেরকে যোগ্য জবাব দেওয়া উচিত কি উচিত নয় আপনারা বলুন। যে দল মানুষের টাকা মারে, যে দল পদে পদে বাংলা মাকে বঞ্চিত করে রাখে সেই দলকে যোগ্য জবাব দেওয়া উচিত কী উচিত নয়। যে দল বাংলা পড়তে জানে না, লিখতে জানে না। বাংলার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ঐতিহ্য জানে না সেই দলকে আগামী দিন কড়ায়-গণ্ডায় জবাব দেবেন কি দেবেন না?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only