শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

কাগজ কুড়ানিরা তৈরি করলেন লাইব্রেরি



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ পুরানো বই অনেক দেশেই কেজি দরে বিকোয়। কাচভাঙা,লোহাভাঙা,টিনভাঙা ওয়ালা বা কাগজ কুড়ানিরা ওইসব বাতিল,পরিত্যক্ত বই কিনে নেয় বা কুড়িয়ে নেয়। তুরস্কের একদল কাগজ কুড়ানি পুরোনো বই জোগাড় করে নতুন লাইব্রেরি বানিয়ে অভিনব চমক দিলেন। কথা প্রসঙ্গে তাঁদেরই একজন বললেন ,শুনেছি বইয়ের কোনও বয়স হয় না। আবার পড়াশোনারও কোনও বয়স হয় না। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা শহরের উপকন্ঠে গড়ে উঠেছে এই অভিনব গ্রন্থাগার। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল,যাঁরা এই লাইব্রেরি বানিয়েছেন, তাঁরা কেউ স্কুলের গণ্ডি পার হননি। কিন্তু তাঁরা পড়াশোনার মর্ম উপলব্ধি করেছেন। তাঁরা এই উদ্যোগ না নিলে বইগুলোর গন্তব্য হত ডাস্টবিন কিংবা ভাগাড়। যা ওইসব অশিক্ষিত বা অল্পশিক্ষিত মানুষগুলো বরদাস্ত করতে পারেননি।

ছেঁড়াফাটা বইগুলোর ভবিষ্যতের কথা ভেবে তাদের মনে ব্যথা জন্মায়। তাদের মনে উদয় হয়, পুরানো হলেও বইগুলো যতদিন পাঠযোগ্য থাকবে ততদিন মানুষ এ থেকে উপকৃত হবে। এভাবেই তারা বইগুলোকে মূল্যায়ন করেছিলেন। যদিও পেশাগত কারণে তাঁদের সঙ্গে বইপত্র বা পড়াশোনার দূরতম সম্পর্ক নেই। তবুও তাঁরাই বইয়ের কদর করলেন। এমনই এক কাগজ কুড়ানি আলেসি হামাদ বললেন, তাঁদের মনে হয়েছিল দেশে এমন অনেক গরিব রয়েছে, যারা অর্থের অভাবে বই কিনে পড়তে পারে না। অন্তত তাদের যদি কিছুটা উপকার হয়, সে কথা ভেবেই লাইব্রেরি বানানোর কথা ভেবেছিলেন তাঁরা। এখন তাঁদের লাইব্রেরিতে অনেকেই পুরানো বই রেখে যান। ফলে লাইব্রেরির কলেবর দিন কে দিন বেড়েই চলেছে। তাই এখন আর তাঁরা পাড়া ঘুরে ওজন দরে বই কিনে আনেন না বা ডাস্টবিন থেকে পরিত্যক্ত বই কুড়িয়ে আনেন না।

লাইব্রেরি বানানোর জন্য তাঁরা একটা বন্ধ ইটভাটার অফিসকে ব্যবহার করেন। এখনও সেখানেই রয়েছে কাগজ কুড়ানিদের উদ্যোগে তৈরি লাইব্রেরি। যার তাকে সাজানো রয়েছে ২৫ হাজারেরও বেশি পুরানো বইপত্র। এর মধ্যে অনেক দুষ্প্রাপ্য কালেকশনও রয়েছে। বিষয়ভিত্তিক ১৭টা বিভাগে সাজানো রয়েছে বইগুলো। কোথায় কোন বিষয়ের বই সংরক্ষিত রয়েছে, তা জানা যায় কম্পিউটার পরিচালিত এই গ্রন্থাগারে। এ ছাড়াও একটা ট্রাকে বোঝাই করে ভ্রাম্যমান লাইব্রেরিও রয়েছে তাঁদের। যেটা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে পরিষেবা দেয়। এই ট্রাকটা এককালে আঙ্কারা প্রশাসনের জঞ্জাল সাফাইয়ের কাজ করত। তারপর তা বিকল হয়ে গ্যারেজে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনিক অনুমতি নিয়ে তাঁরা ওই বিকল ট্রাককেই মেরামত করে ভ্রাম্যমান লাইব্রেরির রুপ দেন। এই ট্রাক লাইব্রেরি থেকে মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় বই নেন আবার অনেকে পুরানো বই গিফটও করেন।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only