বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

অনশনরত কৃষকদের পাশে থাকার বার্তা , মমতাকে ধরনাস্থলে আসতে আবেদন আন্দোলনকারীদের



পুবের কলম প্রতিবেদকঃজাতীয় কৃষক দিবসে দিল্লিতে আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে দাঁড়াল তৃণমূল কংগ্রেস। দিল্লির সিঙ্ঘু সীমানার বিক্ষোভরত কৃষকদের সঙ্গে ফোনে কথা বললেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার থেকে রিলে অনশনে বসেছেন কৃষকরা। নয়া কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে তাঁদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাতে এ দিন সিঙ্ঘু এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়ান,শতাধী রায়,প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়,প্রতিমা মণ্ডল এবং মুহাম্মদ নাদিমুল হক। তাঁরা জানান, ‘কয়েকজন কৃষকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন,এই আন্দোলনে কৃষকদের পাশে রয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে ধরনাস্থানে আসতে বলেন কৃষকরা।’ 

বুধবার, দিল্লির সিঙ্ঘু সীমান্তে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে মাটিতে বসে আন্দোলনকে সমর্থন করল তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে কৃষকদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ তৃণমূল নেতারা। কৃষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে কৃষক নেতা পরমজিৎ সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে কৃষক সংগঠনের এক প্রতিনিধি তাঁকে আন্দোলনে শামিল হয়ে কৃষকদের মনোবল চাঙ্গা করার জন্য সশীরের উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্দোলন আরও জোরালো করার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি কাম্য বলে মনে করেছে কৃষক সংগঠক।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কৃষকদের কথোপকথনের যে ভিডিয়ো সামনে এসেছে, তাতে দেখা যায় শতাধী রায়ের উপস্থিতিতে ফোনের স্পিকার অন করে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলছেন কৃষক নেতারা। মমতার উদ্দেশে তাঁদেরই একজন বলেন, ‘সংবাদমাধ্যম এবং হিন্দু,মুসলিম,জৈন,বৌদ্ধ,সব ধর্মের মানুষকে আমাদের এখানে আসার আর্জি জানাচ্ছি। আপনারা এখানে আসুন, আমাদের সঙ্গে কথা বলুন, একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করুন। একজোট হয়ে মোদি সরকারকে ঝুঁকতে বাধ্য করব আমরা। কারণ মোদি সরকার মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এই সরকার শুধুমাত্র দু’জনের জন্যই কাজ করে, আম্বানি এবং আদানি।’

মমতাকে আন্দোলনস্থলে আসার আর্জি জানিয়ে ওই কৃষক বলেন, ‘বাংলায় ভালো কাজ করছেন আপনি। আমরা আপনার প্রশংসা করি। কারণ আগে একাধিকবার বিজেপিকে বড় ধাক্কা দিয়েছেন আপনি। এখনও দিচ্ছেন। আপনি আমাদের দিদি। আপনি যেভাবে কাজ করে চলেছেন, আমরা চাই দেশের সব বোনেরাও এভাবেই এগিয়ে আসুক। আমাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ধন্যবাদ।’ কেন্দ্রীয় সরকার আইন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আন্দোলন থেকে একচুল সরবেন না বলেও জানিয়ে দেন ওই কৃষক নেতা।

গত সেপ্টেম্বরে কেন্দ্র তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন পাস করার পর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরব হয়েছিল। ঠিক এই সময় থেকেই এই আইন নিয়ে সরব হন কৃষকরা। প্রসঙ্গত, এই কৃষক আন্দোলনের শুরুতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ট্যুইট করে জানিয়েছিলেন, কৃষকদের সঙ্গে কথা না বলে এই বিল পাস করা হয়েছে। এখন সেই আন্দোলনের কারণেই দেশ উত্তাল। কেন্দ্রের সঙ্গে কৃষক নেতাদের বৈঠকের পরেও সমাধান সূত্র বেরোয়নি। কৃষকরা নয়া আইন বাতিলের দাবি জানালেও কেন্দ্র তা মানতে নারাজ। আইনের কয়েকটি জায়গা সংশোধনে কেন্দ্রের সম্মতির কথা কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর জানালেও কৃষকরা তা মানেননি।

কৃষক নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কেন্দ্র কৃষি আইন বাতিল না করা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে। যাবতীয় প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে এই শীতের দিনগুলিতেও কৃষকরা নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল। শুধু ঠান্ডার কারণেই এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন আন্দোলনরত কৃষক প্রাণ হারিয়েছেন। তার পরেও কৃষকরা পিছিয়ে আসেননি। কৃষক সংগঠনগুলির মধ্যে বিভাজনের চেষ্টা করে, মাওবাদী তকমা দিয়ে এই আন্দোলনকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছে মোদি সরকার। কৃষক বিক্ষোভের শুরুতে পুলিশকে কাজে লাগিয়ে, তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল। কিন্তু কৃষকদের কোনওভাবেই দমিয়ে রাখা যায়নি।

এ দিকে শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যাওয়ার পর মমতা বলেছিলেন, ‘নবান্নের ধান ছুঁয়ে শপথ করছি,আমরা কৃষকদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম-নেতাই ভুলিনি। আমি ভারতও ভুলিনি। আমি কৃষিজীবী মানুষকে ভুলিনি।’ সিঙ্গুরের কৃষি আন্দোলনের হাত ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কেন্দ্রে চলে আসেন মমতা। তবে বঙ্গে গেরুয়া শিবিরের ‘শক্তিবৃদ্ধি’তে গত কয়েক মাসে হিসেব খানিক পালটে গিয়েছে। জোড়াফুল শিবির থেকে একে একে বহু নেতা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ফলে তৃণমূলের অন্দরেও হিসেব কিছুটা বদলে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মমতা দলকে কৃষক আন্দোলনমুখী করে তুলতে চাইছেন বলে মত অনেকের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only