সোমবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২০

পার্থ-পিকের সঙ্গে বৈঠক শেষে কী বললেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ? পড়ুন এক নিমেষে



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ আলোচনা তো আলোচনাই। এতে আবার সন্তুষ্ট-অসন্তুষ্টর কী আছে। রবিবার পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে বৈঠক শেষে এমনটাই বললেন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁকে যেন গুলিয়ে না ফেলা হয়। কারণ তাঁরা দু’জন আলাদা মানুষ। দলীয় মহাসচিবের নাকতলার বাড়ি ছেড়ে বেরোনোর আগে এ কথাই বললেন বনমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি  বলেন, দলকে যা জানাবার তিনি জানিয়েছেন, তা সংবাদমাধ্যমের সামনে আনতে চান না তিনি। তবে এ দিন মূলত তাঁর কথা হয়েছে আগামী দিনে দলের রণনীতি কি তা নিয়েই? রবিবার এভাবেই হাওড়ার ডোমজুড়ের বিধায়ককে নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রাজ্য রাজনীতিতে যে চাপান-উতোর চলছিল, তা আপাতত বন্ধ করা হল বলেই মনে করা হচ্ছে।

গত কয়েকদিন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান নিয়ে নানান চর্চা হয়েছে। এমতাবস্থায় তাকে নিয়ে তৎপর হয় দল। দলের এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর মানভঞ্জনে তড়িঘড়ি তার সঙ্গে বৈঠকে বসেন তৃণমূল মহাসচিব। রবিবার বেলা ১২টার কিছু পরেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। আগেই হাজির হন তৃণমূলের ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। বৈঠক নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস মুখ না খুললেও রাজীব বন্দোপাধ্যায় বৈঠক থেকে বেরিয়ে বলেন, আমি দলের একজন কর্মী হিসাবে দলীয় স্তর থেকে মহাসচিবের ডাকে আলোচনা করার জন্য এসেছি। আগামী দিনের রণনীতি ঠিক করার জন্য এসেছিলাম। এর বাইরে আর কিছু তো সংবাদমাধ্যমে বলার জন্য নয়। আলোচনা আগামীদিনে আরও হবে। সেইমতো কাজকর্ম করব আমরা।

শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করে দল। সৌগত রায়ের আলোচনার পাশাপাশি, সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দোপাধ্যায় ও ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর আলোচনা করেন। যদিও তারপরও সমস্যার সমাধান হয়নি। দলের সঙ্গে শুভেন্দুর যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা আর মিটবে বলে মনে করছে না রাজনৈতিক মহল। তার পর পরই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন অরাজনৈতিক মঞ্চ থেকে দলকে বা দলের বিশেষ বিশেষ কাউকে করা ইঙ্গিতবাহী মন্তব্য ভাবায় দলকে। এ দিন শুভেন্দু-প্রসঙ্গ উঠতেই রাজীব বলেন, দয়া করে আমার সঙ্গে কাউকে জড়াবেন না। শুভেন্দুবাবুর ব্যাপারটাও ব্যক্তিগত। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যাপারটাও ব্যক্তিগত। এটা তো অস্বীকার করার কিছু নেই দলের মধ্যে কারও যদি ক্ষোভ থাকে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আলোচনার মধ্যেই তো মিটবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। একইসঙ্গে রাজীবের নামে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় নজরে আসা পোস্টার সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এ ধরনের প্রচারের আমার কোনও প্রয়োজন নেই। যদি কেউ এগুলি করে থাকে কারা করছে জানি না, তবে এতে আমার সমর্থন নেই।

দলীয় মহাসচিবের সঙ্গে রবিবাসরীয় বৈঠক নিয়ে রাজীবের বক্তব্য, আলোচনা তো আলোচনাই। এতে আবার সন্তুষ্ট-অসন্তুষ্টর কী আছে। কারও ক্ষোভ থাকতেই পারে, কারও আবার আরও সন্তুষ্টির দাবি থাকতে পারে। সেটা অবশ্যই আলোচনার মাধ্যমেই মিটবে। এ দিনের বৈঠকে আগামী দিনে কীভাবে কী করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছে। আবারও হবে। আমাকে ডাকলে আমি আসব।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই বনমন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, কাজ করতে দেওয়া হচ্ছে না তাঁকে। তারপর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয় এবার কি তবে দল ছাড়তে চলেছেন তিনি? কারণ পরবর্তীতে পুরোহিতদের সভায় যোগ দিয়ে তিনি বলেন, ঠাকুরের কথায়,যত মত,তত পথ। যত মত থাকবে, পথও ভিন্ন ভিন্ন হবে। রাজনৈতিক কারণে আমি এ কথা বলিনি। যা বলেছি ঠাকুরকে স্মরণ করে বলেছি। তবে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনও একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। তিনি একটি মন্ত্রীসভার সদস্য। তবে তিনি গোটা বিষয়টি ভেবে বলেছেন বলে জানিয়েছেন।

শনিবারই সৌগত রায় অবশ্য বলেন, যারা আমাদের দলে আছেন, তাদের আমরা দলে রাখার চেষ্টা করব। ভোটের আগে কিছু লোক কিছু কিছু কথা বলেন। নেত্রী রাস্তায় নেমে গেছে, দল রাস্তায় নেমে গেছেন। এখন বাকি কিছু ভাবার অবকাশ নেই। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়েছেন, রাজনীতি করি বলে অনেক মানুষকে সাহায্য করতে পারি। ব্যক্তিগত ভাবে এতটা করা যায় না। মানুষ বড় স্বার্থপর। নিজের ছাড়া কিছু বোঝে না। যতদিন বাঁচব, ততদিন মানুষের হয়েই কাজ করব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only