বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২০

সবার জন্য বিচ্ছেদ, খোরপোশের এক নিয়ম হোক,কেন্দ্রের মতামত চাইল সুপ্রিম কোর্ট




পুবের কলম প্রতিবেদকঃজাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সবার জন্য বিবাহবিচ্ছেদ, খোরপোশের ক্ষেত্রে এক ও অভিন্ন নিয়ম থাকা উচিত। এই দাবিকে সামনে রেখে দায়ের হওয়া একটি আবেদনের শুনানিতে বুধবার রাজি হল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের মতামতও জানতে চাইল তারা। আবেদনকারীর বক্তব্য, দেশের সংবিধানের স্পিরিট অনুযায়ী দেশের সব মানুষের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের একটি অভিন্ন নিয়ম থাকা উচিত। এই দাবি জানিয়ে বিজেপি নেতা অশ্বিনী কুমার দু’টি পৃথক জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, আসলে বিজেপি মুসলিম পার্সোনাল ল’বোর্ডকে ‘গুরুত্বহীন’ করে দিতেই এই প্রচেষ্টা শুরু করেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি এ এস বোপান্না,ও বিচারপতি ভি রামাসুব্রহ্মণ্যম বেঞ্চ এ দিন মৌখিকভাবেই উপাধ্যায়ের আবেদন শুনতে রাজি হয়েছে। আবেদনে অশ্বিনী বলেন, সব ধর্মেই মহিলাদের সমান অধিকার দিতে হবে। যদি দেখা যায় কোনও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে মহিলাদের অধিকার খর্ব হচ্ছে সেক্ষেত্রে ওই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানকে কখনও আইনি সুরক্ষাকবচ দেওয়া উচিত নয়। এরপরই সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ মৌখিকভাবে পর্যবেক্ষণ করে যে, বিচ্ছেদ সংক্রান্ত আইনটি পুনরায় যাচাই করে দেখার জন্য এবং দেশের আইন কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়ার জন্য করা এই পিটিশনটি তারা বিবেচনা করতেই পারে যেখানে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তিন মাসের মধ্যেই সংবিধানের ১৪,১৫, ২১ ও ৪৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সমস্ত নাগরিকের জন্য বিবাহবিচ্ছেদের একটি অভিন্ন আইন থাকা উচিত। এরপরই এই বিষয়ে কেন্দ্রকে নোটিশ দিয়ে তাদের মতামত জানতে চেয়েছে শীর্ষ আদালত। একইসঙ্গে অশ্বিনী উপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী পিঙ্কি আনন্দের কাছেও আদালত জানতে চায়, তিনি কি চান সব পার্সোনাল ল’ই অবলুপ্ত হোক? যদিও আনন্দ জবাবে বলেন, না! সরাসরি তিনি এমনটা বলতে চাননি। আসলে তিনি আদালতকে এমন কিছু নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বলেছেন যা পার্সোনাল ল’য়ের উপর হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং পার্সোনাল ল’ যা কিছুকে মান্যতা দিয়েছে তাকে নষ্ট করতে পারে। এটা ধরে নেওয়া হয় যে, সরকার জনতার স্পন্দন বোঝে। কিন্তু এভাবে কি আদালত কারও পার্সোনাল আইনে জোর করে ঢুকে পড়তে পারে? পার্সোনাল ল’গুলির মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে,সেগুলি ভেঙে না দিয়ে আমরা শুধুমাত্র বৈষম্যমূলক আচরণগুলিকে অবলুপ্ত করতে পারি? জবাবে তিন তালাক প্রসঙ্গ উপস্থাপন করে শীর্ষ আদালত বলে, সংসদই তো এই নিয়ে আইন করেছে। অশ্বিন কুমার তাঁর আবেদনে আরও বলেন, ১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন মেনেই হিন্দু,বৌদ্ধ, শিখ ও জৈনদের বিবাহ চাইতে হয়। অন্যদিকে,মুসলিম,খ্রিস্টান ও পার্সিদের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত আইন রয়েছে। ভিনধর্মের দম্পতিরা ১৯৫৬ সালের বিশেষ বিবাহ আইনে বিচ্ছেদ পেতে পারে। যদি কোনও দম্পতির একজন বিদেশি হয় তাহলে ১৯৫৬ সালের বিশেষ বিবাহ আইনে বিচ্ছেদ পেতে পারে। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only