শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

মুর্শিদাবাদ-সামশেরগঞ্জ গঙ্গা ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ




(সামশেরগঞ্জ ব্লকের শিবনগর এলাকার বাগানে প্লটে চিহ্নিত করার কাজ চলছে... ছবিঃ মাসুদ আলি )


মুহাম্মদ মুস্তাক আলি, জঙ্গিপুরঃ গঙ্গা ভাঙনে আশ্রয়চ্যুতদের পুনর্বাসন দেওয়ার প্রাথমিক উদ্যোগের খবর মিলেছে। সূত্রের দাবি গত দু’দিন ধরে মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ ব্লকের শিবনগর এলাকায় একটি বাগানকে ছোট ছোট প্লটে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধুসড়িপাড়া মৌজার ১১৭৮ দাগের উপর প্রায় ৭ বিঘে জমিদারি বাগানটিকে এতদিন নাকি জনৈক অনিল কুমার সরকার অবৈধভাবে দখল করে আসছিলেন। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে স্থানীয় ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর থেকে।



ভূমিক্ষয়, আশ্রয়চ্যুত এবং নদী ভাঙন শধগুলি মুর্শিদাবাদের সঙ্গে বর্তমান সময়ে অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। প্রায় প্রতি বছর এখন গঙ্গা ভাঙনের কবলে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন জেলার হাজার হাজার মানুষ। ঘরবাড়ি,জমি-বাগান এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বহু স্বাস্থ্যকেন্দ্র গঙ্গা ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে। সাম্প্রতিক গত দুই-তিন মাসে সামসেরগঞ্জ ব্লকের ধানঘরা,ধুসরিপাড়া,শিবপুর প্রভৃতি এলাকার মানুষ গঙ্গা ভাঙনে সর্বশান্ত হয়েছেন। বাড়ি,ঘর হারিয়ে এইসব মানুষ অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষি জমি হারিয়ে বহু মানুষ হারিয়েছিল তাদের রুটি-রুজির পথ। স্বভাবতই দাবি উঠছিল সর্বহারা এই সব হাজার হাজার মানুষদের পুনর্বাসনের। বিষয়টি সমাধানের প্রায় মাস দেড়েক আগে জঙ্গিপুর লোকসভার সাংসদ খলিলুর রহমান এবং মুর্শিদাবাদ লোকসভার সাংসদ মুর্শিদাবাদ জেলাশাসকের মাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পুনর্বাসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। খলিলুর রহমানের দাবি, ভাঙনগ্রস্তদের যথাযথ সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপরেই শুরু হয় জমি খোঁজার কাজ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, যে জমিটুকু পাওয়া গিয়েছে তাতে কিছু সংখ্যক মানুষকে পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব। গঙ্গাভাঙনের শিকার রবি মণ্ডল,ধানঘরার গোপাল মণ্ডল,ধুসরিপাড়ার মেরিনা বিবিরা জমি শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় মাথার উপরে এক ফালি ছাদ মিলতে চলেছে এমন আশায় বুক বেঁধেছেন। অন্যদিকে জেলাতে হাজার হাজার এমনই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা সবাই কখন পুনর্বাসন পাবেন তার জন্য অধীর অপেক্ষা করছেন।



বিধায়ক আমিরুল ইসলাম



আপাতত দুইশত পরিবারের এই প্লটে পুনর্বাসন দেওয়া সম্ভব হবে বলে সামশেরগঞ্জের বিধায়ক আমিরুল ইসলাম পুবের কলমকে জানান। 


সাংসদ খলিলুর রহমান 


এই প্রসঙ্গে  জঙ্গিপুর লোকসভা সাংসদ খলিলুর রহমান জানান যে" আমি এবং তৃণমূল জেলা সভাপতি বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। উনি মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক জগদীশ প্রসাদ মীনাকে পুনর্বাসনের জন্য জায়গা খোঁজার নির্দেশ দেন। আমি আশাবাদী যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার সমস্ত মানুষের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন"।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only