রবিবার, ১৩ ডিসেম্বর, ২০২০

সংবিধান ভঙ্গ করছে কেন্দ্র,পত্র-জবাব রাজ্যের



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ে ‘তথাকথিত’ হামলার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক প্রভুদের খুশি রাখতে অতি সক্রিয়তা দেখানোয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লাকে কড়া ভাষায় চিঠি পাঠালেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার ওই চিঠিতে কার্যত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও তাঁর স্যাঙাত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লাকে তুলোধোনা করেছেন তিনি। কার্যত হুঁশিয়ারির সুরেই তৃণমূল সাংসদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে লিখেছেন, ‘শাহের চাকরের মতো আচরণ করবেন না। আমলার মতো কাজ করুন।’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওই চিঠি কার্যত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে ডায়মন্ড হারবারের কাছে শিরাকোলে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কনভয়ের উপরে ইট ছোড়ার মতো সামান্য ঘটনা ঘিরে গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাতের পারদ তুঙ্গে উঠেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে বিঁধতে আস্তিন গুটিয়ে আসরে নেমেছেন বিজেপির নেতারা। আর তাতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কুর্সিতে থাকা অমিত শাহ। রাজ্যপালের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব থেকে শুরু করে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে দিল্লিতে তলবও করা হয়েছে। সর্বশেষ রাজ্যের তিন কর্মঠ ও দক্ষ আইপিএস আধিকারিককে রাজ্য ছেড়ে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে ডাকা হয়েছে। আর সবটাই করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব অজয় ভাল্লা। দিল্লির আমলা মহলে যিনি ‘বিজেপি বান্ধব’ হিসেবেই পরিচিত। 

দেশের স্বরাষ্ট্রসচিবের এমন রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানাতে এ দিন তাঁকে এক কড়া চিঠি পাঠিয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই চিঠির ছত্রেছত্রে যুক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবের রাজনৈতিক এজেন্ট হিসেবে কাজ করাকে বিঁধেছেন পেশায় আইনজীবী তৃণমূল সাংসদ। চিঠিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘সংবিধানের সাত নম্বর ধারা অনুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা রাজ্যের বিষয়। তার পরেও কীভাবে রাজ্যের দুই শীর্ষ আধিকারিককে তলব করা যেতে পারে? রাজ্য তালিকাভুক্ত কোনও বিষয়ে কী এই ভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে কেন্দ্র? মনে হচ্ছে, এর পিছনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই এমন চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ 

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে লেখা চিঠিতে বিতর্কিত ও একাধিক অপরাধের মামলায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতা রাকেশ সিংহের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক। তিনি লিখেছেন,‘যার বিরুদ্ধে ৫৯টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে, সেই রাকেশ সিংহের মতো দুষ্কৃতী কীভাবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির কনভয়ে ঢুকে পড়লেন? যিনি জেড ক্যাটিগোরির নিরাপত্তা পান, তার কনভয়ে কীভাবে ৫০টি মোটরসাইকেল ও ৩০টি গাড়ি জুড়ে দেওয়া হল?’ রাকেশ সিংহের মতো দুষ্কৃতীকে নিয়ে ঘুরে নাড্ডা নিজেই আইন ভেঙেছেন।’

রাজ্যের মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে তলবের প্রসঙ্গ তুলেও ‘বিজেপি বান্ধব’ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিবকে বিঁধেছেন তৃণমূল সাংসদ। রাখঢাক না রেখে লিখেছেন, ‘রাজ্য প্রশাসনের উপরে চাপ সৃষ্টির জন্যই মুখ্যসচিব ও রাজ্য পুলিশের ডিজিকে তলব করেছেন। মনে হচ্ছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশেই আপনি এই কাজ করেছেন। আসলে মন্ত্রী মশায় ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা, যিনি রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করছেন। আর আপনিও তাঁর কথা শুনে রাজনৈতিক অভিসন্ধি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। অমিত শাহের কথামতো আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন। এটা লজ্জাজনক। আপনার কাছে আবেদন অমিত শাহের চাকর হিসেবে কাজ করবেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের একজন আমলা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করুন।’

জে পি নাড্ডাকে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ তুলে রাজ্যের তিন আইপিএস আধিকারিককে বাংলা থেকে তুলে নিয়ে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় ডেপুটেশনে বসানোর সিদ্ধান্তকেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্যসচেতক। এ প্রসঙ্গে তিনি লিখেছেন,‘আসলে ওই তিন অফিসারকে সরিয়ে রাজ্যের পুলিশ মহলে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছেন আপনারা। রাজ্য পুলিশ যাতে কাজ না করতে পারে, তার জন্য ভয় দেখাচ্ছেন।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only