বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

জেরায় রাখতে হবে সিসিটিভি নজরদারিঃসুপ্রিম কোর্ট



নয়াদিল্লি, ২ ডিসেম্বরঃ­ এক কথায় বলা যেতে পারে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কোনও অভিযুক্ত বা বিচারাধীন বন্দিকে জেরার সময় সেই স্থানে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা রাখতে হবে। তাও নাইট ভিশন ব্যবস্থা সহ। অর্থাৎ রাত্রেও জেরার সময় যাতে সেই ফুটেজ স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়। পাশাপাশি, অডিয়ো রেকর্ডিং ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে। দেশের সব পুলিশ লকআপে এবং এনআইএ ও ইডিরা জেরার সময়ও এই ব্যবস্থা রাখতে হবে। এ দিন, এমনই কড়া নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুলিশি লকআপে ও হেফাজতে অভিযুক্ত বা বিচারাধীন বন্দিকে জেরার নামে প্রবল নির্যাতন করা হয়। অনেক সময়ই অপরাধী না হওয়া সত্ত্বেও তাদের থেকে জোর করে ‘স্বীকারোক্তি’ আদায় করা হয়। এমনকী অনেক সময় পুলিশ প্রকৃত অপরাধীকে ধরতে না পেরে কোনও নিরীহ ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে গিয়ে লকআপে তার উপর এত অত্যাচার করে যে সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ওই ব্যক্তি বাধ্য হয় দোষ নিজের কাঁধে নিয়ে নিতে। বলা ভালো, অত্যাচারের ঠেলায় তাকে দিয়ে দোষ ‘কবুল’ করিয়ে নেওয়া হয়। অনেক সময় নিরীহ মুসলিমদের গ্রেফতার করে তাদেরকে দিয়ে এভাবেই ‘জঙ্গি নাশকতা’য় জড়িত থাকার স্বীকারোক্তিও আদায় করে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। দীর্ঘ বছর ধরে বিচারপর্ব চলার পরে আদালত থেকে তাদের নির্দোষ প্রমাণিত হওয়াই এর সবথেকে বড় প্রমাণ। মনে করা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে এবার সেই প্রবণতা অনেকটা কমবে। কারণ, এক্ষেত্রে জেরার সময় যাবতীয় প্রশ্ন-উত্তর সবটাই অডিয়ো-ভিডিয়ো রেকর্ডিং থাকবে। কোনও অভিযুক্তকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ), সিবিআই ও ইডি জেরার করার সময়ও সেখানে এই ব্যবস্থা রাখতে হবে। জেরা কক্ষ, লকআপ, প্রবেশ ও বাহির পথে সবটাই সিসিটিভি ও সিকিউরিটি ক্যামেরার নজরবন্দি রাখতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা জানিয়েছেন, এই ধরনের অধিকাংশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলি (সিবিআই, এনআইএ, ইডি) নিজেদের অফিসেই জেরা করে। ফলে সেইসব অফিসে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে, যেখানে এই ধরনের জেরা করা হবে। একইভাবে পুলিশি লকআপেও এই ব্যবস্থা রাখতে হবে। পুলিশ স্টেশনে ঢোকা ও বেরোনোর পথেও এই সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে। এ ছাড়া থানার লকআপ, করিডোর, লবি, রিসেপশন চত্বর, সাব-ইন্সপেক্টর রুম, ইন্সপেক্টর রুমে এই ক্যামেরা বসাতে হবে। এমনকী ওয়াশরুমের বাইরেও এই ক্যামেরা বসাতে হবে। এ ছাড়াও নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরে (এনসিবি), ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (ডিআরআই) ও সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিস (এসএফআইও)-এ এই ধরনের ক্যামেরা লাগাতে হবে। ৬ সপ্তাহের মধ্যে এই নির্দেশ কার্যকরী করার জন্য রাজ্যগুলিকে একটি অ্যাকশন প্ল্যানও জমা দিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ২১ নম্বর ধারায় মানুষের জীবন রক্ষার ও ব্যক্তি স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে উল্লেখ করে এই রায় দিয়েছে শীর্ষ আদালত। উল্লেখ্য, পঞ্জাবে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের ঘটনা সংক্রান্ত একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। এই মামলায় শুনানির সময় যখন শীর্ষ কোর্টের নজরে আসে যে, ২০১৮ সালে তারা নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়নি, তারপরই এই কড়া নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। পাশাপাশি, হেফাজতে নির্যাতন নিয়ে অভিযোগ শোনার জন্য  প্রত্যেক জেলায় মানবাধিকার আদালত বসানোরও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ২৭ জানুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করেছে আদালত। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only