বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০

জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে ফোন কৈলাস বিজয়বর্গীয়র ,শনিবারেই কী বিজেপি পতাকা হাতে নিচ্ছেন শুভেন্দু?



পুবের কলম প্রতিবেদক­:সব জল্পনার অবসান। শেষপর্যন্ত বেশ কয়েকদিন ধরে নাটক চালিয়ে প্রত্যাশামতোই গেরুয়া চোলা গায়ে পরার সিদ্ধান্ত নিলেন ‘বাগী’ তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সম্ভবত আগামী শনিবার মেদিনীপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সভাতেই গেরুয়া শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিতে চলেছেন বঙ্গ রাজনীতিতে ইদানীং চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নন্দীগ্রামের বিধায়ক। যদিও বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতারা এ বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটে মুচকি হেসে সাংবাদিকদের ‘ধামাকার জন্য’ অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন। 

সূত্রের খবর ,‘দলে যোগ দেওয়ার আগে চূড়ান্ত দর কষাকষি করতে অর্থাৎ কী পদ দেওয়া হবে, রাজ্যে দল সরকার গড়লে কী পদ পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত হতে ১৭ ডিসেম্বর বিজেপি শীর্ষনেতাদের সঙ্গে (জে পি নাড্ডা ও বি এল সন্তোষ) বৈঠকের জন্য দিল্লি যাচ্ছেন শুভেন্দু। ওই বৈঠকের পরেই মেদিনীপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভায় গেরুয়া শিবিরে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম লেখাবেন তিনি।’ তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুকুল রায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ছাড়া নন্দীগ্রামের বিদ্রোহী বিধায়কের সামনে বিকল্প কোনও পথ নেই। কেন-না,নারদ কেলেঙ্কারিতে জেল যাত্রা ঠেকানোর জন্য গেরুয়া চোলা গায়ে না পরানো ছাড়া কোনও গত্যন্তরই নেই শুভেন্দুর সামনে। আলাদা দল গড়ে বঙ্গ রাজনীতিতে কল্কে পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আবার কংগ্রেসে যোগ দিয়ে বামেদের সঙ্গে হাত মেলালে নন্দীগ্রামে নিজের গড়েই ভোটে যে ভূমিশয্যা নিতে হবে, তা ভালোই জানেন শিশিরপুত্র। তাই বিজেপিতে নাম লেখানোই একমাত্র রাস্তা।

গত কয়েকদিন ধরে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা জিইয়ে রাখলেও আসলে তলে-তলে যে তিনি বিজেপির শীর্ষনেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছিলেন, তা বোঝা গিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক আগেভাগেই তাঁর জন্য কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা মঞ্জুর করায়। আগাম ভেট হিসেবেই ওই নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া মঙ্গলবার তাঁর জন্মদিনে বঙ্গ বিজেপির ভারপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয় শুভেচ্ছা জানিয়ে ফোনও করেছিলেন। সূত্রের খবর, চার মিনিটের বেশি সময় ধরে শুভেন্দুর সঙ্গে কথা বলেন বঙ্গ বিজেপির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। আর ওই ফোনে দলে যোগ দেওয়ার জন্য নন্দীগ্রামের বিধায়ককে আগাম শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন কৈলাস। 

বিজেপিই যে তাঁর গন্তব্য এ দিন হলদিয়ার সভাতে তা স্পষ্টই বুঝিয়ে দেন। দিলীপ ঘোষ-কৈলাস বিজয়বর্গীয়দের কথারই প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছে নন্দীগ্রামের বিধায়কের কণ্ঠে। এখনও ‘নৌটঙ্কি’ করে যে দলে রয়েছেন সেই দলেরই সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম না করে আক্রমণ করে শিশির পুত্র বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ পছন্দ করি না। যাঁরা পদে আছেন, তাঁদের অনেকেই আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছেন। সাধারণ মানুষের আঙুলটা এমন জায়গায় পড়বে যে অনিল বসু, লক্ষণ শেঠদের মতো অবস্থা হবে।’

রাজ্যে গণতন্ত্র বিপন্ন বলে অভিযোগ করার পাশাপাশি গণতন্ত্র ফেরানোর ডাক দিয়ে শুভেন্দু বলেন,‘আমি মন্ত্রিত্ব ছেড়েছি। তাও আমার সভায় মানুষের সভায় আসেন। এই যে এত মানুষ এসেছেন, তাঁদের কংগ্রেস, সিপিএম বা বিজেপি আনেনি। মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক এত সহজে ভাঙা যাবে না।’ তৃণমূল সুপ্রিমো যেভাবে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বহিরাগত’ তত্ত্ব তুলে ধরে আক্রমণ শানিয়েছেন,তার বিরোধিতাও করেছেন শিশিরপুত্র।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only