বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

নতুন করে বাড়ল অস্বস্তি, শুভেন্দুকে নিয়ে ফের জটিলতা



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ মাঝে মাত্র ১৫-১৬ ঘন্টা, শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে ফের অস্বস্তি বাড়ল তৃণমূলের। মঙ্গলবার রাতের বৈঠকের পর তৃণমূল শিবিরে যে স্বস্তির হাওয়া ছিল, বুধবার ঘুরে গেল সেই পরিস্থিতি। শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, ওই বৈঠকের পর দলীয় নেতৃত্ব যে ভাবে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা হয়েছে, তাতে অসন্তুষ্ট নন্দীগ্রামের বিধায়ক । নিজে মেসেজ করে সৌগত রায়কে সে কথা জানিয়েও দিয়েছেন বলে ওই সূত্রের দাবি। সৌগত মেসেজ প্রাপ্তির কথা স্বীকার করলেও, তাতে কী লেখা ছিল, তা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। শুভেন্দুও এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্য মুখ খোলেননি।

সংবাদ মাধ্যমে শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ ফলাও করে প্রচার করেছিলেন সৌগত বাবু। তবে এই নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী মুখ খুলেন নি। উল্টে অনুগামীরা  প্রশ্ন করেছিলেন দাদা কি প্রকাশ্যে কিছু বলেছেন ? যদিও তৃনমূল নেতৃত্বের দাবি ছিল আর কোনও ধোঁয়াশা নেই।

রাজ্য নেতৃত্ব আশ্বস্ত হলেও দলের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নেতৃত্ব পুরোপুরি আশ্বস্ত ছিল না এই বৈঠকের পরেও।উল্টে জল্পনা,  সন্দেহের আবহ ছিল আগের মতই। শুভেন্দু নিজে মুখে না বলা পর্যন্ত তাঁর অনুগামী এবং বিরোধী দু’পক্ষই ভারসাম্যের রাস্তায়  থেকেছেন।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি শেখ সুফিয়ানের বক্তব্য,শুভেন্দু নিজে মুখে কিছু না বলা পর্যন্ত ওঁর অবস্থান স্পষ্ট নয়। ওঁর নিজের মুখ থেকে না শোনা পর্যন্ত কিছু বিশ্বাস করবেন না। কিন্তু এদিন সকালেই দেখা গেল উলট পুরাণ। নিজের অবস্থানে অনড় থেকে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়ে দিলেন, “এক সঙ্গে কাজ করা অসম্ভব”। 

মঙ্গলবার রাতে সৌগত রায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যস্থতায় শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠক হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেখানে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোর (পিকে) ছিলেন। বৈঠকের পর তৃণমূল সূত্রে জানানো হয়, সঙ্ঘাত-পর্বে দাঁড়ি পড়ছে। সকালে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে সৌগত দাবি করেন, ‘‘সমস্যা মিটে গিয়েছে। তৃণমূলেই থাকছেন শুভেন্দু। দু’-এক দিনের মধ্যেই সাংবাদিক সম্মেলন করে সিদ্ধান্ত জানাবেন তিনি।’’

এ দিন বেলা গড়াতেই খবর মেলে, দলীয় নেতৃত্বের এ ভাবে সংবাদ মাধ্যমে মুখ খোলায় অসন্তুষ্ট শুভেন্দু। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌগত রায়কে হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ পাঠিয়েছেন তিনি। বেলা ১১.৪৫টা নাগাদ হোয়াটসঅ্যাপে নিজের অবস্থানের কথা সৌগতের কাছে পৌঁছে দেন তিনি।সেখানে শুভেন্দু লিখেছেন, ‘আমার বক্তব্যের এখনও কোনও সমাধান হয়নি। সমাধান না করেই আমার উপর সব চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ৬ ডিসেম্বর আমার প্রেস কনফারেন্স করার কথা ছিল। আমার বক্তব্য জানানোর কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই আপনারা সব প্রেসকে জানিয়ে দিলেন। আমার পক্ষে একসঙ্গে কাজ করা মুশকিল। আমাকে মাফ করবেন’।

এ দিকে শুভেন্দুর ম্যাসেজ প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁর অবস্থান নিয়ে নতুন করে শুরু হয় জল্পনা। এ প্রসঙ্গে সৌগত রায় সাংবাদিকদের বলেন, “আমি আপনাদের কাছে সত্যনিষ্ঠার সঙ্গে বলেছি,  বৈঠকে যা কথা হয়েছে, সেটাই আমি বলেছিলাম। সেখানে শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও আরও চার জন উপস্থিত ছিলেন। যদি তিনি মন পরিবর্তন করে থাকেন, আমার কিছুই বলার নেই। সে ব্যাপারে তিনিই আপনাদের জানাবেন”। শুভেন্দুর বার্তা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর জিতে চাননি সৌগত। পাশাপাশি শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কেন এমন ঘটল, এমন প্রশ্নের উত্তরে সৌগত বলেন, “কালই বলেছিলাম, শুভেন্দু সব বলবেন। এখন যদি উনি মন পরিবর্তন করে থাকেন, তা হলে সেটা তাঁর ব্যাপার। আমাদের আর কিছু বলার নেই”।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only