মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০

করোনার টিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন, উত্তর দেবে সময়



বিশেষ প্রতিবেদনঃ প্রথম দিকে বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, ভ্যাকসিন বা টিকা তৈরি করতে অনেক সময় লাগতে পারে। অতীতে বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক টিকা তৈরি হয়েছ, তার অভিজ্ঞতা ছিল দীর্ঘমেয়াদি। কিন্তু প্রাণঘাতী করোনার ক্ষেত্রে দেখা গেল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। মাত্র মাস দশেকের মধ্যেই বাজারজাত হয়ে গেল কো-ভ্যাকসিন বা কোভিড-১৯ টিকা। ইতিমধ্যেই ব্রিটেন, আমেরিকা,কানাডায় টিকাকরণ শুরু হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে যেসব কোম্পানি এই টিকা তৈরি করেছে বা করছে, তাদের কেমন লাভ হতে পারে। বিশ্বব্যাপী এই ভ্যাকসিনের বিকিকিনি থেকে কতটা মুনাফা হতে পারে। টিকা প্রস্তুতকারক কয়েকটি কোম্পানির নাম নিয়ে খুব চর্চা হচ্ছে। যেমন,ফাইজার-বায়নটেক,অ্যাস্ট্রোজেনেকা,অক্সফোর্ড, সিনোভ্যাক,মডার্না প্রভৃতি। এর বাইরেও বহু দেশে টিকা তৈরি করছে বিভিন্ন কোম্পানি। তবে সবথেকে বেশি আলোচনায় রয়েছে উক্ত পশ্চিমা ও বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর নাম। 

জানা গিয়েছে, ভ্যাকসিন আবিষ্কারের লক্ষ্যে গবেষণা ক্ষেত্রে বহু দেশে, বহু কোম্পানি এবং বহু দাতব্য সংস্থা বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলেছে। ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিল গেটস থেকে জ্যাক মা-র মতো ধনকুবেররা কোটি কোটি ডলার তহবিল দিয়েছেন। এয়ারফিনিটি নামে এক পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞ সংস্থা বলেছে, টিকা তৈরির জন্য আগাম ৬৫০ কোটি পাউন্ড দিয়েছে বিভিন্ন দেশের সরকার। অলাভজনক  প্রতিষ্ঠানগুলো দিয়েছে ১৫০ কোটি পাউন্ড। কোম্পানিগুলো নিজেরা বিনিয়োগ করেছে ২৬০ কোটি পাউন্ড। এদিকে সবথেকে সস্তায় টিকা দিচ্ছে অ্যাস্ট্রোজেনেকা। তাদের প্রতিটা ডোজের দাম মাত্র ৪ ডলার বা ৩ পাউন্ড। আপাতত মডার্নার টিকার দাম ধার্য হয়েছে সবথেকে বেশি, সর্বোচ্চ ৩৭ ডলার। তবে বিভিন্ন দেশে পাঠানোর জন্য পরিবহণ ব্যয় ভিন্ন রকম হওয়ায় টিকার দামে কিছুটা তারতম্য হবে। তবে এও শোনা যাচ্ছে যে, ধনী দেশগুলো প্রয়োজনের তুলনায় বেশি করে টিকা কিনে নিচ্ছে। ফলে উন্নয়নশীল এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো বেশ কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। অর্থাভাবে তারা এমনিতেই কম সংখ্যক টিকার বরাত দিতে পেরেছে। তারওপর ধনী দেশগুলো বেশি করে টিকা কিনে নেওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত দেশগুলো প্রয়োজন মতো টিকা পাচ্ছে না। সব মিলিয়ে করোনার টিকা নিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই বেশ জটিল আকার নিচ্ছে। অনেকে আশঙ্কা করছেন,ধনী দেশগুলো যে অতিরিক্ত টিকা আগেভাগেই কিনে নিচ্ছে, তারা অসময়ে চড়া দর হাঁকতে পারে। আবার গবেষণা খাতে যারা আগাম অনুদান দিয়েছিল, তাদেরও কোনও শর্ত থাকতে পারে। সেটা কেমন তা এখনও জানা যায়নি। বিশ্বে এখনও ৫০টিরও বেশি ভ্যাকসিন ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে কোনও কোনওটা মানুষের হাতে পৌঁছতে বছর দুয়েকও লেগে যেতে পারে। কিন্তু ততদিন কি করোনার প্রকোপ থাকবে। না কি প্রাণঘাতী এই ভাইরাস দীর্ঘকাল পৃথিবীতে থাকবে এবং চোরাগোপ্তা হানা দেবে। এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে এখনও অনেকটা অপেক্ষা করতে হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only