রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

কৃষি আইনের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়বে তৃণমূল-অকালি দল

তৃণমূল ভবনে অকালি দলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক অ'ব্রায়েন এবং সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ ‘সর্বনাশা’ কৃষি আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র করে মোদি সরকারকে বিপাকে ফেলতে কোমর কষে ঝাঁপাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফের একবার কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পাশাপাশি আগামী মঙ্গলবার কৃষক সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বন্ধকে নৈতিক সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্যের শাসকদল। যদিও বন্ধ সফলে অবশ্য রাস্তায় নামবেন না দলের কর্মী-সমর্থকরা। পাশাপাশি মোদি সরকারের উপরে চাপ বাড়াতে শিরোমণি অকালি দল সহ আঞ্চলিক দলগুলিকে জোটবদ্ধ করে লোকসভায় সরব হওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল শীর্ষনেতৃত্ব। 

বান্ধব শিল্পপতিদের ‘স্বার্থে’ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নয়া কৃষি আইন নিয়ে প্রথম থেকেই সরব হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিল্লির উপকণ্ঠে ৬ রাজ্যের কৃষকরা যে আন্দোলন শুরু করেছেন, তা সমর্থন জানিয়ে কৃষি আইন প্রত্যাহার না হলে দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তুলবেন বলে বৃহস্পতিবারই হুমকি দিয়েছিলেন তিনি। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনরত কৃষকদের বিক্ষোভ মঞ্চে রাজ্যসভায় তৃণমূলের দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনকে পাঠানোর পাশাপাশি কৃষক সংগঠনের নেতাদের ফোন করে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন মমতা। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই শনিবার কলকাতার তৃণমূল ভবনে হাজির হয়েছিলেন শিরোমণি অকালি দলের তিন নেতা। দলের সহ-সভাপতি তথা মুখপাত্র প্রেম সিং চন্দুমাজরা নেতৃত্বে তিন অকালি নেতা লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েনের সঙ্গে ৪৫ মিনিট ধরে বৈঠক করেন তাঁরা। সূত্রের খবর, মূলত কৃষি আইন নিয়ে মোদি সরকারকে আরও চাপে ফেলার কৌশল নিয়েই আলোচনা হয়েছে। 

বৈঠকের পরে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরে সংসদে বিল পাস করানো যায়। কিন্তু কৃষকদের সমস্যার সমাধান করা যায় না। কৃষকদের দাবিমতো আমরাও ওই আইন বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকারকে নয়া কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে হবে। সংসদীয় রীতিতে বিল প্রত্যাহার করে সিলেক্ট বা স্ট্যান্ডিং পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তাই তিনটি বিলকে ফের সংসদীয় স্ট্যান্ডিং অথবা সিলেক্ট কমিটিতে পাঠাতে হবে।’ 

‘সর্বনাশা’ কৃষি আইনের প্রতিবাদে আগামী ৮ ডিসেম্বর ভারত বন্ধের ডাক দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। ওই বন্ধে দলের নৈতিক রয়েছে জানিয়ে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা বলেন, ‘কৃষক সংগঠনগুলি মঙ্গলবার যে বন্ধ ডেকেছে, তার প্রতি আমাদের নৈতিক সমর্থন আছে। আমরা কৃষকদের কষ্ট বুঝি। কারণ আমরা সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের আন্দোলন করেছি। গোটা দেশেই এখন কৃষকদের পক্ষে কঠিন সময়। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চুপ করে থাকবেন না। প্রয়োজন হলে অন্যান্য দলের সঙ্গে মিলে রাষ্ট্রপতির কাছেও দরবার করব। কিন্তু ৮ তারিখ রাস্তায় নেমে বন্ধ আমরা করছি না। তার বদলে বেচারাম মান্নার নেতৃত্বে আমাদের যে ক্ষেতমজুর সংগঠন আছে ৮, ৯ ও ১০ তারিখে তারা গান্ধিমূর্তির পাদদেশে অবস্থান বিক্ষোভ করবে। ১০ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে বক্তব্য রাখবেন। এ ছাড়া ওই তিনদিন রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে আমরা কৃষক আন্দোলনের সমর্থনে বিশেষ কর্মসূচি পালন করব।’ দেশের অন্যান্য আঞ্চলিক দলও কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলে তাতেও দলের সমর্থন থাকবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। 

গত সেপ্টেম্বরে সংসদে কৃষি বিল পেশ করার সময়েই বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ করেছিল শিরোমণি অকালি দল। কৃষকদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মোদি সরকারের দেওয়া ‘পদ্ম পুরস্কার’ও ফিরিয়ে দিয়েছেন দলের প্রবীণ নেতা প্রকাশ সিং বাদল ও সিখদেব সিং ধিংসা। এ দিন তৃণমূল ভবনে বৈঠক শেষে অকালি দলের মুখপাত্র প্রেম সিং চন্দুমাজরা সাংবাদিকদের বলেন, ‘সর্বনাশা কৃষি আইন প্রত্যাহার করতেই হবে মোদি সরকারকে। দেশের সব আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে আমরা কথা বলছি। একসঙ্গে আন্দোলন গড়ে তোলা নিয়ে কথা চলছে। আমরাও এর শেষ দেখে ছাড়ব।’


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only