বুধবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২০

আজ থেকে গড়িয়াহাট ট্রামডিপোয় খুলছে ‘ট্রাম ওয়ার্ল্ড কলকাতা’



নির্মাল্য সেনগুপ্ত,কলকাতাঃউনিশ শতকে ব্রিটিশ আমলে কলকাতায় সফর শুরু করেছিল ট্রাম। তখন ট্রাম টানত ঘোড়ায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ট্রামের চেহারাতেও আসে আমূল পরিবর্তন। বিবর্তনের হাত ধরে ট্রাম চলতে শুরু করে বিদ্যুতে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম কেটে গিয়েছে সকলের কাছে শহরের এই প্রিয় ট্রামের। কিন্তু দ্রুতগতির যুগে নতুন প্রজন্মের কাছে ট্রাম অনেকের কাছেই অজানা। পুরনো দিনে কীভাবে পরিচালিত হত ট্রাম? কী ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার হত? ট্রামের চালক ও কন্ডাক্টর সে সময় কী ধরনের পোশাক পরতেন? পুরনো ট্রাম কীরকম দেখতে ছিল? এ ধরনের বহু প্রশ্নের উত্তর এখন থেকে মিলবে গড়িয়াহাট ট্রাম ডিপোয় গড়ে ‘ট্রাম ওয়ার্ল্ড কলকাতা’য় এলে। সঙ্গে নিরিবিলিতে বসে খাওয়া যাবে চা-কফি-স্ন্যাক্স। বলতে গেলে অচিরেই শহরের একটা ‘ওয়ান স্টপ’ একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত হতে চলেছে। আগামী দিনে এই ট্রাম ওয়াল্ড কলকাতায় মিলবে বাঁকুড়ার ডোকরা, বাংলার তাঁত সহ নানা শিল্পকর্মও। এতে একদিকে মানুষ ট্রাম সম্মন্ধে জানতে পারবেন, অন্যদিকে ডব্লিউবিটিসির কিছু রোজগারেরও ব্যবস্থা হবে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, আজ বুধবার থেকে সাধারণের জন্য ট্রাম ওয়ার্ল্ড কলকাতার দরজা খুলে যাবে সাধারণ মানুষের জন্য। ঢুকতে গেলে টিকিট মূল্য দিতে হবে মাত্র ৩০ টাকা। সকাল দশটা থেকে সন্ধে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই স্থান। উদ্যোক্তাদের আশা, শীতের শুরুতে ডব্লিউবিটিসির এই উদ্যোগে মানুষ শহরে আরও একটি স্থান খুঁজে পেল, ঘুরে বেড়ানোর জন্য। 

মঙ্গলবার ‘ক্যালকাটা ট্রাম কোম্পানি’ (সিটিসি)-র ১৪০তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে ‘ট্রাম ওয়ার্ল্ড কলকাতা’র উদ্বোধন করেন ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (ডব্লিউটিসি)-এর ভাইস চেয়ারম্যান স্বর্ণকমল সাহা। সঙ্গে ছিলেন, ডব্লিউটিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজনবীর সিং কাপুর সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তি। এ দিন কেক কেটে সিটিসির জন্মদিন পালন করেন উপস্থিত সকলে। এখানে দেখার মতো রয়েছে পুরোনো দিনের অন্তত দশটি ট্রাম, ওই ট্রামেই সংরক্ষিত হয়েছে ১৯৪০ সাল থেকে  ব্যাবহার করা ট্রামের নানা যন্ত্রাংশ ও সিটিসির ব্যাবহার করা বিভিন্ন সামগ্রী,লণ্ঠন,পেপারওয়েট,পুরনো পয়সা (১০ পয়সা,৫ পয়সা,২০ পয়সা থেকে এক আনা, দু’আনা), কাঠের তৈরি ট্রামের ছবি, বিভিন্ন দেশের ট্রামের ছবি সহ বিভিন্ন সামগ্রী।  এ প্রসঙ্গে ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান স্বর্ণকমল সাহা বলেন, দেড়মাস আগে এই প্রকল্প নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়। তারপরেই খুব দ্রুততার সঙ্গে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি নিজেই এই ট্রাম ওয়াল্ডে এসে উৎসাহিত হয়েছেন। তিনি বলেন, মানুষ এখানে এলে আনন্দ পাবেন। সঙ্গে জানতে পারবেন ট্রাম সম্বন্ধে নানা অজানা তথ্য। ডব্লিউটিসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর রাজনবীর সিং কাপুর বলেন,‘নতুন প্রজন্মকে ট্রাম সম্বন্ধে, তার ইতিহাস সম্পর্কে জানানো, কলকাতার একটা দর্শনীয় স্থান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে তোলার পাশাপাশি এই প্রকল্প  সংস্কৃতির শহর হিসেবে কলকাতাকে তুলে ধরতে সাহায্য করবে।’  


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only