সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

উত্তরপ্রদেশে ধর্মান্তরণ বিরোধী আইন লাগু হওয়ার পর গ্রেফতার ৭



পুবের কলম প্রতিবেদকঃ­ উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকার তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ রুখতে অর্ডিন্যান্স জারি করেছে। বিয়ের জন্য কোনও নারী ধর্ম পরিবর্তন করলেই তারা সেই অর্ডিন্যান্সের বলে তুলে নিয়ে যাচ্ছে মুসলিম যুবকদের। অনেক ক্ষেত্রে অতি সক্রিয় হয়ে যোগীর পুলিশ এই কাজ কারবার করছে। বেআইনি জোরপূর্বক ধর্মান্তরণ সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স লাগু হবার পর গত এক সপ্তাহ সাত জনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। এগুলো হয়েছে সীতাপুর জেলায়। এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল ৮ জনের বিরুদ্ধে। উত্তর সীতাপুরের এসপি রাজীব দীক্ষিত জানিয়েছেন, অপহরণের অভিযোগে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল ২৪ নভেম্বর। মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ ছিল যে এক স্থানীয় যুবক তাকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করে। ২৭ নভেম্বর মেয়েটির পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ওই মামলাটিকেও নয়া আইনের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয় এবং ওই ধারায় বিচার শুরু হয়। সাতজন ইতিমধ্যে গ্রেফতার হয়েছে এই মামলায়। সংঘ পরিবারের মত, মিথ্যে ভালোবাসার ফাঁদে ফেলে মুসলিম যুবকরা হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তরণ করে মুসলিম বানাচ্ছে। এটাই নাকি লাভ জিহাদ। আর তা রুখতে এবার যোগী বাহিনী মরিয়া হয়ে উঠেছে। অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যেও এ ধরনের আইন আনা হচ্ছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই স্বেচ্ছায় মহিলারা ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এমনও ঘটেছে যে দুই পরিবারের সম্মতিতে মামলা মিটে যাওয়ার পরেও স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে যোগীর পুলিশ মামলা শুরু করেছে এবং মুসলিম যুবককে পাকড়াও করেছে।

এই নতুন অর্ডিন্যান্স লাগু হয়েছে মোজাফফরনগরের মনসরপুরের একটি মামলাতেও যেখানে দুই মুসলিম ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে যে তারা এক হিন্দু বিবাহিত মহিলাকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছিল। তাদের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করা হয়েছে। যে যেভাবে পারছে এই আইন বলে মামলা ঠুকে দিচ্ছে। পূর্বাঞ্চলের মাও জেলাতেও এমনই অভিযোগ দায়ের করেছে এক স্বনামধন্য স্বর্ণ ব্যবসায়ী। তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন, একটি স্থানীয় যুবক তার কন্যাকে বিবাহের রাত্রিতে তুলে নিয়ে গিয়েছে। বেরিলির ২১ বছর বয়সি যুবক আহমেদ এই অর্ডিন্যান্স পাস হওয়ার পর প্রথমে মামলায় অভিযুক্ত হন। গত বুধবার তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যদিও যে হিন্দু মেয়েটিকে ধর্মান্তরণ করার অভিযোগ উঠেছিল, সেই মেয়েটির ইতিমধ্যে বিয়ে হয়ে গেছে। তারপরও কীভাবে এই আইনটি তার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে আপাতত সেসব প্রশ্নের দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। যোগীর পুলিশ ব্যস্ত লাভ জিহাদকারী মুসলিম যুবকদের পাকড়াও করতে। অর্ডিন্যান্স এসে গেছে, এবার তাদের আটকাবে কে? মুসলিম যুবকরা এভাবে বিজেপি শাসিত রাজ্যে নিশানায় পরিণত হচ্ছে বলে মত ওয়াকিফহাল মহলের। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only