শুক্রবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২০

‘আমরা প্রত্যেকেই ভূমিপুত্র’ :কৃষ্ণনগরের জনসভায় ওয়ায়েজুল ও ইমরান

(কৃষ্ণনগরের সভায় শ্রোতাদের একাংশ)


পুবের কলম প্রতিবেদক:­ বাংলার মানুষ যে কোনওভাবেই বহিরাগত নয় বৃহস্পতিবার নদিয়ার কৃষ্ণনগরে রবীন্দ্র ভবনে বঙ্গীয় সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবী মঞ্চের এক সম্প্রীতি সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সে কথা আরও একবার বুঝিয়ে দিলেন ‘পুবের কলম’ পত্রিকার সম্পাদক তথা প্রাক্তন সাংসদ আহমদ হাসান ইমরান, সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ওয়ায়েজুল হক থেকে শুরু করে অনেকেই। তাদের বক্তব্য, আমরা বহিরাগত নয়,আমরা এখানকার ভূমিপুত্র।   

আহমদ হাসান ইমরান বলেন, আজকাল অনেকেই বলছেন মুসলিমরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, বহিরাগত। কিন্তু আসলে যারা বলছেন তারাই বহিরাগত। মুসলিমরা বহু প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করছে। তারা ভারতের নাগরিক। 

প্রসঙ্গত শুধু মুসলিমরাই নয়, বহু প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাসকারী হিন্দুরাও নাগরিকত্ব নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন। কিন্তু তাদের নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে হয়রানি করা হচ্ছে। 

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যে সমস্ত হিন্দু ওপার বাংলা থেকে এখানে এসেছেন তাঁরা ইতিমধ্যেই ভারতের নাগরিক। ইতিমধ্যেই তাঁদের ভোটার কার্ড,রেশন কার্ড,আধার কার্ড,পাসপোর্ট সবই রয়েছে। তাঁরা ভোটও দিচ্ছেন এবং নিজেরাও বিধানসভা বা লোকসভায় নির্বাচিত হচ্ছেন। এখন তাদের নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে বলে হয়রানি করা হচ্ছে। নতুন করে নাগরিক হতে হলে অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা ইমরানের। 

এর পাশাপাশি শিক্ষা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে গত কয়েক বছরে মুসলিমরা শিক্ষার ক্ষেত্রে যেভাবে এগিয়েছে, তা নিয়ে তিনি প্রশংসা করেন। এ প্রসঙ্গে সাচার কমিটির কথা উল্লেখ করে শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিমদের কতটা উন্নয়ন হয়েছে সে কথা তুলে ধরেন। এ প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি নারী শিক্ষার ওপর জোর দিতে বলেছেন। 

সংখ্যালঘুদের কথা উল্লেখ করে আহমদ হাসান ইমরান আরও বলেন যে, আমরা যেমন ট্যাক্স দিই, বিভিন্ন ধরনের উৎপাদনের দ্বারা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করি তেমনই সমস্ত সরকারি প্রকল্পের জন্য আমরা হকদার। তাই যে সমস্ত সরকারি প্রকল্প রয়েছে তার সুযোগ নেওয়া এবং অংশগ্রহণ করার বার্তা দেন তিনি। 

এরপরেই বক্তব্য রাখেন ওয়ায়েজুল হক। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বার্তা দিয়ে বলেন, এই দেশ আমাদের সকলের দেশ। আমরা এখানকার ভূমিপুত্র, আমরা ছিলাম, আছি,থাকব। তাঁর আশ্বাস, কেউ বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী মানুষকে তাড়াতে পারবে না।

তিনি বলেন, সংবিধান স্বীকৃত যে অধিকার আছে, সেই অধিকার থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হলে তা আদায় করে নেব। তাই অধিকার আদায়ের জন্য ভয় না করে সাহসিকতার সঙ্গে আওয়াজ তোলার বার্তা দেন তিনি।

তবে শুধু নিজেদের অধিকারই নয়,দুর্নীতি,স্বচ্ছতার বিরুদ্ধেও আওয়াজ তোলার বার্তা দিয়েছেন ওয়ায়েজুল হক।

তিনি বলেন,দুর্নীতি যেই করুক না কেন, সে নেতা হোক বা পুলিশ বা অন্য কেউ, বঙ্গীয় সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবী মঞ্চ কাউকেই ছেড়ে কথা বলে না। শুধু তাই নয় সংগঠনের কোনও সদস্যও যে অন্যায় করলে পার পাবেন না সে বিষয়টিও বুঝিয়ে দেন ওয়ায়েজুল হক। মঞ্চে উপস্থিত থাকা মানুষদের তিনি সব রকমের সাহায্যের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, বঙ্গীয় সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবী মঞ্চ কোভিডের মতো পরিস্থিতিতেও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। অসহায় মানুষদের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে দুস্থ রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেছে এই বঙ্গীয় সংখ্যালঘু বুদ্ধিজীবী মঞ্চ। তিনি জানান, শুধু সংখ্যালঘুই নয় ধর্ম, দল নির্বিশেষে সব ধরনের মানুষের পাশে রয়েছে এই সংগঠন। 

এ ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর মোল্লা। তিনি বলেন, আমরা মানুষের সেবা করতে এসেছি। যদি কেউ বিপদে পরে আমাদের কাছে আসে তাহলে আমরা সব রকমভাবে তাদের সাহায্য করব।  

এ ছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য শেখ হান্নান,জিয়াবুর রহমান, নদিয়া জেলার সভাপতি মহেন মণ্ডল। ছিলেন হারুন মণ্ডল,হারুন রশিদ,শঙ্কর ঘোষ চৌধুরি, মতিউল হক (টুটু) প্রমুখ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only