শনিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২১

আলাপিনী মহিলা সমিতি কাণ্ডে আত্মপক্ষ সমর্থনে বিশ্ব ভারতী

 



দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ২ জানুয়ারি: আলাপিনী মহিলা সমিতির ঘর সীল করে বিশ্ব ভারতী সঠিক কাজ করেছে, আত্মপক্ষ সমর্থনে এমন কথা জানালো বিশ্ব ভারতী। বিশ্ব ভারতী জনসংযোগ আধিকারিক গ্রুপে এমন বক্তব্য পোস্ট করা হয়েছে, বলে জানা গেছে। অভিযোগ, পক্ষপাতিত্বের কারণে সেই গ্রুপে সমস্ত সাংবাদিকদের রাখা হয় নি।  

সেখানে বলা হয়েছে, কোন ব্যাক্তির স্বার্থ বা স্বজন পোষনে আলাপিনী মত শতবর্ষ প্রাচীন প্রতিষ্ঠা চলতে পারে না। নিচে লেখা হয়েছে, বিশ্বভারতী কর্মী পরিষদ। যদিও মহিলা সমিতির দাবি বিশ্বভারতী একতরফা অভিযোগ অনেকাংশেই অসত্য। 


    শুক্রবার সকলেই জানা যায় বিশ্বভারতীর শতবর্ষ প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আলাপিনী মহিলা সমিতির অধিবেশন কক্ষ সীল করে দিয়েছে বিশ্বভারতী। তা নিয়ে ঘরে বাইরে তীব্র ভাবে নিন্দার মুখে পড়তে হয় বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে। অবস্থা সামাল দিতে ২৪ ঘন্টা পরেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ আসরে নামায় কর্মী পরিষদ কে। যদিও জন সংযোগ আধিকারিক অনির্বাণ সরকার কোন বক্তব্য দেন নি। শুধুমাত্র ওই পোস্টে বিস্তারিত জানতে ৬ জন কর্তাব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করার জন্য বলা হয়েছে।

    শনিবার প্রেস বিবৃতি দিয়ে, আলাপিনী মহিলা সমিতি জয়িতা ঘোষ নামে এখন ব্যক্তি গত মহিলা সমিতি তে পরিনত হয়েছে বলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিশ্বভারতীর কর্মী পরিষদ। ওই বক্তব্যের মধ্যে বলা হয়, " ঐ সমিতি বর্তমানে আলাপিনী মহিলা সমিতি আর নেই এই সমিতি জয়তি ঘোষের ব‍্যক্তিগত একটি মহিলা সমিতিতে পরিণত হয়েছে। সমিতির বর্তমান সম্পাদক জয়তী ঘোষের ব‍্যক্তিগত পছন্দে ও অপছন্দে ঐ সমিতি বর্তমানে চালিত হয়।" 

       

 অভিযোগ তোলা হয়, শুভ্রা শীল এই সমিতির একজন অত‍্যন্ত একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন যাকে জয়তী ঘোষ খারাপ ভাবে বিতাড়িত করে ঐ সমিতির সর্বময় কত্রী হয়ে ওঠেন।"  

শুধু তাই নয়, বিশ্বভারতীর কর্মী পরিষদের আরও অভিযোগ, বর্তমানে আলাপিনী মহিলা সমিতি চলছে সম্পূর্ণ আইন বিরুদ্ধ ভাবে। তাই ওখানে কোন রকম গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচন ও হয় না। কোন অডিট হয় না। " ইন্দিরা দেবী চৌধুরীরানী উপাচার্য থাকাকালীন ঐ ঘর টি সমিতির অধিবেশন কক্ষ হিসাবে ব্যবহার করার জন্য দিয়েছিলেন। সমিতির এই দাবিকে নস্যাৎ করে বিশ্বভারতীর দাবি, " এটি জয়তী ঘোষের সম্পূর্ণ স্বরচিত তথ‍্য।" 


কি কারনে বিশ্বভারতী ঘর টি নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে তার ও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে ওই বক্তব্যে। সেখানে বলা হয়েছে, "আজ বিশ্বভারতী প্রশাসন মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালার প্রয়োজনে ঐ ঘরটি কে আলাপিনী মহিলা সমিতিকে ছেড়ে দিতে বলেছেন এবং সমিতিকে, অন‍্য একটি ঘরে তাদের মিটিং করার জন‍্য ব‍্যবস্থা করে দেওয়া হবে একথাও বলা হয়েছে।" 

বিশ্বভারতীর রাস্তা সহ একাধিক ইস্যুতে রবীন্দ্র আদর্শ থেকে বিচ্যুত হচ্ছে বলে কটাক্ষ করেছেন আশ্রমিকরা। এদিন সেই নিয়ে কটাক্ষ করেছে বিশ্বভারতী কর্মী পরিষদ। তাদের মতে," যখন দেখছি বিভিন্ন প্রবীন ব‍্যক্তিরা বলছেন এতোদিন রবীন্দ্র আদর্শ ছিল আজ নাকি তা তুলে দেওয়া হচ্ছে। আসলে এ কথা যে কতটা মেকি তা নিশ্চয়ই শিক্ষিত রবীন্দ্র অনুরাগী ব‍্যক্তিত্বরা জানেন।" বিশ্বভারতী যুক্তি দেয় যে ঘরের বিদুৎ বিল, রক্ষণাবেক্ষণ সবই করে বিশ্বভারতী। সেক্ষেত্রে কেন তাদের ঘরের চাবি বিশ্বভারতীর হেপাজতে থাকবে না। তবু ও এই ইস্যুতে বিশ্বভারতীর সাফ কথা, "আলাপিনী মহিলা সমিতি বিশ্বভারতীর কাছে মিটিং করার জন‍্য ঘর চাইলে তাদের ঘর তো দেওয়া হবে না বলা হয়নি। বলা হয়েছে মৃণালিনী আনন্দ পাঠশালার শিশুদের জন‍্য ঐ ঘরটি ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে।" 


বিশ্বভারতী দাবি, নব্বই দশকের আগে আলাপিনী নারীদের স্বনির্ভরতার কাজে ব্রতী ছিলেন। সেখান থেকে সরে এসেছে বর্তমান আলাপিনী সমিতি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only