শনিবার, ৯ জানুয়ারী, ২০২১

ইলাহাবাদ হাইকোর্টে ‘লাভ জিহাদ’ অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে আবেদনের শুনানি ১৫ জানুয়ারি

 


পুবের কলম প্রতিবেদকঃ  তথাকথিত ‘লাভ জিহাদ’ রুখতে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ গতবছর ৩১ অক্টোবর একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন মুসলিম পুরুষ ও হিন্দু মহিলার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পেছনে রয়েছে একটি ষড়যন্ত্র। এই ষড়যন্ত্রের উদ্দেশ্য হল বিয়ের মাধ্যমে হিন্দু মহিলাদের ইসলামে ধর্মান্তর। মুখ্যমন্ত্রী এই ‘ষড়যন্ত্র’ রুখতে আইন আনবেন। সেইমতো উত্তরপ্রদেশ সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে। এই অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল ‘বলপূর্বক এবং অবৈধ’ভাবে ধর্মান্তর রুখতে। এই অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী সৌরভ কুমার এবং অন্যান্যরা। ইলাহাবাদ হাইকোর্টে দায়ের হওয়া এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত আগামী ১৫ জানুয়ারি। এই জনস্বার্থ মামলা বা পিআইএলের শুনানি করবে ইলাহাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি গোবিন্দ মাথুর এবং বিচারপতি এসএস শামশেরির ডিভিশন বেঞ্চ। পিআইএল আবেদনে বলা হয়েছে, ‘উত্তরপ্রদেশ– প্রহিবিশন অব আন-ল’ ফুল কনভার্সন অব রিলিজিয়ন অর্ডিন্যান্স ২০২০’ নৈতিক এবং সাংবিধানিক স্তরে অবৈধ। পিআইএল-এ অভিযোগ করা হয়েছে রাজ্য সরকার বলছে– তারা ‘লাভ জিহাদ’ আটকাতে অধ্যাদেশ এনেছে। কিন্তু অধ্যাদেশটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ করবে। নিজের পছন্দমতো যে কাউকেই বিয়ে করা যায় এবং নিজের পছন্দমতো ধর্মগ্রহণ করা যায়। নাগরিককে এই অধিকার দিয়েছে ভারতের সংবিধান। আইনজীবী সৌরভ কুমার আদালতের কাছে আবেদন করেছেন, আদালত যেন উক্ত অধ্যাদেশকে সংবিধানবিরোধী বলে ঘোষণা করেন। তিনি আবেদনে আরও বলেছেন, আদালত সরকারকে নির্দেশ দিক প্রশাসনিক আধিকারিকরা যেন এই অধ্যাদেশ ব্যবহার করে কোনও দমনমূলক পদক্ষেপ না করে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ উক্ত অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া অন্যান্য আবেদনের সঙ্গে আইনজীবী সৌরভ কুমারের আবেদনের শুনানি করবে ১৫ জানুয়ারি। উত্তরপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই মামলাগুলির হলফনামা আদালতে পেশ করেছে। প্রসঙ্গ, উত্তরপ্রদেশে এই অধ্যাদেশ কার্যকর করা হয়েছে গত বছর ২৭ নভেম্বর। তারপর থেকেই উত্তরপ্রদেশে আন্তঃধর্মীয় বিবাহগুলির ক্ষেত্রে পুলিশি হয়রানির ঘটনা বেড়েছে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only