শনিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২১

দিল্লিতে কৃষকদের আন্দোলনের গতিপথ কোন দিকে? নজরে ৪ তারিখের বৈঠক, এদিকে হাড়হিম ঠান্ডায় মৃত্যু আন্দোলনরত এক কৃষকের

 


নয়াদিল্লি, ২জানুয়ারি: দাবিতে অনড় কৃষকরা। একদিকে যখন রাজধানীর তাপমাত্রা হু হু করে নামছে, অন্যদিকে তখন আন্দোলনের আঁচ ততই তীব্র হচ্ছে। নতুন বছরে তাদের ঘোষণা, কৃষি বিল নিয়ে কেন্দ্র বাকি দুটি দাবি না মানলে আন্দোলন চলবে। ৪ জানুয়ারি ফের সরকার পক্ষের সঙ্গে বৈঠক কৃষকদের। সূত্রের খবর, সেই আলোচনায় নতুন কৃষি আইনের সুবিধার দিক গুলি বোঝানোর চেষ্টা হবে সরকারের তরফে।


বুধবার ষষ্ঠ দফার আলোচনায় কৃষকদের বাড়ি ফিরে যাওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমর। কিন্তু নিজেদের দাবি আদায়ে অনড় কৃষকরা। ২৬ নভেম্বর থেকে দিল্লি-হরিয়ানা ও দিল্লি-উত্তরপ্রদেশ সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় কেন্দ্রের নয়া কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন অন্নদাতারা। কনকনে ঠান্ডায় রাস্তায় বসে থাকা বছরের প্রথম দিনই সকালে মৃত্যু হয়েছে উত্তরপ্রদেশের বাগপতের গলন সিং তোমর নামে এক কৃষকের। এখনো পর্যন্ত ২০ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও তারা আন্দোলন থামাতে নারাজ। বাড়ি ফেরত যাওয়া তো দূর, রোজি একটু একটু করে বাড়ছে আন্দোলনকারীর সংখ্যা। 


আন্দোলনকারীদের অন্যতম নেতা যোগেন্দ্র যাদব বলেন,"অর্ধেক দাবি মেনে নেওয়ার যে কথা কেন্দ্র বলছে, তা মিথ্যে। আমাদের প্রধান দাবি হল তিন আইন প্রত্যাহার করা ও এমএসপি কে আইন সিদ্ধ করা।" এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে সোমবার ফের কেন্দ্রের সাথে বৈঠক করতে চলেছে আন্দোলনরত কৃষকরা। এদিন বৈঠকে রফাসূত্র না হলে, তার ফল কী হতে পারে তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন যোগেন্দ্র যাদব। তিনি জানান,"৪ তারিখ যদি দাবি মানা না হয় তাহলে হরিয়ানার সব পেট্রোল পাম্প, শপিং মল বন্ধ হওয়া শুরু করবে। কুণ্ডলী-মানেসর-পাল ওয়ালে বুধবার মিছিল করব আমরা। হরিয়ানা, রাজস্থানের শাহজাহানপুর সীমান্তে আমাদের যে কৃষকরা রয়েছেন ধর্নায়, তারা দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেবে।"


অন্যদিকে কৃষি আইন এর সমর্থনে কেন্দ্রকে চিঠি লিখেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৮৬৬ জন অধ্যাপক ও শিক্ষক। জেএনইউ, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় সহ দেশের প্রথম সারির বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা চিঠিতে লেখেন, নতুন আইনে কৃষকদের শস্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বজায় থাকবে। কেউ কৃষকদের ভাত কাটতে পারবে না। একদিকে যখন এই চিত্র অন্যদিকে তখন তামিলনাড়ু থেকে সমর্থন পেলেন আন্দোলনরত কৃষকরা। সম্প্রতি কেরলের পাস হয়েছে কৃষি আইন এর বিরুদ্ধে প্রস্তাব। এবার তামিলনাড়ুতে ও তেমন করতে চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীই পালানিস্বামীকে চিঠি লেখেন ডিএমকে সভাপতি এমকে স্তালিন। এই পরিস্থিতিতে ৪ তারিখের বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only