শনিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২১

বাংলাদেশের ঘিঞ্চি ক্যাম্প থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপঃ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের হাল-হকিকত



পুবের কলম আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে ২০২০ ডিসেম্বর। মায়ানমারের আরাকান বা রাখাইন থেকে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির। সেখানে প্রায় আড়াই বছর কাটিয়ে আবার বিচ্ছিন্ন ভাসান চর দ্বীপ। ২ বছর ৪ মাসের ব্যবধানে যাযাবরের মতো জীবন কাটছে রোহিঙ্গা মুসলিমদের। প্রথমে ৪ ডিসেম্বর এবং তারপর ৩০ ডিসেম্বর জাহাজে চাপিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে ভাসান চরে পাঠানো হয়। বাংলাদেশের পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কড়া নজরদারিতে দু-দফায় ৩৪০০ রোহিঙ্গাকে বন্যাপ্রবণ ওই দ্বীপে পাঠানো হল। সেখানে মোট ১ লক্ষ রোহিঙ্গাকে ধাপে ধাপে পাঠানো হবে। সে রকমই পরিকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরের বুকে মাত্র ২০ বছর আগে জেগে ওঠা দ্বীপটাই হল ভাসানচর। বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে ৩৫ কিমি. দূরে ভাসমান এই জলাভূমি এতকাল যা জনশূন্যই ছিল। তাই সেখানে ন্যূনতম পরিকাঠামো বলে তেমন কিছুই নেই। তবে রোহিঙ্গাদের থাকার জন্য ইদানিং সেখানে রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, সৌরশক্ত, বাজারঘাট ইত্যাদি তৈরি করে দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তুরস্ক,সউদি আরব,ইন্দোনেশিয়া,মালয়েশিয়া,ইরান প্রভৃতি দেশ ওআইসি-র মাধ্যমে বাংলাদেশকে কিছু আর্থিক অনুদান দিয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে ২৫ আগস্ট থেকে কয়েক মাসে৮ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে বিতাড়িত করে বার্মিজ সেনা ও বৌদ্ধরা। বাংলাদেশে সব মিলিয়ে ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় বৃহস্পতিবার ১৮০০ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে পাঠানো হয়। ৪ ডিসেম্বর প্রথমদফায় ১৬০০ জনকে দ্বীপান্তর করা হয়েছিল। যা নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং রাষ্ট্রসংঘের তরফেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আপত্তির কারণ হল, জনবিচ্ছিন্ন প্রত্যন্ত দ্বীপে এত মানুষকে পাঠানো হচ্ছে, অথচ সেখানে উপযুক্ত পরিকাঠামো নেই, তাছাড়া ভাসান চর সমুদ্রের বুকে ভাসমান দ্বীপ হওয়ায় বন্যা, সাইক্লোনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেককেই নাকি জোর করে স্থানান্তর করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য, মায়ানমারকে চাপ দিয়ে রোহিঙ্গাদের ফেরাতে আন্তর্জাতিক মহল তেমন কোনও ভূমিকা নেয়নি। অথচ এত মানুষকে সাড়ে ৩ বছর ধরে আশ্রয় দেওয়ার পর ভাসানচরে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও অন্ধভাবে বাংলাদেশের সমালোচনাই করে চলেছে। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only