মঙ্গলবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২১

অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ শ্বশুর বাড়ির বিরুদ্ধে

 


দেবশ্রী মজুমদার, বীরভূম, ০৫ জানুয়ারী: এক অন্তসত্বা গৃহবধূকে শরীরে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পোড়ানোর অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নলহাটি থানার কয়থা গ্রামে। এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতার নাম তসলিমা নাসরিন (২১)। বাপের বাড়ি মুরারই থানার আম্ভুয়া গ্রামে। বছর ছয়েক আগে পেশায় রাজমিস্ত্রি নলহাটি থানার কয়থা গ্রামের বাসিন্দা বরজাহান শেখের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। বরজাহান মুম্বাইয়ে শ্রমিকের কাজ করেন। তাঁদের চার বছরের একটি সন্তান আছে। গৃহবধূ সাত মাসের অন্তসত্বা ছিলেন, বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। গত ২৭ ডিসেম্বর তাঁকে অগ্নিদ্বগ্ধ অবস্থায় রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার ভোররাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। অভিযোগকারী সাফিউর রহমান বলেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই মোটর বাইক সহ কিছু টাকা বাপের বাড়ি থেকে আনার জন্য আমার মেয়ের উপর নির্যাতন করতো জামাই, তাঁর বাবা সাজাহান শেখ, মা তরিমুন বিবি, বোন সাজিনা বিবি। তিনি বলেন, মেয়ে দ্বিতীয়বার অন্তসত্বা হয়ে পড়ার পর সেই অত্যাচার কয়েকগুন বেড়ে যায়। জামাই অভিযোগ করে বলে, গর্ভের সন্তান তার নয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজনেরও একই কথা বলে। গত ২৭ ডিসেম্বর এই নিয়ে মেয়েকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা। মেয়ে প্রতিবাদ করায় তাঁকে মারধর করে। পরে মুম্বাই থেকে জামাই ফোন করে তার বাবা মাকে বলে ওর গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে মারার জন্য বলে। এরপরই শ্বশুর, শাশুড়ি ও ননদ মিলে বধূর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। গৃহবধূর চিৎকার শুনে প্রতিবেশিরা দৌড়ে এলে পালিয়ে যায় তারা। পরে প্রতিবেশিরাই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে অগ্নিদ্বগ্ধ বধূকে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যালে ভর্তি করে। টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে এদিন ভোররাতে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পুলিস ইতিমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only