সোমবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২১

পাঠভবনের অধ্যক্ষার বেনিয়ম নিয়োগ বিশ্বভারতীতে



 দেবশ্রী মজুমদার, শান্তিনিকেতন, ০৪ জানুয়ারীঃ বিশ্বভারতীতে পাঠভবনে নিয়োগে বেনিয়ময়ের অভিযোগ। এব্যাপারে যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মুখ খুলতে চান নি। বারবার ফোন করলেও, ফোন ধরেন নি, টেক্সট মেসেজের কোন জবাব দেন নি। পাশাপাশি, বিশ্বভারতীর জন সংযোগ আধিকারী অনির্বাণ সরকার, একবার ফোন ধরেই, কেটে দেন। তারপর আর ফোন ধরেন নি।  


 জানা গেছে, বিশ্বভারতীর অধ্যাপক তথা অধ্যাপক সংগঠন ভিবিউফার পদাধিকারী সুদীপ্ত ভট্টাচার্য এই বেনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিশ্বভারতীর পরিদর্শক তথা রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ, আচার্য নরেন্দ্র মোদী, বিশ্বভারতীর রেক্টর তথা রাজ্য পাল জগদীপ ধনকড়, মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকসহ বিভিন্ন জায়গায় চিঠি পাঠান। অধ্যাপক সুদীপ্ত ভট্টাচার্য্যের বিরুদ্ধে “হোয়াটস এ্যাপে” কিছু কথা লিখেছিলেন। যার মধ্যে “ক্যাপ্টেন” বলতে কাকে বুঝিয়েছেন, এমন জিজ্ঞাস্য নিয়ে তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন এই পাঠভবনের অধ্যক্ষা বোধীরূপা সিনহা। এই অধ্যক্ষা ফের সুদীপ্তবাবুকে “খোস গল্প” করতে বলার দায়ে নতুন করে অভিযুক্ত করেন। তারপর বিভিন্নভাবে সুদীপ্তবাবু ও বিশ্বভারতীর তদন্ত দ্বৈরথ চলতে থাকে। এরপর সুদীপ্তবাবু বোধীরূপা সিনহার তদন্ত করার অধিকার আদৌ আছে কিনা জানতে, তাঁর নিয়োগ সঙ্ক্রান্ত তথ্য জানতে আর টি আই করেন।


তাঁতে জানা যায়, ২০০৫ সালের ৩০ এপ্রিল বোধীরূপা সিনহার নিয়োগ সংক্রান্ত বহু বেনিয়ম। তাঁর নিয়োগ পত্রের সময় তিনি দেখাতে পারেন নি, তাঁর প্রয়োজনীয় শংসা পত্র। শুধু তাই নয়, বেনিয়মে তাঁকে ৬ মাস অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। এই শংসা পত্র দেখাতে না পারায়, তিনি দিন বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন। এর মধ্যেই, বিশ্বভারতীর পাঠভবনের অধ্যক্ষার পদে তাঁকে উন্নীত করা হয়। তাঁর নিয়োগের সময় বিশ্বভারতীর উপাচার্য ছিলেন সুজিত বসু, কর্মসচিব সুনীল কুমার সরকার এবং আচার্য পদে আসীন ছিলেন মনমোহন সিং। ২০০৬ সালের ১৭ জুলাই তদাবনীন্তন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য রাজ কুমার কোনার, কর্মসচিব সুনীল কুমার সরকারের কাছে জানতে চান, বোধীরূপা সিনহার নিয়োগ সঙ্ক্রান্ত বেনিয়ম গুলো তুলে ধরেই। প্রশ্ন তোলেন, কেন বোধীরূপা সিনহাকে প্রয়োজনীয় ডিগ্রী সঙ্ক্রান্ত শংসা পত্র দেখাতে ৬ মাস সময় দেওয়া হলো? মনে হচ্ছে, নিয়োগের সময় স্নাতকত্তোর ডিগ্রির আসল প্রমান পত্র তাঁর কাছে ছিল না। সেই চিঠি তিনি তদানীন্তন রেক্টর গোপালকৃষ্ণ গান্ধীর কাছে পাঠান এবং চিঠির নীচে নোট দিয়ে লেখেন স্থায়ী উপাচার্য আসা পর্যন্ত তাঁর নিয়োগ স্থগিত রাখার মতামত দেন। সুজিত বসুর পর, রজতকান্তি রায়, সুশান্ত দত্তগুপ্ত এবং বর্তমান উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী সহ এতগুলো স্থায়ী উপাচার্য ছিলেন বিশ্বভারতীতে, কিন্তু এই বেনিয়মের উপর কোন আলোকপাত হয় নি। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, কবি গুরুর আশ্রমে নিয়ম কিভাবে অবহেলায় ভাঙা হতে পারে? প্রশ্ন তুলছেন আশ্রমিকরাও।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only