বৃহস্পতিবার, ৭ জানুয়ারী, ২০২১

দুই রাজ্যে পাঠানো হল নোটিশ,ধর্মান্তকরণ বিরোধী আইনের বৈধতা যাচাই করবে সুপ্রিম কোর্ট


               


পুবের কলম প্রতিবেদকঃধর্মান্তরণ-বিরোধী আইনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে একাধিক আবেদন জমা পড়ে সর্বোচ্চ আদালতে। প্রাথমিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ করতে নারাজ ছিল। এক আবেদনে বলা হয় ধর্মান্তরণ-বিরোধী আইন সমাজে বিভাজনের সৃষ্টি করে এবং সাধারণ মানুষের মনে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের প্রতি সন্দেহের উদ্রেক করছে। ধর্মীয় সম্প্রীতিতে আঘাত হানছে এই আইন। এরপর সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ধর্মান্তরণ-বিরোধী আইনের আদৌ বৈধতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। বুধবার এই মর্মে উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড সরকারকে নোটিশ পাঠাল শীর্ষ আদালত। ‘বিতর্কিত’ এই আইন কার্যকর হওয়ার পরই এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে একাধিক আবেদন জমা পড়ে। সেই আবেদনে বলা হয়, জোর করে ধর্মান্তরণ-বিরোধী এই আইন সংবিধানের মৌলিক কাঠামোকে বিঘ্নিত করে এবং ধর্মনিরপেক্ষতা, সমতার বদলে বৈষম্যের বার্তা দিচ্ছে।

গতবছরের ২৮ নভেম্বর উত্তরপ্রদেশে ধর্মান্তরণ-বিরোধী আইন কার্যকর করা হয়। একমাসের মধ্যেই ৫১ জনকে এই আইনের অধীনে গ্রেফতার করে পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের দেখাদেখি মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা ও হিমাচলপ্রদেশও এই আইন চালু করতে উদ্যোগী হয়। ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রদেশের মন্ত্রিসভায় এই বিল পাস হয়ে গিয়েছে।

তবে উত্তরপ্রদেশে এই আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকেই একাধিক আদালতে আইনের বৈধতা ও আইন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে পিটিশন জমা পড়ে। 

আদালতের তরফে আবেদনকারীদের হাইকোর্টগুলিতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেন, ইলাহাবাদ ও উত্তরাখণ্ড হাইকোর্টে এই বিষয়ে আবেদন দাখিল করা হয়েছে এবং শুনানি বাকি রয়েছে। আপনারা সেখানে যাচ্ছেন না কেন?

এর জবাবে আবেদনকারীদের তরফে হাজির প্রতিনিধি কাউন্সিল সিইউ সিং বলেন,একাধিক রাজ্য এই আইন পাস করতে চলেছে। সুতরাং এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টেরই পর্যবেক্ষণ করা উচিত। মধ্যপ্রদেশের খসড়া আইনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ১০ বছরের সাজার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং প্রমাণের বোঝাও অভিযুক্তের উপরই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই আইনের বেশ কিছু ধরা যেমন ভয়াবহ, তেমনই বিয়ের আগে সম্মতির জন্য আবেদন করার বিষয়টি ঘৃণ্য একটি বিষয়।

আরেকটি পিটিশনে জানানো হয়,বিভিন্ন হাইকোর্টে ধর্মান্তরণ-বিরোধী আইনের বিরুদ্ধে দাখিল হওয়া অভিযোগগুলি সুপ্রিম কোর্টের নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত। আবেদনে আরও বলা হয়,ধর্মান্তরণ-বিরোধী আইন সমাজে বিভাজনের সৃষ্টি করে।

আবেদনকারীদের সমস্ত আর্জি শুনে প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে বলেন,আমরা এই বিষয়ে দুই রাজ্যকেই নোটিশ পাঠাচ্ছি। চার সপ্তাহ বাদে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য আদালতে তোলা হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only