বুধবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

৩১ শিক্ষকের মধ্যে ১৫ জনই বদলি, সমস্যায় স্কুল

রাবিয়া বেগম, বহরমপুর: রাজ্য সরকার শিক্ষকদের বদলির নিয়ম চালু করায় অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকারই সুবিধা হচ্ছে কিন্তু নিয়মের অপব্যবহার হলে যে তা সমস্যায় পরিণত হয় তার বড় দৃষ্টান্ত মুর্শিদাবাদের  সামশেরগঞ্জ থানার ডিবিএস হাইমাদ্রাসা এই মাদ্রাসার ৩১জন শিক্ষকের মধ্যে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের অনুমতি নিয়ে বদলি হয়ে চলে গেছেন ১৫ জন শিক্ষক নতুন শিক্ষক এসেছে মাত্র জন সবমিলিয়ে মাদ্রাসায় এখন মাত্র ১৮ জন শিক্ষক ফলে পড়াশোনায় সমস্যা দেখা দিয়েছে

পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত মোট ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ৩১০০ জন বেশ কয়েকটি বিষয়ের একজন শিক্ষকও নেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কোনও শিক্ষক নেই রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কোনও ক্লাস হচ্ছে না বাংলার তিনজন শিক্ষক চলে গেছেন আছেন মাত্র বাংলার একজন শিক্ষক

ডিবিএস হাইমাদ্রাসার এই কর্মকাণ্ডের জেরে অনিশ্চয়তার মুখে ৩১০০ জন ছাত্র-ছাত্রীর ভবিষ্যত সামনেই মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা যার জেরে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছে দশম দ্বাদশ শ্রেণীর পড়ুয়ারা

জানা গেছে, সামশেরগঞ্জ থানার অর্ন্তগত ঝাড়খন্ড সীমান্তে অবস্থিত ডিবিএস হাইমাদ্রাসাটি একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এতজন শিক্ষক একসঙ্গে বদলি হয়ে গেল অথচ ডিআই বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কিছুই জানেন না স্বভাবতই বিষয়টি হাজারো প্রশ্ন উঠছে পড়ুয়া থেকে শুরু করে অভিভাবকগ্রামীবাসী সহ সব মহলেই



অন্যদিকেদুবছর ধরে প্রধান শিক্ষকের সমস্যায় জর্জরিত ডিবিএস হাই মাদ্রাসা সূত্রের খবর২০১৯ সালে এক দীর্ঘসময় ধরে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষকের টিকি দেখা যেতনা ছাত্র-ছাত্রী অভিভাবকদের যৌথ আন্দোলনের জেরে কলকাতা হাইর্কোট তাকে অন্য মাদ্রাসায় কাজে যোগ দেবার নিদান দেন কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাত কারণে প্রধান শিক্ষক অন্য মাদ্রাসায় কাজে যোগ দেননি এবং ডিবিএস হাই মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক হিসাবেই বেতন নিচ্ছেন তিনি এরপর লক ডাউনের জেরে এক দীর্ঘ সময় ধরে মাদ্রাসা বন্ধ থাকে সোমবার মাদ্রাসার সহ-শিক্ষক ওয়াসিম রাজাকে টিআইসি চার্জ দেওয়া হয়

নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি চালু হওয়ায় শিক্ষক সংখ্যা কম হলেও চলছে

বিষয়টি সর্ম্পকে মুর্শিদাবাদ জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শন অমরকুমার শীলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনরাজ্য শিক্ষা দফতর থেকে শিক্ষক বদলি করা হয় সেক্ষেত্রে ডি.আই অফিসের এখন কোনও ভূমিকা না থাকায় আমি কোনও মন্তব্য করব না তৃণমূল কংগ্রেস মাধ্যমিক শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি সেখ ফুরকান জানানএকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৫ জন শিক্ষক একসঙ্গে বদলি নিয়ে চলে যাওয়া ঠিক হয়নি আসলে এই বদলির ব্যাপারে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বা জেলা শিক্ষা দফতরকে কিছুই জানানো হয়না যার ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হলে রাজ্য শিক্ষা দফতর জানতে পারে না পদ্ধতিগত কোনও ত্রুটি থেকে যাচ্ছে চাপা গলায় দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র সাহাদাত হোসেনের অভিযোগদীর্ঘদিন মাদ্রাসা বন্ধ ছিল ক্লাস হয়নি ১২ তারিখে মাদ্রাসা চালুর পর জানতে পারি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের শিক্ষক চলে গেছেন সামনেই পরীক্ষা রাষ্ট্রবিজ্ঞানের কোনও ক্লাস হচ্ছে না মাঝখান থেকে যত সমস্যায় পড়েছি আমরা পরীক্ষার্থীরা সবমিলিয়ে দীর্ঘদিন পর মাদ্রাসা চালু হলেও ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষকের অভাবে পড়াশোনা লাটে উঠেছে বলা যায়

 

 

 

 

 

 

 

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only