সোমবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

উত্তরাখণ্ডের হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে সন্তান, ঘটনাস্থলে বসে মা কুকুর

 উত্তরাখণ্ড: বছর অনেক মৃত্যু দেখেছে মানুষ, তবে নিঃশব্ধে আচমকা এমন মৃত্যু কারওর কাছেই কাক্ষিত  ছিল না। একটা ধ্বংসলীলা সবকিছু মূহূর্তেই তছনছ করে দিয়েছে। কারওর সন্তানের খোঁজ মেলেনি এখনও তো কারওর বাবার আবার কারওর আত্মীয়-স্বজনের। সবটা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে জলের তোড় আর শুধুই পড়ে আছে কাছের মানুষকে হারানোর নিদারুণ যন্ত্রণা। এখনও মৃত্যু মুখ থেকে যাঁরা ফিরে এসেছেন তাঁরা কথা বলার শক্তিটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন ঘটনার বীভৎসতায়। উত্তরাখণ্ডের হড়পা বানে সব মিলিয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন প্রায় ২০০ জন। তার মধ্যে ৫০ জনের দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ ১৫০ জন। যদিওপ্রতি মূহূর্তে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা তপোবন- বিষ্ণুগড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প প্রায় ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। যাদের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি তাদের অপেক্ষায় পরিবার পরিজনরা ঘটনাস্থলে আজও পথ চেয়ে। আর ঠিক এমনভাবেই ঘটনাস্থলে আজও শিশুদের খোঁজে যন্ত্রণায় মাঝেমাঝে কেঁদে উঠছে একটি মা কুকুর।


জানা যায়,  ওই দুর্ঘটনার পর থেকেই কুকুরটি ওখানেই বসে কাঁদছে। প্রথমে যদিও বিষয়টি কেউ বুঝতে পারেনি। কিন্তু পরবর্তীতে কারওর বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, আদতে এটা সন্তান হারানোর কান্না। উদ্ধারকারীদের স্থানীয়রা জানান, হড়পা বানে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া বিদ্যুৎ প্রকল্পের মধ্যে ছোট্ট একটি স্থানে নিজের চার সন্তানকে নিয়ে থাকত কুকুরটি। কিন্তু ঘটনার দিন চকিতে জলের তোড়ে সব ভেঙেচুরে পড়ার পর কোনওমতে নিজে বাঁচলেও সন্তানদের ফেলে রেখে আসতে হয়েছে ওই ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই। তাই এই অঝোর ধারা। এমনকী ঘটনার দিন থেকে কিছুই মুখে তোলেনি বলেও জানা যায়। অনেকেই খাওয়ার এগিয়ে দিলেও তা ছুঁয়েও দেখেনি কুকুরটি। শুধু এদিক-সেদিক উদভ্রান্তের মতো শুঁকে বেড়াচ্ছে। হয়তো-বা ফিরবে সন্তানেরা সেই আশায়। উদ্ধারকারীরা বলছেন, যেভাবে প্রত্যেকদিন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে,  তেমনই ওই ধ্বংসস্তুপের মধ্যে হয়তো কোথাও চাপা পড়ে মারা গিয়েছে কুকুরছানাগুলি। বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলে চলে। কিন্তু সে কথা কার সাহস আছে এক সন্তান হারানোমা’-কে বোঝায়! সে পশু হোক বা মানুষ, এই একটা জায়গায় বোধ হয় কোনও ফারাক নেই মানুষে পশুতে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only