সোমবার, ২৯ মার্চ, ২০২১

সন্তানসম্ভবা অবস্থায় ভালো ঘুমের গাইডলাইন

সন্তানসম্ভবা অবস্থায় অনিদ্রার কারণে মা শিশু উভয়েরই ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই সন্তানসম্ভবা অবস্থায় কীভাবে ঘুমোবেন সে বিষয়ে জানাচ্ছেন বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ইন্দ্রনীল সাহা।


পেরিয়ে
এলাম আরও একটা বিশ্ব ঘুম দিবস। ২০০৮ সাল থেকে পালন করা হচ্ছে এই দিনটি। প্রতি বছর বসন্ত বিষুবের আগের শুক্রবার অর্থাৎ মার্চ মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার ঘুম দিবস পালন করা হয়। সমীক্ষা বলছেসারা বিশ্ব এখন অনিদ্রার কম বেশি শিকার। প্রায় ৪৫  শতাংশ মানুষ অনিদ্রার শিকার। আর সন্তানসম্ভবা অবস্থায় অনিদ্রার কারণে মা শিশু উভয়েরই ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।

নতুন প্রাণ বেড়ে উঠছে  মায়ের শরীরে। এই অবস্থায় সমস্ত মহিলার খাওয়াদাওয়া,  হাঁটাচলা এমনকী শোওয়ার ধরনের ওপরেও নির্ভর করে গর্ভস্থ সন্তানের ভালো থাকা। গর্ভাবস্থায় ক্লান্তি, সারাদিন ঘুম পাওয়া স্বাভাবিক হলেও ঘুমোতে গেলেই অনেকে অস্বস্তিবোধ করেন। কোনভাবে শোওয়া হলে শান্তি পাবেন, বুঝে উঠতে পারেন না। অনেকের যেমন স্লিপিং পজিশন বা শোওয়ার ধরন সম্পর্কে তেমন ধারণা থাকে না। তেমনি কেউ কেউ আবার বিভিন্ন জনের বিভিন্ন উপদেশ শুনে বিভ্রান্ত। তাই সবারই জানা দরকার কীভাবে ঘুমোলে মা গর্ভস্থ সন্তান দুজনেই সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।  তবে এও ঠিক, একেক জন প্রেগন্যান্ট মহিলার ধরন একেক রকম। শুধু তাই নয়, কারও প্রথম সন্তানের সময় যে সমস্যা হয় দ্বিতীয় সন্তানের সময় আলাদা সমস্যা হতে পারে। কাজেই এটা একটা মোটামুটি গাইডলাইন। তার মানে এমন নয় যে এর কোনওরকম হেরফের হবে না।

প্রেগন্যান্ট মহিলাদের জন্যএসওএস’ (Sleep on Side) ভঙ্গিতে অর্থাৎ যে কোনও এক পাশে ফিরে শোওয়া সবচেয়ে ভালো। ডান দিক বা বাঁ দিকযেদিকে যিনি আরাম পাবেন সেদিকে ফিরেই শুতে পারেন। তবে আমার মতেবাঁদিকে ফিরে শোওয়া বেশি উপকারী। কারণ বাঁদিকে ফিরে শোওয়া হলে জরায়ু সহ সারা শরীরে রক্ত চলাচল ভালো হয়। ফলে মায়ের সঙ্গে সঙ্গে গর্ভস্থ শিশুও ভালো থাকে।

কেউ যদি আরাম পান তাহলে পা এবং হাঁটু মুড়েও শুতে পারেন। তবে দুপায়ের মাঝে বালিশ রাখতে ভোলা চলবে না। যদি পিঠে বা কোমরে ব্যথা হয় তাহলেএসওএসপদ্ধতিতে শোওয়াই অভ্যাস করুন। পেটের নীচে একটা বালিশ রেখে দেবেন। তাতে শরীর বেশি আরাম পাবে।

গর্ভাবস্থার শেষের দিকে পেট অনেক বড় হয়ে যায় বলে তখন শুয়ে আরাম হতে চায় না। তেমন হলে পেটেরপিঠের বা দুই হাঁটুর মাঝখানে নরম বালিশ রাখতে পারেন। এতে অস্বস্তি কমবে।

মাথার দিকটা একটু উচুতে রাখলে এই সময়ে যে অম্বলের জন্য গলাবুক জ্বালার  সমস্যা হয় তার থেকেও দূরে থাকা যায়। এতে অ্যাসিড ওপরদিকে উঠতে পারেনা।

 

গর্ভাবস্থায় ভালো ঘুমের কিছু টিপস

 ঘর পুরো অন্ধকার করে নিন। এতে সমস্যা হলে হালকা আলোর নাইট ল্যাম্প জ্বালতে পারেন। তবে সেই আলো ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটায় সেদিকে খেয়াল রাখুন।

 প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমোতে যান। সকালে একই সময়ে ওঠার চেষ্টা করুন।

 যখন তখন বিছানায় শোবেন না। রাতে ঘুমানোর জন্যই শুধু বিছানা ব্যবহার করবেন।

 ঘুমনোর আগে কোনও বই পড়া বা হালকা প্রাণায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলতে পারেন।

 মানসিক চাপ মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন।

 রাতে ঘুমনোর আগে েমাবাইল ঘাটবেন না।

 বেশি রাত পর্যন্ত টিভি দেখেবেন না। বরং ভালো গান শুনতে পারেন।

 রাতের দিকে বেশি মশলাদার খাবার না খাওয়ার চেষ্টা করবেন। 

অনুলিখন: ­ শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only