রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

বন্দিদশা কাটিয়ে সউদি থেকে মুর্শিদাবাদে ফিরছেন খলিলুর

আসিফ রেজা আনসারী: মুর্শিদাবাদের ডোমকলের বাসিন্দা খলিলুর রহমানের অভাবের সংসার সেই নুন আনতে পান্তা ফুরানো' সংসারের হাল ধরতে কাজে গিয়েছিলেন সউদি আরবে গিয়ে দেখেন প্রতারিত হয়েছেন তিনি তারপর কেটেছে প্রায় পাঁচ-পাঁচটি বছর ভারতীয় দূতাবাস থেকে সউদি আদালত, নেতা মন্ত্রী এমন কেউ নেই যাঁর দ্বারস্থ হননি কিন্তু কারও কাছেই তেমন সাড়া পাননি খলিলুর রহমান অবশেষে সমাজকর্মী সাদিকুল ইসলামের সাহায্যে বাড়ি ফিরছেন তিনি বিগত কয়েক বছরের কথা শোনাতে গিয়ে একপ্রকার কেঁদেই ফেলেন খলিলুর রহমান তবে আর যাই হোক বাড়ি ফিরছেন সব দুঃখ দূর হয়ে গেছেবলতেই ফের আবেগে কাঁদতে থাকেন খলিলুর রহমান শুধু তাই নয় যাঁর জন্য দেশে ফিরছেন সেই সাদিকুলের জন্য আল্লাহ্র দরবারে দোয়াও করছেন একদিকে যখন প্রশংসা অন্যদিকে সাদিকুল ইসলামের জবাব সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন করেছি মানুষ হিসাবে যা করা উচিত এটা তার সামান্য কাজ




প্রসঙ্গত
,  খলিলুর রহমানের বাড়ি মুর্শিদাবাদ জেলার ডোমকল থানার অন্তর্গত বাটিকামারি গ্রামে তিনি ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাঝামাঝি কাজের জন্য সউদি আরবে যান সেখানে গিয়ে জানতে পারেন দালার তাঁকে মিথ্যা প্রতিশ্রতি দিয়ে আরবে পাঠিয়েছে দেখা যায় প্রায় ছয় মাস কাজ করার পর সেই কোম্পানি বন্ধ হয়ে যায় তিনি পরে অন্য একটি কোম্পানিতে কাজে যোগ দেন চুক্তি হয় কিছুদিন দেশে ফিরতে পারবেন না প্রয়োজনেও তাঁকে দেশে ফিরতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ

খলিলুর রহমানের অভিযোগ সংস্থার তরফে বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় কিন্তু অপেক্ষার পর অপেক্ষা করলেও দেশে ফেরানোর বন্দোবস্ত হয়নি এরই মাঝে আমার আকামা (ভিসা)- মেয়াদ শেষ হয়ে যায় সংস্থার তরফে নতুন আকামা বানিয়ে দেশে পাঠানোর কথা থাকলেও সময় পেরিয়ে যায় প্রায় এক বছর ততক্ষণে এই কোম্পানিতে কাজের সময় সাড়ে চার বছর পার হয়েছে অন্যান্য চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়ার ফলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়

অভিযোগ কোম্পানির তরফে ছয় মাসের বকেয়া মাইনে থাকা খাওয়া সব বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন খলিলুর রহমান তাঁর বন্ধুরা মিলে লেবার অফিসে অভিযোগ জানান এই সব করতে আরও অনেকটা সময় পেরিয়ে যায় হাতের টাকাও শেষ হতে থাকে অন্যদিকে লেবার অফিসে মালিকপক্ষ হাজির না হওয়ায় মামলাটি সউদি আদালতে চলে যায় এরপরই করোনা আবহে লকডাউন শুরু হয় ফলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে পড়ে

খলিলুর রহমান জানান এরই মাঝে তিনি কোমরের যন্ত্রণার শিকার হন ডাক্তার দেখানো টাকাও তখন নেই কাজের সন্ধান করতে থাকেন কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি তিনি ভারতীয় দূতাবাসে যোগাযোগ করে বাড়ি ফেরার জন্য আবেদনও করেন ততদিনে তাঁর কোমর পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত তীব্র যন্ত্রণা শুরু হয়েছে সরকারি হাসপাতালে তাঁকে ওষুধ ইঞ্জেকশন দেওয়া হয় তাতেও কোনও কাজ হয়নি দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকে

খলিলুর রহমান আরও জানান, তিনি ভারতীয় দূতাবাসে সপ্তাহে দুবার করে -মেল পাঠিয়েছিলেন কিন্তু কেউ সাহায্য করেনি প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যোগাযোগ করা হয় ট্যুইট করে সমস্যার কথা জানানো হয় সাত মাস ধরে এভাবেই কাটে তারপর তিনি সমাজকর্মী সাদিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন সাদিকুল ইসলামই বিভিন্ন দফতরে দোড়-ঝাঁপ শুরু করেন অবশেষে দেশে ফিরছেন খলিলুর রহমান

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only