শুক্রবার, ৫ মার্চ, ২০২১

নতুন মুখ বসিরহাট দক্ষিণে, বাদুড়িয়া, স্বরুপনগর, হাড়োয়া, হিঙ্গলগঞ্জ,মিনাখাঁ, সন্দেশখালি পুরনোতেই আস্হা

ইনামুল হক, বসিরহাট:সকাল থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। দুপুর গড়াতেই সেই উত্তেজনার অবসান হল। মনের মত প্রার্থীকে পেয়ে খুশি তৃণমূল কংগ্রেস  কর্মী  থেকে এলাকার বাসিন্দারা।  বিজেপিবাম কং ও আই এস এফ জোট কে গুরুত্ব দিতে নারাজ বাদুড়িয়া, স্বরূপনগর, হাড়োয়া হিঙ্গলগঞ্জ সহ বসিরহাটের অধিকাংশ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। অধিকাংশ কেন্দ্রে কাছের মানুষকে প্রার্থী হিসেবে পেয়ে খুশিতে মাতল তারা। তবে  নতুন মুখ বসিরহাট দক্ষিণ কেন্দ্রে। বিদায়ী বিধায়ক ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস এর জায়গায় এলেন ডঃ সপ্তর্ষি ব্যানার্জি। বসিরহাট পৌরসভার ১৩ নম্বর  ওয়ার্ডের কালীবাড়ি পাড়ার বর্ধিষ্ণু ব্যানার্জি পরিবারের সন্তান।  চক্ষু বিশেষজ্ঞ ড. সপ্তর্ষী ব্যানার্জির বাবা গৌতম ব্যানার্জি বসিরহাট মহকুমা আদালতের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী।  



আইনজীবীর সুবাদে বহু মানুষের সঙ্গে মেলামেশার রয়েছে এই তৃণমূল কংগ্রেস পরিবারেরএকটি বেসরকারি চক্ষু কেন্দ্রে  বহু মানুষের স্বল্প ব্যয়ে  চক্ষু পরীক্ষা অন্যদিকে চক্ষু অপারেশনের অনবদ্য দৃষ্টান্ত রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। ডা: সপ্তর্ষি ব্যানার্জির।তাকে প্রার্থী করায় স্বাগত জানিয়েছে দলীয় কর্মীরা। জেতার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।বাদুড়িয়ার মানুষের সঙ্গে  দীর্ঘ ৭০ বছরেরও বেশি সময় এর সম্পর্ক  বর্ষীয়ান নেতা তথা আটবারের  বিধায়ক প্রয়াত  কাজী আব্দুল গফফার সাহেবের পরিবারের। সেই পরিবারের সন্তান কাজী আবদুর রহিম দিলু কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের যোগ দেওয়ার  পর প্রার্থী হওয়া ছিল কেবলই সময়ের অপেক্ষা।  তার বক্তব্য, বাদুড়িয়ার মানুষ সচেতন। তারা জানে আমি বাদুড়িয়ার মানুষকে ছেড়ে যাইনি। বাম কংগ্রেস, আইএসএফজোট নিয়ে ভাবছি না। বাদুড়িয়ার মানুষ একসাথে  লড়বেন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে। 

দু'বারের বিধায়ক বীনা মন্ডল এবারও স্বরূপনগর (তপ.) কেন্দ্রের প্রার্থী। বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি। বীনা মন্ডলের তৃতীয়বারের জন্য বিধায়ক হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা এমনই মত স্বরূপনগরের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী সমর্থকদের। লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে এই কেন্দ্রে বিজেপির থেকে তৃণমূল কংগ্রেস প্রায় পঁচিশ হাজার ভোটে এগিয়ে। অন্যদিকে হাড়োয়ায় দ্বিতীয়বারের জন্য প্রার্থী পদ পেলেন হাজী নুরুল ইসলাম। তিনি জানানসততার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেওয়ার জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়  ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানাই।হাড়োয়ার মানুষ সাথে আছে বিশ্বাস করি। বিজেপি জোটের কোনো প্রভাব পড়বে না। এই কেন্দ্রে ২০১৬ নির্বাচনে ৪৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে  জিতে ছিলেন বসিরহাটের প্রাক্তন সাংসদ হাজী নুরুল। এই কেন্দ্রে  ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে ৯৮,৫০০ ভোটে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস।হিঙ্গলগঞ্জ (তপ.)কেন্দ্রে দ্বিতীয়  বারের জন্য প্রার্থী হলেন দেবেশ মন্ডল। সন্দেশখালি( তপ.উপ.) কেন্দ্রেও দ্বিতীয়বারের জন্য প্রার্থী সুকুমার মাহাতো ও মিনাখাঁ কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রার্থী হলেন ঊষা রানী মন্ডল।  মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নকে সামনে রেখেই মানুষ তৃণমূল কংগ্রেস কে ভোট দেবেন বলে তারা আশাবাদী। 





বসিরহাট উত্তর বিধানসভা  কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন রফিকুল ইসলাম মণ্ডল। সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগদান করে ১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূল কংগ্রেস দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একই মঞ্চে থাকতেন।  ২০১৬ সালে তৃণমূল প্রার্থী দাবিদার ছিলেন। কিন্তু দল সেদিন রফিকুল ইসলাম মণ্ডলকে প্রার্থী করেনি। ফলে তিনি ফের যোগদান করেছিলেন সিপিএমে। ২০১৬ নির্বাচনে বাম কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হয়ে তৃণমূলের এটি এম আব্দুল্লাহ রনিকে ৪৯৮ ভোটে হারিয়ে দিয়েছিলেন।  বছর খানেক আগে  রফিকুল ইসলাম তৃণমূলে যোগদান করে। তাকে বসিরহাট উত্তর বিধানসভা তৃণমূলের  প্রার্থী করায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ ক্ষুব্ধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যে গত পাঁচ বছর ধরে এলাকায় তৃণমূলের সংগঠন করে আসছে এটিএম আব্দুল্লাহ রনি। সেইই টিকিটের ন্যায্য দাবিদার।আজ প্রার্থী ঘোষণা হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে তৃণমূলের একাংশ। তারা মাটিয়া থানার ধান্যকুড়িয়া নেহালপুর টাকি রোডে দফায় দফায় গাছের গুঁড়ি ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন। ঘটনাস্থলে আসে মাটিয়া থানার পুলিশ। রফিকুল ইসলাম মণ্ডল  বলেন, দল তাকে প্রার্থী করেছে। সমস্ত স্তরের দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে তৈরি মমতা ব্যানার্জির সৈনিক হিসেবে লড়াই করব। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মানুষের জয় হবেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only