বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১

ঋতু পরিবর্তনে সাবধানে থাকুন

বসন্তের শুরুতে এখন ভোররাতের তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে এবং দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে দিন-রাতের তাপমাত্রার এই ওঠানামার ফলে কিছু কিছু ভাইরাস আমাদের শরীরে আক্রমণের সুযোগ করে নিচ্ছে আর তার ফলেই হচ্ছে জ্বর গলায় ব্যথা সর্দিকাশি প্রতিরোধের উপায় জানাচ্ছেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন শ্রীরামপুর শাখার সভাপতি ডা. প্রদীপ কুমার দাস।

 


এখন গরম-ঠান্ডা আবহাওয়ায় করোনা সংক্রমণের ধীর উর্দ্ধগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে নতুন নতুন স্ট্রেনেরও সন্ধান পাওয়া গেছে ভাইরাসেরজিনোম সিকোয়েন্সে' এটা ধরা পড়েছে পাঞ্জাব, ছত্তিশগড়, কেরল, তেলেঙ্গানা,  মহারাষ্ট্র জম্মু-কাশ্মীরে করোনা সংক্রমণের উর্দ্ধ রেখচিত্র লক্ষিত হচ্ছে ভোটপালার দামামাতে করোনা প্রতিরোধী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা প্রায় শিকেয় উঠেছে অধিকন্তু নতুন স্ট্রেনের চারিত্রিক বদলের জন্যে চিরাচরিত লক্ষণ যেমন জ্বর, গলায় ব্যথা, সর্দিকাশির জায়গায় দেখা যাচ্ছে হঠাৎ করে বমি,  পেটব্যথা, উদরাময় রোগের কারণ সম্বন্ধে রোগী চিকিৎসকের কাছে ধোঁয়াসা তৈরি হচ্ছে রোগ শনাক্তকরণে দেরি হয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা বিভ্রাটের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রোগীর অবস্থা অতি দ্রুত সংকটজনক হয়ে যাচ্ছে যদিও এখন ফ্রন্টলাইন করোনা যোদ্ধাদের টিকাকরণ চলছে এর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ত্রিশ কোটির কাছাকাছি এখনও বহু লোকের টিকাকরণ করা সম্ভব হয় নি তাই এদেরও আগামীদিনে করোনায় সংক্রামিত হওয়ার আশংকা থাকছেই হার্ড ইমিয়ুনিটি তৈরি হতে বহুদিন লেগে যাবে সেই কারণে এই গরম-ঠান্ডা পরিবেশে যেমন করে অন্যান্য রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে তেমনি করোনা সংক্রমণের প্রকোপও বাড়ার সম্ভাবনা বেশি সেই সঙ্গে ঠান্ডা কমতেই সর্দিকাশি-জ্বরে বেহাল অবস্থা বঙ্গবাসীর 



বাড়ি বাড়ি দেখা দিচ্ছে জ্বর, কাশিসহ ভাইরাসজনিত কিছু সাময়িক অস্বস্তিকর রোগের ভোরবেলা শীত শীত ভাব আবার সারাদিন গরমও রাত হলে আবার শীত শীত ভাব আবহাওয়া তাপমাত্রার খামখেয়ালিপনার সঙ্গে ঠিকমত মানিয়ে নিতে পারছে না আমাদের শরীর বিশেষ করে শিশু বয়স্করা আর তার ফলেই দেখা দিচ্ছে কিছু সাময়িক অস্বস্তিকর রোগের ঋতু পরিবর্তনের ফলে জ্বরের এই প্রকোপ নতুন কিছু নয় তবুও এবার যেন এটা একটু বেশিমাত্রায় দেখা দিয়েছে আর ভয়েরও কারণ করোনা

আমাদের দেহ সব সময় পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে চলতে ভালবাসে পরিবেশের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক ভাবে বাড়ে দেহের বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় সেই তাপমাত্রাকে কমানোর জন্য আমাদের ঘাম হয় ঘামের মাধ্যমে দেহ ঠান্ডা হয় ঠিক একই ভাবে পরিবেশের তাপমাত্রা কমে গেলে দেহেরও তাপমাত্রা কমতে থাকে তখন শীত শীত ভাব হয় এটাকে আটকানোর জন্য গরম জামা কাপড় পরতে হয় যাতে করে তাপটা দেহের বাইরে বেশি বেরিয়ে যেতে না পারে

কিন্তু হঠাৎ হঠাৎ করে পরিবেশের তাপমাত্রার বাড়া-কমাকে দেহ ঠিকমত মানিয়ে নিতে পারে না সেটা মানিয়ে নেওয়ার জন্য সময়ের দরকার হয় আর ঠিক এই সময়টার সদ্বব্যবহার করে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া, ফ্যাংগাস, পরজীবীরা হঠাৎ হঠাৎ তাপমাত্রা কমা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এদেরও বাড়বাড়ন্ত হতে থাকে আর সেই সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে জীবানুরা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে তাই এত রোগের বাড়বাড়ন্ত এইসময়ে এবছর বেশির ভাগই ভাইরাস সংক্রমণ হচ্ছে সেই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণও দেখা যাচ্ছে আবার অনেকের ক্ষেত্রে ফ্যাংগাস বা ছত্রাকজনিত চামড়ার রোগও হতে দেখা যাচ্ছে

উপসর্গ

জ্বর ­ এক্ষেত্রে খুব বেশি জ্বর উঠছে না খুব জোর দেড় থেকে দুই কিন্তু অল্পমাত্রার এই জ্বর (৯৯ থেকে ১০০) বেশি দিন ধরে থাকছে এটাই এই ভাইরাস জ্বরের বৈশিষ্ট্য

গলায় ব্যথা ­ এক্ষেত্রে নুন জলে গার্গল করলে উপকার পাওয়া যাবে বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শমত চলতে হবে

সর্দিকাশি ­ কাশিটা অনেকদিন ধরেই থাকছে তাই এইসব ক্ষেত্রে বলা হয় শরীরের আর্দ্রতাটা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বেশি করে জল খাওয়া এবং জলীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় যে ক্ষেত্রে খুব ড্রাই কাফ হচ্ছে সেক্ষেত্রে কিছু কাফ সিরাপ ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে দীর্ঘদিন সর্দিকাশি না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং তার নির্দেশানুযায়ী ওষুধ খেতে হবে

প্রতিরোধ

সকাল সন্ধ্যে গরম জামা কাপড়ে দেহটাকে গরম রাখা

দুপুর বিকেল বেলায় হালকা কাপড় পরা

বেশি পরিমাণে জল খাওয়া

ডাবের জল, ওআরএস, সরবৎ খাওয়া যেতে পারে

জ্বর থাকলে শুধুমাত্রা প্যারাসিটামল

স্নানের সময় বয়স্কদের ঠান্ডা-গরম জল মিশিয়ে স্নান করা

সহজ পথ্য,  ভালো ডাল, শাকসবজি, ফল বা ফলের রস, টাটকা খাবার খাওয়া

জ্বর হলে পূর্ণ বিশ্রামে থাকা

ধুলোময়লা এড়িয়ে চলা

ভিটামিন বি কমপ্লেক্স খাওয়া

প্রয়োজন না হলে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ প্রয়োগ না করা

এই সময়টাতে স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থেকে নিজেকে সুস্থ রাখার জন্য কিছু নির্দেশ মেনে চলা প্রয়োজন উপরোক্ত নির্দেশ ছাড়াও চাই কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া এরকম পরিবেশে মশককুল অতি সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে তার জন্য বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে জমা জল যাতে না থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে রাতে মশারি টাঙিয়ে শুতে হবে ওআরএস এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে জল খেতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজের থেকে কোনও ওষুধ খাওয়া চলবে না

করোনার কারণে মুখে মাস্ক পরা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চলা ঘনঘন হাত ধোওয়ার অভ্যেস চালিয়ে যেতে হবে যাঁদের টিকাকরণ হয়ে গেছে তাঁরা যেন মনে না করেন যে আর কোনও সুরক্ষাবর্ম ব্যবহার করতে হবে না তাঁদেরও ব্যবহার করতে হবে যে টিকা তাঁরা নিচ্ছেন তার দ্বারা প্রতিরোধ ক্ষমতা সুরক্ষিত থাকতে পারে ছয় মাস থেকে নয় মাস এরপরেই তাঁরা সুরক্ষিত বলে গণ্য হবেন না এই টিকাকরণের পরীক্ষামূলক পর্যায় চলছে সব ফলাফল পেতে আমাদের ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করতে হবে সেই সময়টা পুনরায় সংক্রমণ রোধ করার জন্যে করোনা সুরক্ষাবর্ম ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ

সাক্ষাৎকার ­ ওসিউর রহমান

 

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only