মঙ্গলবার, ২৩ মার্চ, ২০২১

দাঙ্গায় দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে প্রায়-উন্মাদ ওয়াকিল

পুবের কলম, নয়াদিল্লি: উত্তর-পূর্ব দিল্লির বাসিন্দা মুহাম্মদ ওয়াকিলের আক্ষেপ তাঁর চোখ দুটো চলে গেল দাঙ্গাবাজদের হামলায়। তিনি দিল্লি সরকারের কাছ থেকে লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন। ওয়াকিল বললেন, ‘দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেলে আর কী থাকে জীবনের? টাকায় এই ক্ষত পূরণ হয়? তবু আমি লক্ষ টাকা চেয়েছিলাম। আজও কোনও জবাব পাইনি সরকারের কাছে।’ 



এখনও তাঁর স্মৃতিতে দগদগে ২০২০-এর ফেব্রুয়ারির ঘটনা। রে রে করে যখন দুষ্কৃতীরা তেড়ে এসেছিল ওয়াকিলরা বাড়িঘর ছেড়ে স্থানীয মসজিদে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু ওরা যে মসজিদেও হানা দেবে, তা ভাবতেও পারেননি ওয়াকিলরা। একজন একটা পাত্র করে অ্যাসিড নিয়ে সোজা ছুড়ে দিয়েছিল তাঁর চোখে। তীব্র জ্বালায় কাঁদতে কাঁদতে শুয়ে পড়েছিলেন মসজিদের মেঝেতে। তারপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু দুটো চোখই চলে গিয়েছে চিরকালের জন্য।  ওয়াকিলের মতো মানুষ, যারা দিল্লি দাঙ্গার ক্ষত নিয়ে দগ্ধ-জীবন যাপন করছেনএমন মানুষের সংখ্যা কম নয়। তবে তাঁদের অনেকেই পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ পাননি। ওয়াকিল বললেন, ‘ডাক্তার বলেছেনআমার দৃষ্টিশক্তি না ফিরলেও আমি লোককে চিনতে পারব। সেই আশায় বসে রয়েছি। এই ঘটনার আগে পর্যন্ত আমার জীবন ছিল শান্তিময়। আপনি সাংবাদিক। আপনাকে চিনতে পারছি না, শুধু আপনার গলার স্বর শুনতে পাচ্ছি।দিল্লি সরকার ঘোষণা করেছিল, লক্ষ টাকা দেওয়া হবে মারাত্মক আঘাতের জন্য। লক্ষ টাকা স্থায়ী বিকলাঙ্গদের। আর মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে।

ওয়াকিলের বড় ছেলে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে এখন বাবার মুদির দোকানে বসে। নয়তো বাবার চিকিৎসার খরচ জুটবে কোথা থেকে? ওয়াকিলের ছেলে মুহাম্মদ শামিম বলল– ‘১২ ক্লাস পাশ করে ভেবেছিলাম দোকানে বসবসেই আশা আর পূর্ণ হল না।ওদের বাড়িঘর সব পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন বাড়ি ভাড়া করে থাকে। ওয়াকিলের স্ত্রী মুমতাজ বেগম বললেন, ‘স্বামীকে নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলেই হাজার টাকা খরচ। মাসে ওষুধ লাগে হাজার দুয়েক টাকার। ওই একা রোজগার করত সংসারে। এবার সংসারটা চলবে কী করে?’ সেই প্রশ্নের জবাব কে দেবে?

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only