রবিবার, ১৪ মার্চ, ২০২১

চ্যালেঞ্জের মুখে ১৯৯১ ধর্মস্থান আইন?

মুহাম্মদ আলাউদ্দিন: সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার ধর্মস্থান আইন নিয়ে কেন্দ্রকে নোটিশ পাঠানোর পর প্রশ্ন উঠছে কি ভূমিকা গ্রহণ করবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার প্লেসেস অব ওয়ারশিপ (স্পেশাল প্রভিশন) অ্যাক্ট ১৯৯১ অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট তারিখ পর্যন্ত দেশের প্রত্যেকটি ধর্মস্থল তাদের স্ট্যাটাস বজায় রাখতে পারবে ওইদিন পর্যন্ত যে যেমন সে তেমন অবস্থায় থাকবে কারও চরিত্র বদল করা যাবে না রাম জন্মভূমি আন্দোলনের পরিস্থিতিতে ১৯৯১ সালে এই আইন পাশ হওয়ার পর দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানরা কিছুটা হলেও আশ্বস্ত হয়েছিলেন যে, অযোধ্যা বাদে দেশের বাকি অংশে মসজিদ দরগাহ মাদ্রাসা আর কট্টরবাদীরা জোর করে দাবি করতে পারবে না 



২০১৯ সালে অযোধ্যা নিয়ে রায় দেওয়ার সময় সুপ্রিম কোর্টও উল্লেখ করেছে এই ধরনের আর কোনও ধর্মস্থান নিয়ে মামলা আদালত গ্রাহ্য হবে না ধর্মস্থান আইনের ধারায় রয়েছে যে, কোনও ধর্মীয় স্থানে ধর্মীয় চরিত্র ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট যেমনভাবে ছিল তেমনই বহাল থাকবে ভবিষ্যতে তারপরও নতুন করে সেই আইন নিয়ে কেন্দ্রকে নোটিশ দেওয়া হল অভিমত জানার জন্য যদি কোনও ধর্মস্থানের চরিত্র বদলের দাবি ওঠে কোনও পক্ষ থেকে তাহলে আদালতে তা বাতিল হয়ে যেতে বাধ্য ১৯৯১ সালের সেই আইন অনুযায়ী বাবরি মসজিদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর তাহলে আবার দুশ্চিন্তা কেন বাড়ছে ধর্মস্থান নিয়ে? আসলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলা ঝুলে রয়েছে আদালতে, যেগুলি নিয়ে পুনরায় উত্তেজনা তৈরির খোরাক রয়েছে সেই মামলাগুলির মধ্যে অন্যতম মথুরার কৃষ্ণ জন্মভূমি অযোধ্যা মামলার রায়ের পর ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মথুরার সিনিয়র ডিভিশন সিভিল আদালতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বিরাজমানের পক্ষ নিয়ে মামলা দায়ের হয় মন্দির সংলগ্ন শাহী ইদগাহ মসজিদ ভেঙে ফেলতে হবে বলে দাবি জানানো হয় সম্রাট আওরঙ্গজেব আলমগীর নাকি মন্দির ভেঙে শাহী ইদগাহ মসজিদ বানিয়েছিলেন এটাই নাকি শ্রীকৃষ্ণের জন্মস্থান অযোধ্যার দাবি মথুরায়

দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি দিল্লির কুতুবমিনার চত্বরের সাকেত জেলা আদালতে সিনিয়র ডিভিশন সিভিল জজ মামলা গ্রহণ করেছেন এখানে দাবি ২৭টি হিন্দু জৈন মন্দির ভেঙে কুতুব মিনার তৈরি করেছিলেন শাসক কুতুবউদ্দিন আইবক সেখানে পুনরায় পুজো–পাঠ দর্শন করার অনুমতিও দিতে হবে

তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলাটি বারাণসীর জ্ঞানব্যাপী মসজিদ নিয়ে বারাণসীর আদালতে মামলা রয়েছে প্রাচীন মন্দির ভেঙে এই জ্ঞানব্যাপী মসজিদ নির্মাণ করা হয় এটিও সম্রাট আওরঙ্গজেবের আমলে তৈরি হয়

এই ধরনের আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে দেশের বিভিন্ন আদালতে প্রতিটি মামলায় আদালতকে রায় দিতে হবে ১৯৯১ সালের ধর্মস্থান আইন অনুযায়ী, ধর্মীয় স্থানের চরত্র বদল করা যাবে না বারাণসীর মসজিদ নিয়ে আবার আদালত ইউপি মুসলিম পার্সনাল বোর্ড সহ উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নোটিশ পাঠিয়েছে তাদের অভিমত জানানোর জন্য ১৯৯১ সালের এই ধর্মীয় আইন বলবৎ থাকতে আবেদনকারীর আদালত থেকে কোনও সুরাহা না পাওয়াই স্পষ্ট হয়ে উঠছে ধর্মীয় স্থানের চরিত্র বদল করে অপরপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন ১৯৯১ আইনের চার নম্বর ধারায় সংশোধন আর সেটা সম্ভব হবে সংসদে সংশোধনীর মাধ্যমে পরিস্থিতি কি সেদিকেই গড়াবে অবশেষে, সারা দেশে তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only