সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১

জয় টিকা

কোভিডের টিকা নিয়ে কি আপনি এখনও সংশয়ে আছেন? প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রায় সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মী এই টিকা নেওয়ার পরেও সাধারণ মানুষের মধ্যে টিকা নেওয়ার ব্যাপারে এখনও অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আসলে এই টিকা সম্পর্কে সোশ্যাল মাধ্যমে ছড়ানো কিছু কিছু ভুল খবর এর জন্য অনেকাংশে দায়ী। যদিও এই টিকা একেবারেই নিরাপদ বলছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক থেকে সমস্ত চিকিৎসক।এই টিকা নিয়ে যাবতীয় সন্দেহ নিরসন করার চেষ্টা করেছেন অ্যাকসেস হেলথ ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ-এশিয়া অঞ্চলের চেয়ারম্যান ডা. কৃষ্ণ রেড্ডি।



 

এই টিকা কি নিরাপদ?

পুরোপুরি নিরাপদ।একথা ঠিকএর আগে এত কম সময়ে কোনও টিকা বাজারে আসেনি মানে প্রয়োগের ছাড়পত্র পায়নি। তার মানে এই নয়, এর কার্যকারিতা বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যাচাই না করেই তা চালু করা হয়েছে। বহু মানুষের ওপর পরীক্ষা করার পর আন্তর্জাতিক ভ্যাক্সিনের সর্বোচ্চ নিয়ামক ও নির্ধারক সংস্থার অনুমতি পাওয়ার পরেই তা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাজেই এই টিকা নেওয়ার বিষয়ে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই। বরং যত তাড়াতাড়ি নেওয়া যায় ততই ভালো।

সবার কি কোভিড ভ্যাক্সিন নিতেই হবে?

সবাইকে তো এই টিকা দেওয়া হচ্ছে না। কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। তবে যারা টিকা নেওয়ার উপযুক্ত তারা নিজেরা চাইলে তবেই নিতে পারবেন। কারও কোনও বিশেষ সমস্যা থাকলে ডাক্তারবাবুরা যদি বারণ করেন তারা বাদে অন্যদের টিকা নেওয়াই ভালো। কারণ এতে শুধু সেই ব্যক্তি নয়, তাঁর বাড়ির অন্যান্য সদস্য, বন্ধু, সহকর্মী সবাই নিরাপদে থাকতে পারবেন।

 

টিকা নেওয়ার পর কী কী সমস্যা হতে পারে?

যে কোনও টিকা নেওয়ার পর যেমন সামান্য কিছু উপসর্গ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। এক্ষেত্রেও তেমন হতে পারে। যেমন জায়গাটা একটু ফুলে যাওয়া, অল্প জ্বর আসা কিংবা মাসলে ব্যথা হওয়া।এছাড়া যাদের অ্যালার্জির প্রবণতা আছে তাদের কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যদিও তা খুবই  সামান্য। কখনওই এর থেকে সাংঘাতিক কোনও অসুবিধা হওয়ার চান্স নেই।এই কারণেই টিকা নেওয়ার পরে সেখানে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার কথা বলা হয়। যাতে কোনও অসুবিধা হলে সঙ্গে সঙ্গে তার চিকিৎসা করা যায়।

টিকা নিলে কোভিড আর হবে না তো!

টিকার দুটো ডোজ নেওয়ার পর আমাদের শরীরে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের ক্ষমতা গড়ে ওঠে। তার মানে এমন নয় যে পরবর্তীকালে এই সংক্রমণ হবে না। আসল কথা হল, টিকা নেওয়ার পর করোনা হলেও তা তত জটিল আকার ধারণ করবে না।

 হার্টের অসুখ বা ডায়াবেটিস থাকলে কি এই টিকা নেওয়া যাবে?

হার্টের অসুখ বা ডায়াবেটিস ছাড়াও অন্যান্য কো-মরবিডিটি থাকলে তাদের অবশ্যই করোনার টিকা নেওয়া দরকার। কারণ এই ধরনের ব্যক্তিরা করোনায় আক্রান্ত হলে তা বেশিরভাগ সময়ে জটিল হয়ে ওঠে। হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। তাদের অনেককে আইসিইউ এমনকী ভেন্টিলেশনে থাকতে হয়। এত করেও অনেক সময় রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। তবে সন্তানসম্ভবা মায়েদের আপাতত এই টিকা না নেওয়াই ভালো

 যারা রক্ত তরল রাখার ওষুধ খান তাদের কি এই টিকা নেওয়া উচিত?

রক্ত তরল রাখার জন্য দু ধরনের ওষুধ দেওয়া হয়। যেমন অ্যান্টিপ্লেটলেটস আর অ্যান্টিকোয়াগুলেন্টস। দ্বিতীয় ধরনের ওষুধের জন্য হিমাটোমা বা রক্তপাত হতে পারে। যেহেতু এই টিকা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে দেওয়া হয় তাই কিছু সতর্কতা মেনেই তা দেওয়া হয়। কাজেই যারা রক্ত তরল রাখার ওষুধ খান তারা টিকা নেওয়ার আগে ডাক্তারবাবুকে তা অবশ্যই জানিয়ে দেবেন। তবে অ্যান্টিপ্লেটলেটস-এর ওষুধ খেলে কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

 যাদের বয়স ৭০ বছর বা তার বেশি, তারা কি টিকা নিতে পারেন?

কো-মর্বিডিটি থাকা ও বয়স্ক লোকেদেরই করোনায় বিপদ বেশি হতে দেখা গেছে। তাই সরকার থেকেও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের আগে এই টিকা দেওয়া শুরু করেছে। কাজেই সত্তর বছর বা তার বেশি বয়সীরা নির্দ্বিধায় এই টিকা নিতে পারেন।

 

একবার কোভিডে আক্রান্ত হওয়ার পরে কি টিকা নেওয়ার দরকার আছে?

অবশ্যই দরকার আছে। কারণ একবার কোভিড হলেই যে সারাজীবন আর হবে না তেমন নয়। যে অ্যান্টিবডি তৈরি হয় তা কতদিন সুরক্ষিত রাখবে তা জানা নেই। অনেকেই দুবার এই অসুখে আক্রান্ত হয়েছেন, কাজেই টিকা নিলে অনেকটা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। 

 

টিকা নেওয়া হলেই কি মাস্কের থেকে মুক্তি মিলবে?

বিশেষজ্ঞরা বারবারই বলছেন, করোনা টিকা নেওয়ার পরেও বাইরে বেরলে মাস্ক অবশ্যই পরতে হবে, ফিজিক্যাল ডিসট্যান্সিং মানতে হবে ও বারবার হাত সাবানজল বা স্যানিটাইজার দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।  

 

সাক্ষাৎকার: ­ শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়

 

 

 

 

 

 

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only