বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

ইতিহাসবিদ, বাগ্মী ও শিক্ষাসেবী গোলাম মোর্তজার ইন্তেকাল, বাংলায় শোকের ছায়া

 



পুবের কলম, মেমারি: দুই বাংলার বাংলাভাষী মুসলিম সমাজের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব জনাব গোলাম আহমাদ মোর্তজা বৃহস্পতিবার ভোরে কলকাতার জিডি হাসপিটাল অ্যান্ড ডায়াবেটিস ইনস্টিটিউটে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না এলাইহি রাজেউনআমরা তো আল্লাহ্রই এবং আল্লাহ্র কাছেই আমরা ফিরে যাব) তিনি শ্বাসকষ্টজনিত ব্যাধিতে ভুগছিলেন। জনাব গোলাম আহমাদ মোর্তজা একাধারে ছিলেন বাগ্মী, ইতিহাসবিদ, লেখক,  শিক্ষাবিদ, সমাজসেবীসুবক্তা, অগ্রণী শিক্ষাসেবী এবং আধ্যাত্মিক দুনিয়াবি উন্নতির পথপ্রদর্শক। তিনি মনেপ্রাণে ইসলামের অনুসারি হলেও সব ধর্মের মানুষের মধ্যেই তিনি ছিলেন এক আদরনীয় ব্যক্তিত্ব। গোলাম আহমাদ মোর্তজা তাই বাংলার হিন্দু-মুসলিম সকলের মনে একজন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীর্ঘকাল সমুজ্জ্বল থাকবেন।

মহরুম গোলাম আহমাদ মোর্তজা স্বাধীনতার আগে ১৯৪৩ সালে বর্ধমান জেলার মিরেরডাঙা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী কাজী মুহাম্মাদ ঈশা হক এবং মাতা সৈয়দা নাসিফা খাতুন। তিনি গৃহ শিক্ষকের কাছেই শিক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি করজগ্রাম মাদ্রাসা থেকে কুরআন কণ্ঠস্থ করে হাফিজ হয়েছিলেন।

সদ্য যুবক গোলাম আহমাদ মোর্তজা সাহেব লক্ষ্য করেন বাংলার মুসলিমরা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নানাবিধ সমস্যায় ভুগছে। বিশেষ করে তারা আত্মবিশ্বাসের সংকটের মধ্যে রয়েছেন। নতুন পরিস্থিতিতে শিক্ষাক্ষেত্রেও তারা ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। তিনি সারা পশ্চিমবাংলা ঘুরে তাঁর বত্তৃ«তার মাধ্যমে বাংলার মুসলিম সমাজকে ইসলাম চর্চা, শিক্ষা সংগ্রামী জীবনে উদ্বুদ্ধ করতে আরম্ভ করেন। একইসঙ্গে তিনি সমাজে উন্নতির জন্য সমাজসেবামূলক কাজ এবং ইসলামি শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক শিক্ষাতেও অগ্রণী হওয়ার জন্য উদ্যোগ নিতে বলেন। কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ পর্যন্ত বহু স্থানে তিনি বিভিন্ন জালসায় গিয়ে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেন এবং প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তিনি বহু গ্রন্থও রচনা করেন। তাঁর পুস্তক সম্রাট, ইতিহাসের ইতিহাস, বাজেয়াপ্ত ইতিহাস, চেপে রাখা ইতিহাস, সিরাজুদ্দোলার সত্য ইতিহাস রবীন্দ্রনাথ, বজ্র কলম, মহানবী মুহাম্মদ, সত্য গোপন কেন প্রভৃতি অসংখ্য পুস্তক রচনা করেন যা পশ্চিমবাংলাঅসমত্রিপুরা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়।

 

তাঁর একটি জনপ্রিয় বই অকারণে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি তাতে মোটেই দমেননি। এমনকি তাঁর শিক্ষা আন্দোলনকেও দমাতে চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু জনাব গোলাম আহমাদ মোর্তজা কারও রোষাণলকে ভয় করেননি। তিনি ছিলেন অবিচল। মুসলিম সমাজকে শিক্ষাক্ষেত্রে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি ছিলেন বদ্ধপরিকর। ১৯৬৮ সালে সেই ভাবনা নিয়ে গড়ে তোলেন মেমারি টেকনিক্যাল মাদ্রাসা। পরবর্তীকালে সেটাই জামিয়া ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম মেমারিতে রূপান্তরিত হয়। তিনি অন্ধদের জন্য জোহরা ব্লাইন্ড স্কুল, মামুন ন্যাশনাল স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া পানাগড় মামুন ন্যাশনাল গার্লস স্কুল সমাজসেবার জন্য আলমাদিনা এডুকেশনাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি স্থাপন করে গোটা দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তাঁর ইন্তেকালে অনেকেই শোক প্রকাশ করেছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন বিশিষ্ট শিল্পপতি শিক্ষাসেবী আলহাজ মোস্তাক হোসেন, পুবের কলম পত্রিকার সম্পাদক আহমদ হাসান ইমরান প্রমুখ। তিনি রেখে গেছেন তাঁর ছয় পুত্র একমাত্র কন্যাসহ অগণিত হিতাকাঙ্খী গুণমুগ্ধদের

কোভিড সতর্কতাবিধি মেনে প্রত্যেককে মাস্ক পরে তাঁর জানাযায় বেশ কিছু আত্মীয়স্বজন বন্ধুরা অংশগ্রহণ করেন। তাঁর জ্যেষ্ঠপুত্র মাওলানা কাজী ইয়াসিন সাহেব নামাযে জানাযায় ইমামতি করেন। তাঁর জামাতা মাওলানা কারী শামসুদ্দিন সাহেব জানাযায় আগত পরিজনপ্রশাসনিক ব্যক্তিগর্ব মেহমানদের প্রতি ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন।

 

 

 

 

 

 

 

 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only