সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১

আত্মরক্ষায় বা হামলার জন্য গুলি চলেনি: নস্য শেখ উন্নয়ন পর্ষদ

 



রুবায়েত মোস্তাফা, কোচবিহার: নস্য শেখ উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে শীতলকুচিতে বাহিনীর গুলি নিহতের ঘটনায় প্রশাসনিক তদন্তের পরিবর্তে বিচারবিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। নস্য শেখ উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে রবিবার দিনহাটায় এক সাংবাদিক বৈঠক করা হয়। এই বৈঠকে এক প্রেস বিবৃতি দিয়ে এই দাবি জানানো হয়েছে।

ভোটের দিন অর্থাৎ ১০ এপ্রিল শীতলকুচি বিধানসভা এলাকার পাঠানটুলিতে আনন্দ বর্মণ নামে এক যুবক দুষ্কৃতীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। ওই একই দিনই শীতলকুচি বিধানসভা এলাকার জোড়পাটকি গ্রামে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের গুলিতে মারা যান ছামিউল হক, মনিরুজ্জামান মিয়া, নুর আলম মিয়া এবং হামিদুল মিয়া নামে নিরীহ ভোটদাতা।

এই বিষয়ে দিন সাংবাদিক বৈঠক ডেকে নস্য শেখ উন্নয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে লিখিত প্রেস বিবৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, নিহত পরিবারগুলিকে সমবেদনা জানাতে নস্য শেখ উন্নয়ন পরিষদের একটি প্রতিনিধি দল গত ১৫ এপ্রিল জোড়পাটকি গ্রামে, আর একটি প্রতিনিধিদল ১৭ এপ্রিল পাঠানটুলি গ্রামে উপস্থিত হন। সেখানে আমরা দেখেছি গুলি চালনার বধ্যভূমি, নিহতদের সমাধিস্থল, রেখে যাওয়া পিতা-মাতা, বধূ-সন্তান পরিবারের অন্যান্য সদস্যের। সেইসঙ্গে কান পেতে শুনেছি তাদের বুকফাটা ক্রন্দন, হাহাকার।

তাদের মুখে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে বিবরণ শুনে সোশ্যাল মিডিয়ার কিছু ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে আমাদের ধারণা হয়েছে, আনন্দ বর্মণ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের শিকার। এই দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করা দরকার। আর জোড়পাটকির চারজন শহিদ কেন্দ্রীয় বাহিনীর ক্ষিপ্ত মেজাজ বন্দুক ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার। বুথে ভোট ঠিক মতোই চলছিলকিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী বুথের অনতিদূরে লাইনে দাঁড়ানো ভোটদাতাদের বিনা প্ররোচনায় গুলি চালিয়ে চারজনকে হত্যা করে। কিন্তু যা বলা হচ্ছে যেআত্মরক্ষার কারণে, বুথ দখল ঠেকাতে বা গ্রামবাসীদের আক্রমণ রুখতে গুলি চালানো হয়েছেএর কোনওটাই সঠিক নয়।

নস্য শেখ উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বজলে রহমান বলেন, ‘শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা নির্বিঘ্নে ভোট করার দায়িত্ব যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী যথাযথভাবে পালন করতেনতাহলে তারা যেকোনও জটলাকে ফাঁকা ফায়ারিং করে বা নিতান্ত বাধ্য হয়ে পায়ে গুলি করে সরিয়ে দিতে পারতেন। কিন্তু সম্ভবত তাদের কাছে অন্য কোনও কারণে সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশ ছিল। বুথ দখলের পরিস্থিতির কথা অস্বীকার করেছেন ১২৬ নম্বর বুথের প্রিসাইডিং অফিসার। আর গ্রামবাসীদের আক্রমণ হলে তবে কোনও না কোন ভিডিয়ো ফুটেজ পাওয়া যেত এবং কোনও না কোনও কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্যরা সামান্য হলেও আহত হত। বাহিনীর কোনও লোক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে কারও জানা নেই। সুতরাং এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়ভার কোচবিহার জেলার এসপি এবং নির্বাচন কমিশন এড়িয়ে যেতে পারেন না। তাদের নির্দেশ ছাড়া যদি গুলি চলে থাকে, তাহলে ঘাতক জওয়ানদের বিচার শাস্তি হওয়া দরকার।

 সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনাল হক বলেনবিগত কয়েক মাস ধরে নির্বাচনী উত্তেজনায় এবং দলীয় রাজনীতির জাঁতাকলে পড়ে অনেকগুলো রাজবংশী নস্য শেখ ভূমিপুত্র মানুষের প্রাণ চলে গেলএর প্রকৃত বিচার হওয়া প্রয়োজন।

গত ১০ এপ্রিল শীতলকুচি হত্যাযজ্ঞে অর্থাৎ  জনের মৃতু্যর যথাযথ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন করে প্রকৃত দোষীদের বিচার শাস্তির দাবি জানাচ্ছে আমাদের সংগঠন। সেইসঙ্গে প্রশাসনিক তদন্তের পরিবর্তে বিচারবিভাগীয় তদন্তেরও আমরা দাবি জানাচ্ছি।

সংগঠনের পর্যবেক্ষক আবেদ আলিপুবের কলমকে বলেন, দিনহাটা শহরে সাংবাদিক বৈঠক করার উদ্দেশ্য হলশীতলকুচির ঘটনা নিয়ে কোচবিহারের মানুষের দাবি আমরা বক্তব্য লিখিত প্রেস বিবৃতি দিয়ে মিডিয়া জনসাধারণকে জানিয়ে দিয়েছি।  

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only