শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

মদিনাতুল হুজ্জাজ ফের ‘সেফ হোম’, মানবসেবায় নজির গড়ছে



আবদুল ওদুদ: করোনা পরিস্থিতিতে গতবছর কোনও ভারতীয় পবিত্র ভূমি সউদিতে হজ আদায় করতে যেতে পারেননি। গতবারের মতোই বছরও হয়তো সীমিত আকারে হজ পালন হবে। তবে কোনও ভারতীয় সুযোগ পাবেন কি না, এখনও কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না। ফলে বছরও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতি গতবছরের তুলনায় বছরও মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য হজ কমিটি করোনা মোকাবিলায় ২০২০-তেও বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল। রাজ্য হজ কমিটি নিউ টাউনের মদিনাতুল হুজাজকে ২০২০ মার্চ মাস থেকে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার, এপ্রিল থেকেসেফ হোমচালু করে। রাজ্য সরকার এবং রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর রাজ্য হজ কমিটির এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানায়। 

আরো পড়ুন: জামিনের পরেই ফের দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে গ্রেফতার দীপ সিধু

https://www.puberkalom.com/2021/04/blog-post_372.html

বছরও করোনা পরিস্থিতি ক্রমশই ভয়াবহ হচ্ছে। সার্বিক বিবেচনা করে নিউ টাউনের মদিনাতুল হুজ্জাজকে এবারও সেফ হোম করেছে হজ কমিটি। স্বাস্থ্য দফতরের পরামর্শ মেনে বর্তমানে ১১২ জন রয়েছেন এখানে। রাজ্য হজ কমিটি এই সমস্ত ব্যক্তির যাবতীয় দেখাশোনা করছে। ২৪ ঘণ্টা এই সমস্ত ব্যক্তিদের পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছে। কোনও অবহেলা নয়, ২৪ ঘণ্টা রাজ্য কমিটির কর্মীরা পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন। কখনও গভীর রাতে কোনও রোগী ঢুকছে আবার ভোররাতে সবসময়ই তাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করছেন রাজ্য হজ কমিটির শীর্ষপদের আধিকারিক থেকে শুরু করে নিরাপত্তা কর্মীরাও। ফলে রাজ্য হজ কমিটির মদিনাতুল হুজ্জাজসেফ হোমএখন শুধু মানবিক কাজ করে চলেছে। রাজ্য হজ কমিটির কর্মীদের মধ্যে কোনও অলসরতা নেই। নীরবে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন না, ২০২০ সালের আগস্ট মাস থেকে মদিনাতুল হুজ্জাজে চালু হয়েছিল কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। সেবারও আগত প্রত্যেক রোগীকে সেবা-শ্রুশ্রষা করে বাড়ি পাঠিয়ে দিল হজ কমিটি এবং স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা। এবারও সেই পথেই হাঁটছে সেফ হোমের কর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মী বলেনহজ কমিটির এই উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। প্রত্যেক রোগীর থাকা-খাওয়া থেকে শুরু করে সেবা-শ্রুশ্রষা সবই দেওয়া হচ্ছে। গত এপ্রিল থেকে সেফ হোমে রোগী আসা শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ২০০ জন ভর্তি নেওয়া হয়েছিল বর্তমানে ১৫০ জন রয়েছেন। রয়েছেন আন্দামানের জন ব্যবসায়ী সিআরপিএফ-এর কয়েকজন জওয়ান, উত্তর ২৪ পরগনা এবং কলকাতার কিছু রোগী। রাজ্য হজ কমিটি কেবলমাত্র হজের ব্যবস্থাপনা করে তা নয়, গত দুবছর করোনা মোকাবিলায় যে কাজ করতে তাদের গোটা দেশে নজির সৃষ্টি করেছে। তারা বুঝিয়ে দিচ্ছে জাতি-ধর্ম নয়, মানুষের সেবাই মূল সেবা। তাই হিন্দু-মুসলিম, খ্রিস্টান সব শ্রেণির মানুষের নীরবে পরিষেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only