বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

শীতলকুচি : 'জনতা নয়,লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের তাক করে গুলি চালায় বাহিনী



ঘটনাস্থল থেকে নিউজলন্ড্রি- অর্ন্ততদন্ত

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার গিয়েছিলেন মাথাভাঙায়। দেখা করেছেন গুলিতে নিহত পাঁচ পরিবারেরই প্রতিনিধিদের সঙ্গে। তিনি বলেছেন, ঘটনার তদন্ত হবে। দিকে একটিখবরব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল যে, সিআইএসএফ-এর রাইফেল কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। আর তাতেই নাকি তারাআত্মরক্ষার্থেজনতার উপর গুলি চালিয়েছিল। কিন্তু ওই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জোড়পাটকি গ্রামে অধিবাসীরা বলছেন যে, সিআইএসএফ-এর রাইফেল কেড়ে নেওয়ার কোনও চেষ্টা হয়নি। বরং একটি ১৪ বছরের কিশোরকে নৃশংসভাবে লাঠিপেটা করার সময় দু-একজন গ্রামবাসী লাঠির প্রহার আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। নইলে ছেলেটি শুধু আহত নয়, মরেই যেত। গ্রামবাসীরা আরও বলছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী জনতার উপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায়নি, বরং তারা ১২৬ নম্বর বুথে লাইনে দাঁড়ানো ভোটারদের কয়েকজনকে নির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে। ঘটনাস্থল জোড়পাটকি গ্রাম থেকে অর্ন্ততদন্তমূলক এই রিপোর্ট। 

শীতলকুচির জোড়পাটকি গ্রামে গণমাধ্যমের বিরুদ্ধেও প্রবল ক্ষোভ লক্ষ করা গেছে। এখানেই ১০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনায় চারজন নিহত হয়। এদের সকলেরই অভিযোগ হচ্ছে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ১২৬ নম্বর বুথে ভোট দেওয়ার জন্য অপেক্ষারত নাগরিকদের লাইনে কোনও কারণ ছাড়াই গুলি চালায়। সেখানে কোনও জনতা জড়ো হয়ে সিআইএসএফ বাহিনীর উপর হামলা চালায়নি। কিন্তু মিডিয়া এই ধরনেরই তথ্য অনর্গল প্রচার করেছে। যা মোটেই সত্য নয়। প্রকৃত তথ্য সংবাদপত্র বা টেলিভিশনে আসেনি। আর সেজন্যই মিডিয়ার উপর ক্ষোভ গ্রামবাসীদের।

এই সাংবাদিক গুলি চালানো ঘটনা সম্পর্কে পাঁচজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছেন, আরও কথা বলেছেন নিহত যুবকদের পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে। তারা সকলেই ঘটনার যে বিবরণ দিয়েছেন, তাতে কোনও অসংগতি নেই। সকলেই একই ধরনের কথা বলেছেন।মিডিয়া মিথ্যা কাহিনি প্রচার করছে’, সকলেই এই একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জোড়পাটকি গ্রামে মাত্র ৯০০ ভোটার রয়েছে। আর এদের মধ্যে ৭০০- উপর ভোটার হচ্ছে রাজবংশী মুসলিম সম্প্রদায়ের।

তারা আসল,  গুলি চালাল, তারপর চলে গেল, ভোটের দিন গুজব ছড়িয়েছিল, জোড়পাটকিতে একজন বাচ্চা ছেলেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী প্রহার করেছে। প্রতিবাদে এক জনতা জড়ো হয়ে বুথটিকে ঘিরে ফেলে। আর জন্যইআত্মরক্ষার্থেসিআইএসএফ গুলি চালিয়ে কয়েকজনকে হত্যা করতে বাধ্য হয়। এই হচ্ছে ওইদিনের ঘটনার সরকারি ভাষ্য। বারবার বলা হয়সিআইএসএফ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়। কারণ, বুথ সেখানে উপস্থিত অফিসারদের উপর জনতা নাকি হামলা শুরু করে। সিআইএসএফ-এর প্রধান মুখপাত্র ডিআইজি অনিল পাণ্ডে বলেন– ‘এটাই সত্যএই বিবরণে কোনও সন্দেহই নেই।

কিন্তু গ্রামবাসীদের বক্তব্য হচ্ছে, জোড়পাটকিতে সেদিন সকালে দুটি সহিংস ঘটনা ঘটে। একটি ঘটে সকাল ৯টার দিকে। গ্রামবাসীদের বক্তব্যএকটি বাচ্চা ছেলে যেপোলিং বুথের কাছে মোড়ে খেলা করছিলতাকে ধরে কেন্দ্রীয় বাহিনী বেদম পেটায়। আর এই পাশবিক ঘটনা দেখে মহিলা পুরুষরা (তাদের সংখ্যা ২৪-২৫ জন হবে) তারা ছুটে গিয়ে বাচ্চা ছেলেটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। আর তখন কেন্দ্রীয় বাহিনী শূন্যে গুলি চালায়। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে যখন পুলিশ বাহিনী ওই ছেলেটিকে মাথাভাঙা হাসপাতালে নিয়ে যায়।

শান্তিপূর্ণভাবে ভোট চলছিল। কিন্তু সকাল ১০টা নাগাদ ১২৬ নম্বর বুথের কাছে দুটি গাড়ি এসে উপস্থিত হয়। উর্দিধারীরা গাড়ি থেকে নেমে বুথের সামনে উপস্থিত হয়। তারা ভোটের সারিতে দাঁড়ানো একজন তরুণকে হঠাৎই আঘাত করে। তরুণটি ভোট দিতে এসেছিল। সাংবাদিককে কথাগুলি বলেন মাকসিদুল মিয়া। তিনি একজন পরিযায়ী শ্রমিক। কাজের খোঁজে তিনি কখনও দিল্লি, কখনও বিহার বা নেপালে যান। ভোট দিতে মাকসিদুল শীতলকুচিতে এসেছিলেন। মাকসিদুলের বক্তব্য, সে মুহূর্তে হঠাৎই গুলি চলে। আমার সামনে দাঁড়ানো একজন ভোটারের গুলি লাগে। সে লাইনে ছিল আমার মাত্র চারজনের আগে। আমি ছুটে একটা সরু রাস্তায় চলে আসি। এরপর আর আমার ভোট দেওয়ার সুযোগ বা সাহস কোনওটাই হয়নি।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only