বুধবার, ৭ এপ্রিল, ২০২১

উইঘুর মুসলমানদের ওপর চিনাদের অকথ্য নির্যাতনকে 'গণহত্যা' বলে ঘোষণা বাইডেন সরকারের

 



পুবের কলম, নিউইয়র্ক: উইঘুর মুসলমান অন্যান্য নৃতাত্ত্বিক ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে চিনা সরকারের নির্যাতন ও অকথ্য অত্যাচারকে এই প্রথম 'গণহত্যা' বলে ঘোষণা করল আমেরিকা। গত ৩০ মার্চ প্রকাশিত মানবধিকার চর্চা বিষয়ক আমেরিকার পররাষ্ট্র দফতরের ২০২০ সালের প্রতিবেদনে মুসলিমদের ওপর চিনা নির্যাতনের অকথ্য অত্যাচারকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের শেষ দিকে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে জিনজিয়াংয়ে চিনা কর্তৃপক্ষ গণহত্যা চালাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে এবার যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কোনও মানবাধিকার বিষয়ক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে আনুষ্ঠানিকভাবে 'গণহত্যা' শব্দটি উল্লেখ করা হল। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পুলিশের হাতে সংঘটিত হত্যালীলার বিষয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত করা হবে বললেও, তদন্তের কোনও প্রতিবেদন প্রকাশও করে না, আর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানানো হয় না।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে উইঘুর মুসলমানদের ওপর অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে চিন সরকার। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার নারী, পুরুষ থেকে শিশুরাও। নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে জোর জোরপূর্বক গর্ভপাত, বিনা বিচারে কারাগারে বন্দি, বলপূর্বক কাজ করানো, ধর্ষণ, ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, মারধর করা।ধর্ম বা বিশ্বাস, মত প্রকাশের স্বাধীনতা স্বাধীনভাবে চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা।

প্রসঙ্গত, নিউ ইয়র্ক টাইমস পত্রিকা চিনের বেশ কিছু নথি সামনে আনে। সেখান থেকে জানা যায়, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উইঘুর মুসলিমদের প্রতি 'বিন্দুমাত্র দয়ামায়া না দেখানোর' চিনা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন

কারা এই উইঘুর মুসলিম

চিনের উত্তর-পশ্চিম অংশে সবচেয়ে বড় প্রদেশ জিনজিয়াং। এর আয়তন ১৬ লাখ ৪৬ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার (বাংলাদেশের ১২ গুণ) এলাকা আয়তনে চিনের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ। এর পশ্চিম উত্তর-পশ্চিম দিকে আছে মুসলিম দেশ তাজিকিস্তান, কিরঘিজস্তান কাজাখস্তান আর দক্ষিণ-পশ্চিমে আছে আফগানিস্তান এবং জম্মু-কাশ্মীর। সোনা তেল গ্যাস সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এরাই উইঘুর মুসলমান। তারা মূলত তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং তুর্কি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্গত উইঘুর ভাষায় কথা বলেন। ভাষার বর্ণলিপি আরবি। এখানকার অর্থনীতি কৃষি বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। জিনজিয়াং ছাড়াও উইঘুররা বিশ্বের বহু দেশে ছড়িয়ে আছে। ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, জিনজিয়াংয়ে দেড় কোটির মতো উইঘুর বসবাস করে জিনজিয়াং কাগজ-কলমেস্বায়ত্তশাসিতহলেও, চিনের কেন্দ্রীয় সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে

চিনের সঙ্গে উইঘুরদের বিরোধের কারণ

এক সময়পূর্ব তুর্কিস্তানস্বাধীন ছিল। কিন্তু ১৯১১ সালে স্বাধীন তুর্কিস্তানে চিনের মাঞ্চু সাম্রাজ্যের পতনের পর সেখানে প্রত্যক্ষ চিন শাসন চালু করে অঞ্চলকে চিনের জিনজিয়াংয়ের সঙ্গে একীভূত করা হয়। তবে সেটা স্থায়ী করতে চিনাদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। চিনা সৈন্যদের বিপক্ষে দাঁড়ায় উইঘুর মুসলিমরা।  ১৯৩৩ ১৯৪৪ সালে দুইবার তারা স্বাধীনতা অর্জন করে। ১৯৪৯ সালে চিনে সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কিছু দিন পর কমিউনিস্ট সরকার উইঘুরদের বৃহত্তর চিনের সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাব নাকচ করে দিলে শুরু হয় নির্যাতন, অকথ্য অত্যাচার। কমিউনিস্টরা অস্ত্রের জোরে জিনজিয়াং দখল করে নেয়। তবে উইঘুর অধ্যুষিত জিনজিয়াংকে দৃশ্যত স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরেও চিন সরকার উইঘুরদের ওপর দমন ও পীড়ন নীতি অব্যাহত রাখে।

 

 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only