বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২১

রহমতের দ্বিতীয় দিন, আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক উৎকর্ষতা অর্জনের নাম সিয়াম

 



মাওলানা আব্দুল মান্নান

রমযান মাস এতে মানুষের দিশারী এবং সৎ পথের স্পষ্ট নিদর্শন সত্যাসত্যের পার্থক্যকারী রূপে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। কাজেইআজ হতে যে ব্যক্তিই মাসের সম্মুখীন হবে তার জন্য পূর্ণ মাসের রোযা রাখা একান্ত কর্তব্য।’ (সূরা বাকারাহআয়াত:১৮৫)

উপরোক্ত আয়াত নাযিল হওয়ার মাধ্যমে ইসলাম অন্যান্য ইবাদাতের ন্যায় রোযার মধ্যেও বেশ কিছু মৌলিক সংস্কার সাধন করেছে। সমাজের সর্বস্তরে এর সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রভাব সুস্পষ্ট। নবী করীম সা. শুরুতে মুসলমানদের প্রত্যেক মাসে তিনটি রোযা পালনের হেদায়েত দিয়েছিলেন। কিন্তু তখন রোযা ফরয ছিল না। দ্বিতীয় হিজরিতে রমযান মাসে রোযা রাখার এই নির্দেশ অবতীর্ণ হয়। আয়াতের শেষ অংশে আল্লাহ্তায়ালা বলেছেন:বস্তুতআল্লাহ্ তোমাদের কাজ সহজ করে দিতে চানকোনও রূপ কঠোরতা আরও বা কঠিন কাজের ভার দেওয়া আল্লাহ্র ইচ্ছা নয়। তোমাদেরকে পন্থা বলা হচ্ছে এজন্য যেতোমরা রোযার সংখ্যা পূরণ করতে পারব। আর এজন্য যেন তোমরা আল্লাহ্র শ্রেষ্ঠত্ব মহত্বের স্বীকৃতি প্রকাশ করতে পার এবং আল্লাহ্র কৃতজ্ঞ হতে পার।’ (সূরা বাকারাহআয়াত: ১৮৫)

রোযা বা সিয়ামের প্রকৃত তাৎপর্য হচ্ছে তাক্ওয়া হৃদয়ের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে:যাতে তোমরা তাক্ওয়া অর্জন করতে পার।’ (আল্ কুরআন)

 সিয়াম সাধনার ফলে মানুষ পাপমুক্ত হয়ে আল্লাহ্র স্নেহধন্য বান্দাহ্ রূপে পরিগণিত হতে পারে। রমযান মাসে আল্লাহ্র অশেষ করুণা রহমত পৃথিবীতে বর্ষিত হয়। (ফাত্হুল ক্বাদীর)

সিয়াম সাধনার অন্যতম বৈশিষ্ট হল তাক্ওয়া অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভ করা। ইসলামের দৃষ্টিতে রোযা হল--- এমন এক সার্বজনীন ইবাদাত যা রোযাদারকে হৃদয়ের পবিত্রতা, আত্মিক সজীবতা চিন্তার বিশুদ্ধতা দান করে। এর মাধ্যমে বান্দাহ্ লাভ করে এক অবর্ণনীয় আত্মিক তৃপ্তি, নতুন উদ্যম প্রেরণা। সিয়াম সাধকের জন জগতে রোযার প্রভাব অপরিসীম। রোযাদারের মনে এমন এক অবস্থার সৃষ্টি হয় যে, পাপ কাজের প্রতিকার ঘৃণা পুণ্যের প্রতি প্রবল অনুরাগ সৃষ্টি হয়। নিষিদ্ধ গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য রোযাদারের অন্তরে এক স্বতঃস্ফূর্ত ইচ্ছা আবেগ জন্ম নেয়।

সিয়াম সাধনার তিনটি স্তর রয়েছে। মহানবী সা. বলেন:রমযানের মাস বড়ই বরকতের মাস। এই মাসে মহান আল্লাহ্ রোযাদারদের প্রতি বিশেষ কৃপা দৃষ্টি প্রদান করেনবান্দাহ্র গুনাহ মাফ করেন এবং তার দোয়া কবুল করেন। রমযানের প্রথম ১০দিন রহমতেরদ্বিতীয় ১০ দিন মাগফিরাতের তৃতীয় ১০দিন নাজাত অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের জন্য নির্দিষ্ট কৃত।’ (মিশকাত)

রোযার উপর আল্লাহ্তায়ালা যে পুরস্কার ঘোষণা করেছেন, তা এক মুহূর্তে সিয়াম সাধককে ভোগে বিতৃষ্ণ, ত্যাগে উদ্বুদ্ধ আত্মবিশ্বাসে বলীয়ান করে তোলে। আল্লাহ্ বলেছেন:মানুষ যত ধরনের পুণ্যের কাজ করে আমি তার প্রতিদান ১০ গুণ থেকে ৭০০ গুণ বৃদ্ধি করে দিই। কিন্তু রোযা এর ব্যতিক্রম। রোযা আমার জন্য এবং আমি নিজেই এর পুরস্কার প্রদান করব।’ (বুখারী)   

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only