সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা কমিশনের, ২৪ ঘন্টা প্রচার করতে পারবেন না তৃণমূল সুপ্রিমো

পুবের কলম, কলকাতা: 


নির্বাচন কমিশন তৃণমূল সুপ্রিমো এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের উপর ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার রাত্রি ৮টা থেকে মঙ্গলবার রাত্রি ৮টা পর্যন্ত কোনও প্রচারে অংশ নিতে পারবেন না।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা? নির্বাচন কমিশন বলেছে– ‘মুসলিম ভোট ভাগ হতে দেবেন নাএবংকেন্দ্রীয় বাহিনীকে প্রয়োজনে ঘেরাও করুনমমতার এই দুই মন্তব্যের জন্যই তাঁর উপর ২৪ ঘণ্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা জারির আগে দুবার নোটিশ পাঠিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এপ্রিল কমিশনের শোকজের উত্তর দেন। কিন্তু কমিশন তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। তাদের বক্তব্যমমতা খুব সতর্কভাবে উত্তর দিয়েছেন। কিন্তু তিনি আসল প্রশ্নে উত্তর এড়িয়ে গেছেন। আর তাই মমতার উপর একদিনের নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কমিশন বলেছেমমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যপ্ররোচনামূলকবলেও কমিশন মন্তব্য করেছে। স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের এই নিষেধাজ্ঞার তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে বাংলা জুড়ে এবং সেইসঙ্গে সারা ভারতেও।

তৃণমূল কংগ্রেসের জাতীয় মুখপাত্র ডেরেক ব্রায়েন ট্যুইট করে বলেছেন, ‘১২ তারিখ গণতন্ত্রের জন্য এক কালোদিন। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল (মঙ্গলবার) গান্ধি মূর্তির পাদদেশে দুপুর ১২টায় ধরনায় বসবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম মুখপাত্র কুনাল ঘোষ বলেছেন– ‘বিজেপির শাখা সংগঠন নির্বাচন কমিশনস্বেচ্ছাচারী হিটলারি কায়দায় ভোট করতে চাইছে। যেখানে নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রীয় বাহিনী বুলেটের ডগায় মানুষকে আতঙ্কিত করতে চাইছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে বারবার প্রতিবাদের আওয়াজ তুলেছিলেন বলে বিজেপির শাখা সংগঠন নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কুৎসিতভাবে তাঁর কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করল। অথচ রাহুল সিনহাদিলীপ ঘোষসায়ন্তন বসুরা প্রত্যেকে বারবারপ্ররোচনামূলককথা উচ্চারণ চলেছেন এবং যা বলছেন তা অত্যন্ত ভয়ানক। কুৎসিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর প্রতিবাদ করছেন। তাঁকে কমিশনের মাধ্যমে থামানোর চেষ্টা করা হল। এই অপচেষ্টা কোনোভাবেই সফল হবে না। বাংলার মানুষ ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেবেন।

মমতা  বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে ট্যুইট করে বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত অগণতান্ত্রিক অসাংবিধানিক। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আমি দুপুর ১২টা থেকে গান্ধি মূর্তির পাদদেশে ধরনায় বসব।

এদিকে অনেকে বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আব্বাস সিদ্দিকিকে লক্ষ্য করে তারকেশ্বরে মন্তব্য করেছিলেন। সংখ্যালঘু ভোট ভাগ হতে দেবেন না। বিজেপি এলে মনে রাখবেন, সমূহ বিপদ। কিন্তু হিন্দুদের ধর্মস্থান তারকেশ্বরে শ্রোতা দর্শক হিসেবেও মুসলিমরা বেশ কম ছিল। আর বিজেপিকে লক্ষ্য করে মমতা সংখ্যালঘুদের ভোট ভাগ না করার আহ্বান জানাননি। তিনি আব্বাস সিদ্দিকির ভোট ভাগ করার চেষ্টাকে প্রতিহত করার জন্য একথা বলেন।

এদিকে ওয়াকিফহালমহল আরও বলছেন, ধর্মের ভিত্তিতেই একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে নিশানা করে বিজেপি নেতারা ভয়ঙ্কর সব কথা বলছেন। যেমন শুভেন্দু বলেছেনমমতা জিতলে নন্দীগ্রামে মিনি পাকিস্তান তৈরি হবে। এরা (মুসলমানরা) পাকিস্তান জিতলে মাংস খায়পটকা ফাটায়। এই ধরনের আরও নানা কথা। দিলীপ ঘোষ বলেছেন– ‘আর অনেক শীতলকুচি করা হবে’ (অর্থাৎ আরও মুসলমানকে গুলি মেরে হত্যা করা হবে) সায়ন্তন বসু বলেছেন– ‘একজনকে মারলে চারজনকে মারা হবে।অর্থাৎ একজন হিন্দু মরলে চারজন মুসলমানকে হত্যা করা হবে। রাহুল সিন্হা বলেছেন– ‘শীতলকুচিতে চারজনকে নয়আটজনকে হত্যা করলে ভাল হত।খোদ অমিত শাহ বলেছেন– ‘হিন্দু আনন্দ বর্মণের জন্য মমতার শোক নেই। তিনি শোকগ্রস্ত শীতলকুচির নিহত মুসলমানদের জন্য।অর্থাৎ লাশ নিয়েও সাম্প্রদায়িকতা প্রচার করেছেন অমিত শাহ।

আশ্চর্যের কথাতৃণমূল অন্যান্য সংগঠনের নালিশ সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন বিজেপির নেতাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। অথচ এরা ভয়ঙ্কর জাতপাতধর্ম-বিদ্বেষ অর্নগল প্রচার করে চলেছেন। সেই প্রেক্ষিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেশাস্তি প্রদান’– তাই সকলকে অবাক করেছে। এমনকি মমতা বিরোধীদেরও। সিপিএম-এর সুজন চক্রবর্তীও এই প্রশ্নই তুলেছেন।

নির্বাচন কমিশন যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে একপেশে অবস্থান নিয়েছে তা স্পষ্ট হয়ে পড়েছে বলে অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞই অভিমত প্রকাশ করেছেন।

 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only