সোমবার, ৩১ মে, ২০২১

করোনা সংকটে আর্থিক অনটন, গুজরাটে মহিলারা ‘সারোগেট মা’ হতে বাধ্য হচ্ছেন!




পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: করোনার প্রকোপে কাজ হারিয়ে মানুষজনের আর্থিক দুরবস্থা যে কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তা বিজেপিশাসিত গুজরাটের দিকে লক্ষ্য করলে বোঝা যাবে। এখানে গৃহবধূ এমনকি অবিবাহিত তরুণীরাও গর্ভ ভাড়া দিয়ে ‘সারোগেট মা’হতে বাধ্য হচ্ছেন!       

গুজরাটের পূর্ব আহমেদাবাদে, ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী বাড়িতে বাড়িতে কাজ করতে যেত, কিন্তু কাজ বন্ধ হওয়ার কারণে তাঁর  সামনে সংসার চালানোর সমস্যা তৈরি হয়েছিল। এ সময়ে একজন তাঁকে ‘সারোগেট মা’হওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর ওই রাস্তা ঠিক বলে মনে হওয়ায় তিনি এখন এক দম্পতির সন্তানের ‘সারোগেট মা’হতে চলেছেন।    

গণমাধ্যমে প্রকাশ, করোনা পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে কাজ হারাচ্ছেন অনেকেই। এ জন্য মহিলারা গর্ভ ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন! গুজরাটে এ রকম ২০ থেকে ২৫ টি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।   

সংসারের খরচ চালাতে মহিলারা ওই পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানা গেছে। আশ্চর্যের বিষয় হল তাদের মধ্যে কিছু অবিবাহিত তরুণীও রয়েছেন! এর বিনিময়ে তাঁরা ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা এবং চিকিৎসা খরচ পায়।

রিমা নামের ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী বলেন, আমার এখনও বিয়ে হয়নি। আমার বাবা আমাকে এবং আমার মাকে ছেড়ে অন্য বাড়িতে বাস করেন। আমরা ভাড়া বাড়িতে থাকি। আমার মা লোকের বাড়িতে কাজ করে আমাকে বড় করেছেন। আমিও একটা কাজের সাথে ছিলাম। করোনা সঙ্কটের মধ্যে কাজ হারিয়েছি। মায়ের কাজও বন্ধ হয়ে গেছে। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ভাড়া দেওয়া যাচ্ছিল না। বাড়িওয়ালাও ভাড়া নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল, তাই সরোগেট মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চিকিৎসকের মাধ্যমে সরোগেসিতে সন্তান সুখের জন্য কাঙ্ক্ষিত এক দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তারা কিছু টাকাও দিয়েছে।    

অ্যাডভোকেট অশোক পরমার বলেন, তাঁর পরিচিত রাজশ্রীর স্বামী মারা গেছেন। পরিবারের উপার্জন সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। বাচ্চাদের জন্য তাকে চাকরি করতে হয়েছিল। পরে তাঁকে চাকরি ছাড়তে হয়েছিল। এরপর টিফিনের কাজ শুরু করেন তিনি। লকডাউনের কারণে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। এক মহিলা তাকে ‘সারোগেট মা’ হওয়ার  প্রস্তাব দেন। সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে রাজশ্রী ওই প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি সংসার চালানোর মতো অর্থ পেয়েছেন। বাকি টাকা তাঁর প্রসবের পরে তাঁকে দেওয়া হবে।         

বিধায়ক জিএস সোলাঙ্কি বলেন, করোনা মহামারির কিছুদিন পরে রেখা নামের এক মহিলার স্বামীর চাকরি চলে যায়। তাঁদের সংসার চালাতে অসুবিধা হচ্ছিল। সংসারের খরচের জন্য ঘরের সমস্ত জিনিস বিক্রি করতে হয়েছিল। এভাবে জিনিষপত্র বিক্রি করে বেশি দিন চলেনি। অগত্যা রেখা তখন তাঁর স্বামীর কাছে গর্ভ ভাড়া দেওয়ার বিকল্প প্রস্তাব দেন। উপায় না দেখে স্বামীও রেখাকে সারোগেট মা হওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। (সমস্ত মহিলার নাম পরিবর্তিত)।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only