রবিবার, ৩০ মে, ২০২১

নাগরিকত্ব আইন প্রসঙ্গে আদি ভারতীয় প্রমাণ করতে ‘ডিএনএ’টেস্টের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন মমতা ঠাকুর




এম এ হাকিম: কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি অ-মুসলিম শরণার্থীদের যে নাগরিকত্ব প্রদানের কথা বলেছে তার সমালোচনা করেছেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের নেত্রী ও তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মমতা ঠাকুর। গুজরাট, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, হরিয়ানা ও পঞ্জাব এই ৫ রাজ্যের মোট ১৩টি জেলায় বাংলাদেশ, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকে আসা অ-মুসলিম ধর্মীয় সংখ্যালঘু শরণার্থীদের সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে অনলাইনে আবেদন করতে বলা হয়েছে। আবেদন খতিয়ে দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন জেলা প্রশাসকেরা।      

এ প্রসঙ্গে মতুয়া মহাসঙ্ঘের নেত্রী ও তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ মমতা ঠাকুর বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের ৫ রাজ্যে আচমকা বিজ্ঞপ্তি জারি করা মানে গোটা ভারতবর্ষে যেখানে যেখানে ওপার বাংলার যারা শরণার্থী ও উদ্বাস্তু হিসেবে বাস করছে তাঁদের আতঙ্কিত করার জন্য এটা করেছে। পশ্চিমবঙ্গে এটা করেনি, তার কারণ হচ্ছে যে, পশ্চিমবঙ্গে এটা আগামীতে অসমের মতো পরিস্থিতি করবে। সেজন্য ওই ৫ রাজ্যে প্রথম ধাপ শুরু করল।  এপ্রসঙ্গে তিনি ‘ডি-ভোটার’ জনিত দুর্ভোগ ও হয়রানির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। 

মমতা ঠাকুর বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এখনই এটা করলে জানে যে আন্দোলন শুরু হবে, সেজন্য আন্দোলন যাতে না হয় তাই ছোটো ছোটো করে এগুলো অন্য রাজ্যে করছে। ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষজন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য এখানে ভালো আছে। আমাদের দাবি হচ্ছে, আমরা এদেশের নাগরিক। আমাদের বাবা-মা অখণ্ড ভারতে জন্মগ্রহণ করেছে। আমরা এদেশে জন্মগ্রহণ করেছি। আমাদের সন্তানরা এদেশে জন্মগ্রহণ করেছে। আমাদের কেন পরিচয় দিতে হবে ভারতীয় না অ-ভারতীয়? তাহলে ‘ডিএনএ টেস্ট’হোক ‘ওরিজিনাল ভারতীয়’ কারা সেজন্য। আমাদের কেন আবেদন করে নাগরিকত্ব নিতে হবে? আমরা তো এদেশেরই নাগরিক।’     

মমতা ঠাকুর বলেন, ‘ছত্তিশগড়ে যারা আছে তারা শরণার্থী। ইন্দিরা গান্ধী তাঁদের নিয়ে এসে ঘর-বাড়ি, জায়গা, জমি সবকিছু দিয়েছেন। আজকে তাঁদের  যদি আবার আবেদন করে নাগরিকত্ব নিতে হয়। তাহলে মানুষ কী করবে? তাহলে আমরা কত মানুষ পথে পথে ভাসবো?’ 

মমতা ঠাকুর আরও বলেন, ‘অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে আমার শাশুড়ি বীণাপানি ঠাকুর, আমার স্বামী কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর তারা যে আন্দোলন করেছিলেন বিতর্কিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে। আমরা নাগরিকত্ব দেওয়ার জন্য আন্দোলন করিনি। আমাদের আন্দোলন ছিল ২০০৩ সালে যে নাগরিকত্ব আইন করেছিল তার বিরুদ্ধে। ওই আইন পরিবর্তন করে আমাদের বলা হোক যে আমরা এদেশের নাগরিক-এটাই আমাদের দাবি।’ 

অন্যদিকে, মতুয়া মহাসঙ্ঘের আরেক অংশের প্রধান ও বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর ৫ রাজ্যে নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘বাংলায় নাগরিকত্ব আইন কার্যকর হলে ভালো হয়। কারণ, উদ্বাস্তু সমস্যার মূল কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে বাংলা। বাংলার মতুয়া সমাজের মধ্যে এটি একটি বড় সমস্যা। এখানে ওই আইন কার্যকর হলে ভালো হতো। আপাতত ৫ রাজ্যে চালু হয়েছে। এখানেও পরবর্তীতে হবে বলে আমরা আশাবাদী।’   

শান্তনু ঠাকুর বলেন, ‘গণমাধ্যমের উচিত মুখ্যমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করা যে আপনি কেন বিষয়টাকে রাজনৈতিকভাবে দেখছেন? উদ্বাস্তুরা তো ওপার বাংলা থেকে অত্যাচারিত হয়ে এসেছে।’ 

শান্তনু ঠাকুরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নাগরিকত্ব আইনের বিধি তৈরি করা যাচ্ছে না। তাঁর কথায় ফেডারেল স্ট্রাকচার মেনে বাংলায় উনি (মুখ্যমন্ত্রী) নাগরিকত্ব আইনের রুলফ্রেম করতে দিন। কেন উনি দিচ্ছেন না? মুখ্যমন্ত্রী ছাড়পত্র দিলেই আমরা এখানে নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করে দেবো। বাংলার সরকার নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করার বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যখন সিএএ আইন হয় তখন আমরা বাংলার অগ্নিগর্ভ রূপ দেখেছি। বর্তমানে ওই আইন কার্যকর হলে গোলযোগ সৃষ্টি হবে না তার নিশ্চয়তা কে দেবে?’    

এ প্রসঙ্গে সিপিএম নেতা সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ওই নির্দেশিকা অসৎভাবে, পিছনের দরজা দিয়ে ‘সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন’  (সিএএ/‘ক্যা’) প্রয়োগ করার কৌশল। সিপিআই নেতা ডি রাজার মতে, এতে সরকারের ফ্যাসিস্ট মুখ প্রকাশ্যে এসে গেছে। ‘নাগরিকপঞ্জি বিরোধী যুক্ত মঞ্চ’  কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিয়ে ওই নির্দেশ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, সরকার ওই নির্দেশ দিতে পারে না, কারণ ২০১৯ সালে পাশ হওয়া সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ/‘ক্যা’)নিয়ম এখনও তৈরি  হয়নি। যদিও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাল্টা সাফাইতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, ওই নির্দেশিকার সঙ্গে সাম্প্রতিক  ‘সিএএ’র কোনও সম্পর্ক নেই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only