শনিবার, ২৯ মে, ২০২১

স্বামী হত্যার প্রতিশোধ, পুলওয়ামায় শহিদ মেজর বিভূতিশঙ্কর ধুন্ধিয়ালের স্ত্রী’ যোগদান করলেন সেনায়




পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক: সেনা কনভয় এসে নামিয়ে দিয়েছিল, সেই ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়া দেহটা। একটুকু ফাঁক করে স্বামীর মুখ যতটা দেখা যায়, ততটাই দেখেছিলন শহিদ জওয়ানের স্ত্রী। আর প্রতীজ্ঞা করেছিলেন এর জবাব দিতে হবে সেনায় যোগ দিয়েই। আজ একজন শহিদ জওয়ানের স্ত্রী’র ভালোবাসার প্রতিজ্ঞা সফল হল। সেনা বাহিনীতে যোগ দিলেন পুলওয়ামায় জঙ্গি হানায় নিহত সেনা জওয়ান বিভূতিশঙ্কর ধুন্ধিয়ালের স্ত্রী নিকিতা কৌল। 

২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। সারা দেশ যখন ভ্যালেন্টাইনস ডে পালিত করার উন্মাদনায় ছুটছে, ঠিক তখনই বহু দূরের উপত্যকায় ঘটেছিল পাক জঙ্গি হানা। অবন্তীপোড়ার কাছে জম্মু শ্রীনগর জাতীয় সড়কে একটি গাড়ি এসে ধাক্কা মারে ট্রাকে। আত্মঘাতী হামলায় শহিদ হন ৪০ জন কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় দেহ। সেই কনভয়ে ছিলেন নিকিতার স্বামী শহিদ মেজর বিভূতিশঙ্কর ধুন্ধিয়াল। পুলওয়ামায় পাক জঙ্গি হানা জীবন কেড়েছিল এই সেনা জওয়ানের। আজও দেশবাসীর অন্তরে পুলওয়ামার ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। আর যে পরিবারগুলির নিজের ছেলে, স্বামী, ভাই, দাদাকে হারিয়েছিল তাদের ব্যথায় আজও বাজে প্রিয়জনকে হারানার সুর। কিন্তু সময়, সব কিছু ভুলিয়ে দিলেও প্রিয়জন হারানোর ব্যথা কি কোনওদিন ভোলা সম্ভব। সেই ভালোবাসাই আরও কঠিন হতে শিখিয়েছে শহিদ বিভূতিশঙ্কর ধুন্ধিয়াল স্ত্রীকে নিকিতাকে। 

শহিদ মেজর বিভূতিশঙ্করের সেই সেনা পোশাকই আজ গায়ে তুলেছেন নিকিতা ধুন্ধিয়াল কৌল। পুলওয়ামার শহিদ বিভূতিশঙ্কর ধুন্ধিয়ালকে সৌরচক্র সম্মানে ভূষিত করা হয়। 

স্বামীকে হারিয়ে নিজের প্রতিজ্ঞার লড়াই শুরু করেন নিকিতা। সিদ্ধান্ত নেন তিনি সেনায় যোগ দেবেন। পুলওয়ামায় স্বামীকে হারানোর ছয়মাসের মধ্যে সিভিল সার্ভিস কমিশন পরীক্ষার জন্য ফর্ম ফিলাপ করেন নিকিতা। পরীক্ষায় বসেন। পাশও করেন তিনি। এর পর নিকিতা উত্তীর্ণ হন সার্ভিস সিলেকশন বোর্ডের ইন্টারভিউতে। চেন্নাইতে অফিসার ট্রেনিং অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ হয়। নিকিতা কৌলের সেই প্রতীজ্ঞা পূরণ হল। ২০২১ সালের ২৯ মে, অর্থাৎ আজ সেনায় লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করলেন। 

পুলওয়ামার জঙ্গি হানা ইতিহাসের পাতায় একটি কালোদিন। ভারতবাসী হারিয়েছিল তাদের বীর সন্তানদের। শহিদদের দেহ চোখের জলে বিদায় জানায় দেশবাসী। এই হামলার পর তদন্তের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জাতীয় তদন্ত সংস্থাকে। তাদের ১২ জন সদস্যের দল পাঠানো হয়। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের সঙ্গে কাজ করেছিল ওই প্রতিনিধি দল। 

প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, হামলার মূল চক্রী ছিল স্থানীয় আদিল আহমদ দার।জইশ-ই-মহম্মদের সদস্য ছিল আদিল। আত্মঘাতী গাড়িটি ৮০ কিলোগ্রাম আরডিএক্স এবং অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটসহ ৩০০ কিলোগ্রামের বেশি বিস্ফোরক বহন করছিল।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only