সোমবার, ৩ মে, ২০২১

দিদি অ দিদি

 



 আহমদ হাসান ইমরান:  ভাইয়ের আবদারটা রাখলেন না দিদি! কত করে, কতবার, কত লোকের সামনে তোমাকে বললাম, দিদি...! কিন্তু এখন দেখছি, তুমিই জিতে গেলে! দিদি...অ দিদি। একবার না জিতলে কী হতো! কিন্তু দেশের লোক তো বটেই, বিদেশের লোকের কাছে আমার মুখ পুড়ে গেল।

ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এই হেনস্থাতে কী দেশের মর্যাদা নষ্ট হল না?

আমাকে তুমি 'বহিরাগত' বলে দেগে দিলে। কেন দিদি? অ দিদি, আমাকে বাংলার অতিথি বা মেহমান ভাবলে ক্ষতি কী ছিল? একবার-দুবার নয়। ৩০ বারেরও বেশি এই সোনার বাংলায় এসেছি। একটু একটু ভুল হলেও বাংলা বলারও চেষ্টা করেছি। ভাইয়ের সম্মানের কথা মাথায়  রেখে একবার বাংলাটা ছেড়ে দিলে পারতে না? আমরা উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত বা মধ্যপ্রদেশের মতো বাংলাতেও উন্নয়নের জোয়ার বইয়ে দিতাম। আর ওই ব্যাটা বাংলাদেশ! ওরাও নিজের দেশকে 'সোনার বাংলা' বলে দাবি করে। আবার 'জয় বাংলা'ও বলে।দিদি, তুমি ঠিক করেছ, 'জয়বাংলা'-টা ওদের কাছ থেকে নিয়ে নিয়েছো। শুনেছি রবীন্দ্রনাথের জমিদারি নাকি বাংলাদেশে ছিল। কিন্তু উনি তো নোবেল পেয়েছিলেন কলকাতা বা শান্তিনিকেতন থেকে। তাহলে তো শেখ হাসিনাদের জাতীয় সঙ্গীত 'আমার সোনার বাংলা'র ওপর আমাদেরই দাবি বেশি।  এই বাংলায় রয়েছে পাহাড়, সমুদ্র, চা, কয়লা, পাট, কলকারখানা আরও কত কী! আমি এসব থেকে কর আদায় করতাম। আর সেই অর্থ দিয়ে পশ্চিমবাংলাকে নির্ঘাত 'সোনার বাংলা' করে ছাড়তাম। ঢাকায় বসে শেখ হাসিনা বুঝতে পারতেন, 'আসল সোনার বাংলা' কোনটা! তবে এই বাংলাদেশ ইদানীং নানা উন্নতির সূচকে আমাদের ভারতমাতাকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এটা দুঃখের।আবার ওদের সাহস ভারতকে কোভিড ভ্যাকসিন ও অন্য মেডিক্যাল সরঞ্জাম পাঠাচ্ছে!

দিদি, অ দিদি, কতবার অন্তরের আকুতি নিয়ে তোমাকে ডেকেছি। তোমার আর তোমার দলের নামে কতই না অভিযোগ করেছি। ভাইপো, দুর্নীতি, তোলাবাজি, আমফান, উন্নয়ন না হওয়া আরও কত কিছু! শেষে গুজরাতের মতো সাম্প্রদায়িক কার্ডও খেললাম। আসানসোলে গিয়ে সাম্প্রদায়িক প্রচারের চূড়ান্ত করলাম। তার আগে অবশ্য বাংলাদেশে  মতুয়া উপসনালয়ে গিয়ে মতুয়া কার্ডও খেলে এসেছি। কিন্তু দেখছি কিছুই কাজে এল না। সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে 'অনুপ্রবেশ', 'তোষণ', 'এনআরসি' এসব বলে বাজার গরম করার চেষ্টা করলাম। এতে বরং সংখ্যালঘুরা আরও তেঁতে গিয়ে সিপিএম-কংগ্রেস-আইএসএফ কে ছেড়ে তোমার তূণমূলকেই ভোট দিল। ভোটে মুসলিমদের আসল 'প্রতিপক্ষ' বলে খাড়া করে দিলাম। কোচবিহারের শীতলকুচিতে তো চার-চারজন দরিদ্র-সংখ্যালঘু যুবককে কেন্দ্রীয় বাহিনী সিআইএসএফ গুলি মেরে হত্যা করল। আমার দলের নেতারাও আরও শীতলকুচি করব বলে হুমকি দিতে থাকল।

কিন্তু সংখ্যাগুরু বাঙালিরা এতেও সাড়া দিল না। বরং উল্টে আমাদের বিরুদ্ধে চলে গেল। শুভেন্দুও মুসলিমদের গালিগালাজ, হুমকি-ধমকি দিয়ে বিস্তর চেষ্টা করল কিন্তু বাংলার মানুষের মন জিততে পারল না। আমরা আরএসএসের 'এক দেশ, এক ভাষা' নীতিতে আস্থা রেখে কট্টর হিন্দিতে কতই না গরমাগরম ভাষণ দিলাম।মুসকিল হল, কলকাতার আশেপাশে ছাড়া এই বাঙালিগুলো হিন্দি বোঝে বলে তো মনে হয় না। আমরা কী বললাম, আর বাঙালিরা কী করল!

আমরা হেলিকপ্টারে এলাম, জনসভা করলাম, মিছিল করলাম। কোভিডের ভয় নিয়েই আরএসএস ও বিজেপির কার্যকর্তারা ঠেলে ঠেলে লোক পাঠাল। মোটা ভাই আর নাড্ডা ভাই বলল, তাও নাকি ওঁদের সবার চেয়ার ফাঁকা থাকত। আমরা কত 'জয় শ্রীরাম', 'জয় হনুমান' বললাম। তাও বাঙালি হিন্দুদের মন ভরল না। ওঁরা 'জয় কালী' আর 'জয় দুর্গা'তেই পড়ে থাকল।'ভারত মাতা কী জয়' না বলে বাঙালিরা 'জয়হিন্দ' আর 'জয়বাংলা' নিয়েই পড়ে থাকল! বুঝলাম বাঙালিদের যখন-তখন রক্ত গরম হয় না।

দিদি অ দিদি, শেষ পর্যন্ত তাই তোমারই হল জয়। এখন করছে ভয়। সামনেই আছে লোকসভা ২০২৪ (দু হাজার চব্বিশ)

)। আর শুনেছি তিনি নাকি এখন থেকেই শ্লোগান তুলছ, 'দু হাজার ২০২৪ , বিজেপি হবে ফিনিশ'।

 

 

 

 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only