সোমবার, ৭ জুন, ২০২১

পশ্চিমবঙ্গের পর উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে হারানো আমাদের একমাত্র লক্ষ্যঃ কৃষক সংগঠন

 




পুবের কলম ওয়েবডেস্কঃ রাজনীতির রঙ না লাগিয়ে এবার রাজনীতির মঞ্চে নিশানা করা হবে বিজেপিকে কারণ বিজেপির প্রাণভোমরা হল ক্ষমতা।ক্ষমতা ছাড়া এই দল অন্য  কিছু বোঝে না বলে সোমবার মন্তব্য করেছেন ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক যুদ্ধবীর সিং। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা তাদের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের কর্মপন্থা হিসেবে সেইসব রাজনৈতিক দলকে সমর্থন করবে যারা বিজেপিকে নির্বাচনে হারাতে সক্ষম। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা যুদ্ধবীর সিং বলেন জুলাই-আগস্ট মাসের শেষে বর্ষা থিতিয়ে এলেই কিষাণ ইউনিয়নের বড় বড় নেতারা উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখন্ড সফরে যাবেন যেখানে ২০২২ সালে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। চলতি বছরে আমরা বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে প্রচারের জন্য গিয়েছিলাম কিন্তু সেখানে আমাদের সফর ছিল সীমিত। সেখানে বিজেপিকে টেক্কা দিতে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো বিশাল মাপের নেত্রী যিনি বিজেপির বিরুদ্ধে একাই যথেষ্ট।

পশ্চিমবঙ্গে গোহারা হেরেছে বিজেপি। একটি রাজ্যে পরাজয়ের পর কীভাবে ছত্রভঙ্গ হয়ে গিয়েছে বিজেপি শিবির। উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যে যদি বিজেপি হারে তাহলে দিল্লি থেকেক্ষমতাচু্যত হতে দেরি হবে না নরেন্দ্র মোদির। কারণ উত্তরপ্রদেশ হল বিজেপি তথা আরএসএস-এর হিন্দুত্ব কর্মসূচির প্রয়োগশালা। কিষাণ নেতা বলেন কৃষক আন্দোলন আর তিনটি বিতর্কিত কৃষি আইন প্রত্যাহার এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্যকে আইনি গ্যারান্টি দেওয়ার দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যুদ্ধবীর সিং বলেন কৃষক আন্দোলন শুরু হয়েছিল পঞ্জাব এবং হরিয়ানা থেকে। পরে এটি ছড়িয়ে পড়ে উত্তরপ্রদেশ সহ গোবলয়ের সমস্ত রাজ্যে। পরে সারা দেশেই প্রভাব পড়ে কৃষক আন্দোলনের। তিনি জানান এখন আমরা দেশের ৬ লাখ গ্রামে যেতে প্রস্তুত যেখানে মানুষকে বোঝানো হবে কৃষক আন্দোলনের স্বরূপ এবং বিজেপি সরকারের কৃষকদের প্রতি নির্মম আচরণ। ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের নেতা বলেন দেশে করোনা সংক্রমণ থিতিয়ে এলে আমরা উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন গ্রামে সফর শুরু করব। সঙ্গে আমাদের নেতা উত্তরাখন্ডেও যাবেন। উত্তরপ্রদেশের ১৮টি ডিভিশনের মধ্যে ৪টি ডিভিশনের নেতারা ইতিমধ্যেই বৈঠক করেছেন। বাকি অন্য ডিভিশনের বৈঠকও শীঘ্রই শুরু হবে। কৃষকদের এখন একমাত্র লক্ষ্য হল পশ্চিমবঙ্গের পর উত্তরপ্রদেশ এবং অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপিকে ক্ষমতাচ্যুত করা।

সোমবার সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার সদস্যরা হরিয়ানায় ‘জেল ভরো আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল যে সব আন্দোলনরত কৃষকদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের মুক্তি দিতে হবে। সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত এই আন্দোলন চলে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার নেতা অভিমন্যু কাহার বলেন আমাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল। সরকার চাইছে আমরা দিল্লির সীমান্ত থেকে যেন সরে আসি। আমাদের হরিয়ানার হিসার এবং জিন্দে সীমাবদ্ধ করে রাখতে চায় সরকার। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা জানিয়েছে তাহানার বিধায়ক দেবেন্দ্র সিং বাবলি কৃষকদের সম্পর্কে অশ্লীল শব্দ  ব্যবহার করেছিলেন। তাই রাকেশ টিকায়েতের নেতৃত্বে এই আন্দোলন চলছে। বিধায়ক দেবেন্দ্র সিং বাবলির দাবি তিনি কৃষকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। কিষাণ মোর্চার অভিযোগ হরিয়ানা সরকার কৃষকদের প্ররোচিত করছে যাতে তারা কৃষক আন্দোলন ভেঙে দিতে পারে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only