বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১

মানুষের পাশে থাকার লক্ষ্য নিয়ে করোনা থেকে ইয়াস দুর্গতদের পাশে 'তাহেরিয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট' ও কালিকাপুর মাদ্রাসা

পুবের কলম, ওয়েবডেস্ক:  সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল ২০০০ সাল থেকেই। তার পর থেকে আর থেমে থাকেনি তাহেরিয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট  ও কালিকাপুর মাদ্রাসার প্রচেষ্টা। যৌথ উদ্যোগে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে শুরু করে স্বরোজগার যোজনা, বিনামূল্যে মেডিক্যাল ক্যাম্প করে চিকিৎসা ব্যবস্থা, সবই সমান তালে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে করে গিয়েছেন ট্রাস্টের সদস্যরা। তবে বিরুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাজ কিছুটা হলেও থমকে গেছে। কিন্তু থেমে থাকেনি মানুষের পাশে থাকার উদ্যোগ। বর্তমানে সমাজ জীবনে ধেয়ে আসা মারণভাইরাসের হাত থেকে মানুষকে সুস্থ করে তুলতে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকায় কাজ করে চলেছেন ট্রাস্ট ও কালিকাপুর মাদ্রাসার সদস্যরা।
তাহেরিয়া ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট্রের সদস্য, মিল্লাত গার্লস হাইস্কুলের সহ সম্পাদক আমীর হাসান কাসেমী জানালেন, যৌথ উদ্যোগে সমাজসেবামূলক কাজ গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হয়। প্রধান উদ্যোক্তাদের মধ্যে রয়েছেন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুস সামাদ মাযাহিরি, সম্পাদক আবু সালেহ কাসেমী প্রমুখ। 

বর্তমান সময় করোনা আক্রান্তদের পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি ইয়াস বিপর্যস্ত এলাকায় ত্রাণের কাজও চলছে সুন্দরবনের প্রত্যন্ত এলাকা ধামাখালি, ঝুপখালির দিকে। খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে মশারিও দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই দুর্গত এলাকায় ৫০০ পরিবারকে ত্রাণ দেওয়া হয়েছে। ত্রাণের কাজ চলবে। পাশাপাশি ৭০০ মানুষকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক এলাকায় মেডিক্যাল ক্যাম্প করা হচ্ছে। ওষুধ থেকে স্বাস্থ্যপরীক্ষা সব বিনামূল্যে দেওয়া হয়। করোনায় যাদের মধ্যে তেমন উপসর্গ নেই, তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিষেবা দেওয়ার কাজ চলছে। 

তিনি আরও বলেন, তাহেরিয়া হাসপাতালের এক পাশে কিছু শয্যা নিয়ে,  আমরা কোভিড রোগীদের পরিষেবা দিচ্ছি। বাড়িতেও অক্সিজেন পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। গত বছর করোনার সময়েও গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষের মধ্যেই ত্রাণ দেওয়া হয়েছে।

আমীর হাসান কাসেমীর কথায়, সমাজের দুঃস্থ অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে এই কাজ শুরু করি। স্বরোজগার প্রকল্প, বিধবা ভাতা দেওয়া হয়ে থাকে। স্বরোজগার প্রকল্পের অধীনে মহিলাদের সেলাই মেশিন, ছোট দোকান তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৩৫ হাজার টাকার চেক ৪০০ জন মহিলা পেয়েছেন। ২০০ মহিলাকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়েছে। পুরুষদের স্বরোজগার যোজনায় ২৭৬ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ যাতে পরিস্রুত পানীয় জল পায়, তার জন্য গ্রামে গ্রামে টিউবওয়েল বসানোর কাজ করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ৮০ হাজার টিউবওয়েল বসানো হয়ে গেছে। এছাড়া প্রতি বছরই প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলিতে মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়ে থাকে। বিনামূল্যে ছানি অস্ত্রোপচার করা হয়। গত তিন বছর ধরে চলছে এই কাজ। ২৩০০ জনের ছানি অপারেশন হয়ে গেছে। তবে করোনার কারণে আপাতত বন্ধ আছে এই কাজ, তবে শীঘ্রই শুরু হবে আশা রাখি। 

শিক্ষার বিস্তারে সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের জন্য হাড়োয়ায় তৈরি করা হয়েছে মিল্লাত গার্লস স্কুল। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৫০০'র বেশি ছাত্রী এখানে বেশিরভাগটাই অবৈতনিকভাবে পড়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। ছেলেদের জন্যও দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত স্কুল তৈরি করা হয়েছে। তবে করোনার কারণে উদ্বোধন করা হয়নি।
আমীর হাসান কাসেমী আরও জানান, গোটা পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ২০০ জন দক্ষ কর্মী খুব নিষ্ঠা ও দায়িত্বের সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। তবে কোনও সরকারি সহযোগিতা নয়। সমাজের ধনী ব্যক্তিরা অর্থনৈতিকভাবে এই ট্রাস্টের পাশে আছে। হাসপাতালের চিকিৎসকেরা হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে খুব স্বল্পমূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে থাকেন। আগামিদিনেও একইভাবে মানুষের পাশে থাকতে চাই।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

ভিন্ন স্বাদের খবর

...
আপনার ক্যাটাগরি নির্বাচন করুন

Whatsapp Button works on Mobile Device only